জীবনগুলো এত অসহায় কেন? কিছু মানুষের জীবন খুবই অসহায় বাইরে বের হলে দেখা যায়। তাদের চাওয়া-পাওয়ার লিস্ট এত বড় থাকে না। এমনকি থাকে না আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মতো শখও তেমন একটা নেই। জীবনের প্রতি তাদের একটাই চাওয়া তা হলো জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকা, জয়ী হওয়ার মতো একটু বড় তাদের কোনো শখ নেই। তারা সংগ্রামের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে পারলেই মহা খুঁশি।
ছেলেটার বয়স তেমন বেশি একটা হবে না, বয়সটা আমার বয়সের কাছাকাছিই, আমার থেকে কম হবে অবশ্য। কিন্তু দায়িত্ব দেখে আমি অবাক। এই ভর দুপুরে কাঠফাটা রোদে রোজা রেখে নামাজের সময় যে একটুর জন্য বাইরে বের হই তাতেই আমার শরীরে ক্লান্ত ভাব চলে আসে। আর কিছু কিছু শ্রেণির মানুষের জীবনের দিকে তাকালে আমি অবাক হয়ে যাই। তারা বিরামহীনভাবে ছুটে চলছে, তাদের এই ছুটে চলা কোনো আহামরি শখের পেছনে না। তাদের ছুটে চলার পেছনে একটাই উদ্দেশ্য তা হলো জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকা।
ছেলেটাকে দেখলাম এক কেরেট পানির বোতল এবং এক কেরেট জুসের বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ভাবতে লাগলাম হয়ত উনি একজন ব্যবসায়ী তার দোকানের জন্য হয়ত বিক্রির জন্য কিনেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখলাম না। হঠাৎ এক চলন্ত বাসের জানালা থেকে একটি হাত বাইরে বের হলো এবং সে হাতে বিশ টাকা। আর তা দেখে ছেলেটি দৌড় দিল বাসটিকে ধরতে এবং জানালা দিয়ে বাইরে বের হওয়া হাতটিতে তার পানি কেস থেকে একটি পানির বোতল দিল এবং সে ২০ টাকা হাতে পেয়ে তার মুখে মুক্তোর মালার মতো হাসি ঝলমল করতে লাগল।
আমাদের শখগুলোর লিস্ট অনেক বড় হয়ে থাকে তাই না? হ্যাঁ, তাই আমাদের শখগুলো অনেক বড় কিন্তু আমাদের কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়ে যে আমদের তেমন বড় শখ নাই বা বড় কোনো আবদার আমরা আমাদের মধ্যে লালন করি না। কিন্তু এটা পুরোপুরি ভুল। আমাদের শখ হয়ে থাকে কোনো একটা বাইক কিনা এবং তা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, আবার একেকজনের শখ একেক ধরনের এবং সেসব শখ পূরণ করতে তাদের ভারী মূল্য দিতে হয়। কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই মনে হয় যে আমরা যে শখ মনের মধ্যে লালন করি তা তেমন বড় কিছু না। কিন্তু সে শখ পুরণ অল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করতে না পারলে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি।
এইতো কিছুদিন আগে একভদ্রলোকের জানাযায় গিয়েছিলাম তার ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। বাবার কাছে তার একটা শখের আবদার করেছিলো তা হলো তাকে বাইক কিনে দিতে। প্রথম অবস্থায় তার বাবা রাজি হয়নি তাকে বাইক কিনে দিতে। কারণ ছেলে তার একটাই এবং বয়সে এখনো পরিপক্কতা আসে নি। তাই তিনি বললেন, " আর কিছু সময় যাক আরেকটু বড় হলে বাবা তোমায় কিনে দেব। " কিন্তু না ছেলে ত মানবে না, আর একটু সময়ের জন্যও ধৈর্য্য ধরবে না। ঘরের মধ্যে নানা প্রকার অত্যাচার করে অবশেষে তার বাবা অনেক কষ্ট করে টাকা যোগার করে তাকে বাইক কিনে দিতে বাধ্য হয়। আর এর কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি মারা যান।
পৃথিবীতে একেক জনের কাছে জীবনের সংঙ্গা একেক রকমের কারো কাছে জীবন মানে হাজার শখের মাঝে বেঁচে থেকে সেসব শখ পূরণ করা আর কারো কারো আছে জীবন মানে যুদ্ধ বা সংগ্রাম আর সে সংগ্রামে কোনোভাবে বেঁচে থাকা। জয়ী হওয়া নয়। প্রথম ঘটনাটি আমার চোখ খুলে দিয়েছে, নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে।