ছেলেটি খুবই ঘনিষ্ঠ একজন আমার, বেস্ট ফেন্ড বলে সম্মোধন করতে গেলেও মনের অন্তরাল থেকে একটি শব্দের প্রতিধ্বনি অনুভব করি, তা হলো হয়তো কিছু একটা কম বলে ফেললাম। তার সাথে আমার সম্পর্কটা সঠিকভাবে বর্ণনা করতে গেলে বা সম্মোধন করার জন্য সঠিক শব্দের সন্ধানে নামলে যেন আমি যথাযথ শব্দটাই খুজে পাই না। যাইহোক সেজন্য সম্মোধন করতে গিয়ে তা নিয়ে বৃথা চেষ্টা আর করতে চাই না।
কিভাবে যেন বন্ধুত্বটা তার সাথে আমার এতো গভীর হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না। কারন সে খুবই অন্তর্মূখী প্রকৃতির ছেলে ছিলো স্কুল জীবনের প্রথমদিন থেকেই আর এস্বভাব এখনো তার মধ্যে বিদ্যমান। সময়ের সাথে সাথে মানুষের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে, আমি আমার বন্ধুমহলের মধ্যে অন্য বন্ধুদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার মধ্যে ঐস্বভাবের কোনো পরিবর্তন আসতে দেখলাম না আজ অবধি। আর এজন্যই আমি মাঝে মাঝে অবাক হই তার সাথে আমার এতভালো বন্ধুত্ব কিভাবে হলো।
যদিও বন্ধুত্বের শুরুটা ঘটেছিলো প্রাইমারি স্কুল জীবনেই, একটি ছেলে অনেক গোছানো এবং পরিপাটি অবস্থায় ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে ছিল। আমার সেদিন একটু দেরি হয়ে গিয়েছিলো স্কুলে আসে, যদিও সাধারণ আমি সময়মতো স্কুলে আসতাম। কি আর হবে, স্যার রোল কল করতেছিলো সে মুহূর্তে আমি স্যারের অনুমতি নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করলাম, সাধারণ আমি প্রথম সারির বেন্ধিতে বসার অভ্যাস, কিন্তু কোনো জায়গা না পেয়ে, অন্য কোনো উপায়ান্তর খুজে না পেয়ে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সারি সারি বেঞ্চির মাঝ ধরে হাটতে লাগলাম শেষের দিকে। একেবারে শেষে গিয়ে দেখলাম, শেষের বেঞ্চিটিতে সে ছেলেটি একা বসা আমি আর কি করবো প্রথমবারের মতো শেষ বেঞ্চে বসার অভিজ্ঞতা নিলাম। মন্দ ছিলো না অভিজ্ঞতাটা।
আমি তার সাথে মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলতে গেলাম, আমার নামটা বলে বন্ধুত্বের জন্য ডান হাতটাও বাড়িয়ে দেই, কিন্তু তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পেলাম না। আমি এসব বাদ দিয়ে, শ্রেণি পাঠে মনোযোগ দিতে লাগলাম। স্যার বোর্ডের মধ্যে একটি অংক করতে দিলে সবাই যার যার খাতায় সে অংকের সমাধান বের করার চেষ্টা শুরু করে দিলো, স্যার বলেছিলো প্রথম তিনজনের খাতা দেখা হবে যারা আগে শেষ করবে।
আমার আর তার প্রায় একই সাথে একই সময়ে অংক করা শেষ হয়ে গেলো এবং খাতা দেখানোর জন্য আমরা একসাথে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম। তারাতাড়ি করে দাড়াতে গিয়ে বেন্ধে ধাক্কা লেগে বেন্ধি হতে তার বলপেনটি নিচে পড়ে যায় আর তার বলপেনটি তুলতে আমি ঝুকে যাই, আর এ সুযোগে সে প্রথমে খাতাটি দেখিয়ে ফেলে। সে কি যে খুশি হয়েছিলো সেদিন প্রথমে খাতাটি দেখাতে পেরে। এরপর, ধন্যবাদ জানিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে, ববন্ধুত্বের জন্য তার হাতটি বাড়িয়ে দিলো। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্বের সৃষ্টি।
আজ বহু বছর, এবন্ধুত্ব এখনো টিকে আছে, বন্ধু বলতে তার শুধু আমিই আর কেউ নেই, খুবই অদ্ভুত শুনালেও এটাই সত্য। তার প্রতিটা সমস্যা সে নির্দ্বিধায় আমার সাথে বলতে পারে, অপরিমাণ বিশ্বাস আমি অর্জন করেছি তার, এ বিশ্বাস এক কিংবা দু বছরের নয় এ বিশ্বাস বহু বছরের, যেভাবে বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু জলে শুণ্য পুকুর ভরাট হয়ে যায়, সেভাবে আমি তার কাছে বিশ্বস্ততার একজন মানুষ।
সত্য বলতে তার মতো ছেলে বর্তমান সমাজে আমি দেখি নি, মেধায়, অর্থে-সম্পদে, ভদ্রতায় একজন অন্যরকম এক ছেলে সে। তার একটি মেয়েকে ভালো লাগে আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে, সে কখনো মেয়ের সাথে আগে কথা বলে নি। একটি মেয়েকেই তার পছন্দ হয় বা এক কথায় তার চোখে মনে দুজায়গাই ধরেছে। অনেক চেষ্টার পর কেন যে কিছুই হইচ্ছিলো না, কিন্তু সে হার না মেনে, নিরন্তরভাবে চেষ্টা করেই যেতে থাকে। মেয়েটি আগেই বলেছিলো তার বাসা থেকে মেনে নিবে না। কিন্তু সে চেষ্টা চালিয়ে যেতেই থাকে।
গতকাল রাত প্রায় ১ টা বাজে সেসময় সেবন্ধুটি আমায় কল দিয়ে বলে বের হ ত একটু। আমি বললাম "এখন?" পরে বলল "হ্যাঁ, এখনই তারাতাড়ি।" আমি বের হয়ে গেলাম। মাঝরাতে রাস্তায় পুলিশ টহল দিচ্ছে, সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতেছিলো কার সাথে যেন, কার কথা এতো মনোযোগ দিয়ে শুনতেছে। হঠাৎ কথা শুনা বাদ দিয়ে মোবাইল ফোনটি এক আহারে মেইন রোডে ভেঙে ফেললো, শার্টের সব বোতাম ছিড়ে, পাগলের মতো হয়ে গেলো।
পুলিশ কাছে এসে জিজ্ঞাস করলো আমায় "ওর কি হয়েছে?" পরে জানতে পারলাম ব্রেক-আপ। মেয়ে ফেমিলিতে মেয়ের রিলেশনের কথা বলার পর তা মেনে নেয় নি। তাই মেয়েটি ব্রেক-আপ করে।