রোজকার রুটিন এক নিয়ম মেনে চলছে। আর চলছেও অবিরত...! সেই ভোরবেলায় উঠে পড়তে বসা।এর মাঝে ঘুমের রেশ কাটাতে, চুলায় আগুন জ্বালিয়ে চা বানানোর প্রস্তুতি। লেবু চা আর আদা চা মধ্যে এজন্য বেশ লড়াই হয়।কাকে বেছে নিবে মন?বাসায় লেবু না থাকলে, অনায়সেই আদা চায়েরই জয় হয়। চা বানাতে বানাতে সারাদিনে কি কি করতে হবে, তা মনে মনে একবার বিড় করি। মাঝে মাঝেই আনমনা লাগে, কি এক জীবন! ছোটবেলাটাই তো বেশ ছিলো। হেসে, খেলে, পরীক্ষার পড়া পড়ে, দিন, রাত কিভাবে কেটে যেতো । তবে তখন আরেকটি বিষয়ের প্রতি আমার খুব আগ্রহ ছিলো।সেটা হলো ছবি আঁকা।
প্রায় সুযোগ পেলেই হলো! পেন্সিল আর রঙের বাক্স নিয়ে বসে পড়তাম। অনেক কিছুই আকতাম।গাছ আকঁতাম, পাখি আঁকতাম!এর মধ্যে ঘড়বাড়ি নিজেই আঁকতে পারতাম। আমার আগ্রহ দেখে আম্মু আমাকে একটা ভাইয়ার কাছে ছবি আকা শেখার জন্য ভর্তি করে দিলেন। যাতে আমার আরো অগ্রগতি হয়।আস্তে আস্তে পারতেও লাগলাম।আমাদের শ্রেণিতে তখনকার সময়কালে চারুকলা একটি বিষয় ছিলো। সেখানেও সিলেবাস ছিলো। তার উপর আবার পরীক্ষা ও নিতো।তো একবার হয়েছে কি,কওন এক সাময়িকের সিলেবাসে লেখা আছে গরু, চাকা, গ্রামের দৃশ্য আর আম আঁকতে হবে।এদের মধ্যে যাকে দেখে আমি চিন্তিত হলাম, সে হলো গরু!আমি তো আগে কখনো গরু আঁকি নি!এটা কীভাবে আকবো?আমার ওই বয়সে এটা একটা বিশাল চিন্তার কারন ছিলো!আর আমি যথেষ্ট চিন্তিত ও ছিলাম!
ওহ এর আগে বলে রাখা ভালো যে, আমি যেই ভাইয়া কাছে ছবি আঁকা শিখতাম, সে অন্য ধর্মাবলি ছিলেন। মানে তিনি হিন্দু ছিলেন!কিন্তু চমৎকার মনের মানুষ ছিলেন।পরের দিন আম্মুকে নিয়ে গেলাম যথারীতি। এবং সিলেবাসের পাঠ্যসূচি দেখালাম!দেখে বললেন যে, হয়ে যাবে শেষ!আমি যেন মনোযোগী থাকি সব সময়।তারপর একে একে আমার আঁকিবুকি শুরু! সুন্দর সুন্দর গ্রামের দৃশ্য একে, রঙের ফুলঝুরি শুরু করে রঙিন করতে লাগলাম।আর একটু পর পর মনে করিয়ে দিতাম যে, আমার এখনো গরু আঁকা শিখানো হয়নি এবং তিনি আশ্বাস দিয়ে আবার অন্যকিছু শিখাতেন....! এভাবে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষার সময় চলে আসলো আর আমি গরু আঁকতে পারি না। অবশেষে এই অভিমানে সেই ভাইয়ার কাছে আর যাওয়া হয়নি,পরে অবশ্য জানতে পারি,হয়তো তার নিজস্ব ধর্মীয় কোন কারনে সে একে দেয়নি। এভাবেই আমার আঁকিবুকির শুরু 😇
এখন, আমার সেই বয়সের একটি মেয়ের প্রাইভেট টিচার আমি!সপ্তাহের বেশ কয়েকটি দিন আমি পড়াই ওকে।একদিন একটা ছবি এগিয়ে দিয়ে বলে যে, সে একটা কার্টুন চরিত্র একেছে।দেখে আমার, সেই পুরোনো আমিকে খুঁজে পেলাম।মনে হলো আমি একে ফেলি! যেই ভাব সেই কাজ।শুরু করলাম আকা।তারপর ছবিকে রঙিন করা শুরু করলাম।পিচ্চি তো মহা খুশি! বার বার বলতেছিলো ম্যামর ছবিই বেশিই সুন্দর। আসলে তেমন সুন্দর হয়নি! কিন্তু যা হয়েছে, সেটা হলো,ছোটবেলার সুন্দর মুহূর্তগুলো কিছু সময়ের জন্য হলেও ফিরে এসেছিল। সেটাও কম কিসের? রোবটময় জীবনের এক চিলতে প্রশান্তি 🎀