মানুষ আবার শয়তান হয় কিভাবে? বা মানুষের ভেতরই বা শয়তান থাকে কিভাবে? ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত না? মানুষ আমরা নিয়ম উদ্ভব করি, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নিয়ম আর এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আমাদের নামের সেই শয়তানের নাম জুড়ে দিয়ে তুলনা শুরু করে দেওয়া হয়। মানুষ যদি স্বাধীন সত্ত্বা হতো, যা খুঁশি তাই করতে পারত, তাহলে সে আত্মতৃপ্তি পেত, আমি মানি যে এতে বেশি বিশৃৃ্ঙ্খলতা হতো, কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তার আত্মতৃপ্তিই কি বড় প্রাপ্তির জায়গা না?
শৈশবের দিনগুলো থেকেই আমাদের বাবা-মা আমাদের নানা প্রকার নিয়মের সাথে পরিচয় করিয়ে থাকেন। এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না। আমাদের ইচ্ছা থাকা না স্বত্ত্বেও আমাদের বাধ্য হয়ে সেসব নিয়ম মানতে হতো। কারন না মানলে ত শয়তানের সাথে তুলনা করা হবে, দুষ্ট বলা হবে। আমি বিশ্বাস করি আমার সবার ভেতরই একটা বাচ্চা সুলভ ইচ্ছার অবস্থান করে এবং বয়স বাড়ান সাথে সাথে যে সেই বাচ্চা সুলভ আচরণগুলো যে হারিয়ে যায় তা একবারে বলা ঠিক হবে না। সেগুলো আমাদের মাঝেই থাকে কিন্তু বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজালে আমরা সচরাচর তা উপস্থাপন করি না।
শৈশবে আগুনের প্রতি ছিল আমার তীব্র আকর্ষণ। আগুন দেখলেই নিজেকে কেন জানি থামাতে পারতাম না। রাতে বেশিরভাগ সময় লোডসেডিং হলে যখন মোমবাতি জ্বালানো হতো তখন তা আমি পড়ার টেবিলে বসে মোমবাতির আগুনের শিখার উপর দিয়ে আমার আঙ্গুল নিতাম। শীতের সকালে বন্ধুদের সাথে মিলে খড়কুটো যোগার করে আগুন ধরাতাম আর সবাই আগুন থেকে একটু দূরে থাকলেও, আমি তখন কোনো একটা লাঠি খুঁজে তা দিয়ে আগুনকে কিভাবে আরও ভালো করে জ্বালানো যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম।
আমার মা বহুবার না করার পরও, আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এসব করতাম। একদিন গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গেলে মা মাটির চুলোয় রান্না করতেছিল, আমিও তা দেখে মার সাথে গিয়ে কাঠের পিড়িতে বসলাম। মা আমাকে দেখেই বলল, "কি, আগুন দেখে এখানে এসে বসলা নাকি?" জবাবে আমি আর কিছু বলি নাই মাকে। কিন্তু মা বুঝে গেছে, আমি কিছু না বললেও। তাই আমাকে আগে থেকে সাবধান করে দিলো আগুন দিয়ে যেন খেলা না করি।
হঠাৎ মা কাজে ব্যস্ত ছিল। আর আমি কোন এক সুযোগে চুলো থেকে জ্বলন্ত একটি পাটকাঠি বের করে নিয়ে আগুন নিয়ে খেলতে থাকি। হঠাৎ উপরের দিকে আমার চোখ পড়তেই দেখলাম বাঁশের তক্তার উপর পাটেরআঁটির বোঝা আর সেখানে পাটের অসংখ্য আঁশ মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে। তা দেখে আমি জ্বলন্ত পাটকাঠিটি দিয়ে একটি আঁশের মধ্যে আগুন লাগাতেই তা নিমিষেই নাই হয়ে গেল। আর আমি অবাক হয়ে গেলাম! কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো পাটের আঁটিতে আগুন ধরে গেল। অনেকে মিলে বহু কষ্টে সে আগুন নেভাল যদিও টিনেরচালের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গিয়েছিল।