সত্যি কথা বলতে আয়নাবাজির পর প্রায় অনেকটা দিন পরে আবার গেলাম বাংলা মুভি দেখতে মুভি থিয়েটারে।বেশ কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করেও টিকিট পাওয়া যাচ্ছিলো না।বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিন্তু অত্যন্ত আনন্দেরও বটে।বাংলা সিনেমায় হারানো সেই অধ্যায় আবার ফিরে এসেছে।একই সাথে দিন দ্যা ডে,পরাণ,হাওয়া তিন তিনটি মুভি।সবাই আগ্রহের সাথে আসছে।শুধু যে একা আসছে তা কিন্তু নয়! সবাই স্বপরিবারের অথবা কাছের সবাইকে নিয়ে এই সিনেমাগুলো দেখছে।প্রেক্ষাগৃহে ঢোকার পূর্বে অনেক বড় একটি লম্বা লাইন পার হতে হয়েছে।বাবা- মা তাদের সন্তাদের নিয়ে আসছে,নয়তো কাজিনদের বড় একটা টিম,আবার মধ্যবয়সী কিছু আন্টিরা এসেছে তাদের বন্ধুত্বকে পুর্নজীবত করতে। ভালোই উপভোগ করছিলাম পরিবেশটা।এভাবে দেখতে দেখতে আমাদের লাইনটা ছোট হয়ে এলো,আমরাও ঢুকে পরলাম সিনেমা দেখতে.... শুরু হলো হাওয়া 🍃
মুভির নামঃ হাওয়া।
পরিচালকঃ মেজবাউর রহমান সুমন।
দেশঃ বাংলাদেশ।
অভিনয়ঃ চঞ্চল চৌধুরী,শরিফুল রাজ, নাজিফা তুষি,নাসির উদ্দিন খান,সোহেল মন্ডল, সুমন আনোয়ার, মাহমুদ আলম, রিজভী রিজু প্রমুখ।
ভাষাঃ বাংলা।
ধরনঃগ্রামীন,অ্যাকশন,আবেগ।
পার্সোনাল রেটিং :৮.৫/১০
রান টাইম :১৩০ মিনিট।
শুরুটা একদম ব্যাতিক্রম!অন্যান্য মুভির মতোন না।জেলেদের জীবন দিয়ে মুভির শুরু।একদল জেলে মহাজনের লাখ টাকার জাল আর নৌকা নিয়ে মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। তাদের মধ্যে প্রধান মাঝি হলো চাঁন মিয়া।তার মাছ ধরা অভিজ্ঞতা এতটাই যে, সে নদীর কোথায় মাছ পাওয়া যাবে সেটা দেখেই বলে দিতে পারে।আর এই চাঁন মিয়ার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী।একজন অভিনেতা যে কিভাবে চরিত্রের সাথে বদলে যেতে পারে তার জলজ্যান্ত উদাহরণ নিঃসন্দেহে তিনিই!তবে আরেকটি চরিত্র আমার কাছে বেশ আশ্চর্যজনক লেগেছে!সেটা হলো কুন্তি চরিত্রে নাজিফা তুষি!তার মতো এত স্মার্ট একটা মেয়ে কীভাবে যে বেদের মেয়ের মতো চরিত্রকে সাবলীলভাবে করেছে তাই আমাকে অবাক করেছে বার বার!চোখ বা মুখের এক্সপ্রেশন এতটাই পারফেক্ট ছিলো যে একটা সময় পর কুন্তিকেই ভয় লাগা শুরু করবে।মনে হবে কখন কি জানি কি করবে!
এবার মুল কাহিনীতে আসা যাক!যেহেতু এটা আমাদের দেশের সিনেমা তাই বেশী স্পয়লার দিবো না যেন কেউ এই সিনেমাটি দেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।পরের কাহিনী হলো জেলেদের জালে এক মেয়ের লাশ উঠে আসে যার মাধ্যমে কাহিনীর শুরু!পরে দেখা যায় মেয়েটি বেচে আছে!যেহেতু জেলেদের নৌকা তাই সেখানে মেয়ে থাকা সর্ম্পূন নিষেধ। তা সত্ত্বেও তারা তাকে নিয়েই মাছ ধরতে যায় আর এক একেক ঘটনার শুরু হয়।কেউ জানে না মেয়েটা কে?!তারপরও সবাই এই মেয়েকে পেয়ে কিছুটা খুশি হয়।সবার ভিতরেই কিছু না কিছু পরিবর্তন আসে।তবে তার এই নৌকায় আসাটা নিছকই কি কাকতালীয়?!নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গল্প আছে?তার জন্য সিনেমাটা যে অবশ্যই দেখতে হবে !!
তবে সিনেমার দ্বিতীয় অংশটা,প্রথম অংশ থেকে বেশী ভালো ছিলো।সবচেয়ে ভাইরাল হওয়া গান দিয়ে শুরু হয় আর শেষ হয় অদ্ভুত এক বিষাদ দিয়ে! তাছাড়া পুরো সিনেমায় নাসির উদ্দিন খান বেশ জমিয়ে রেখেছিলো।স্ক্রিনে ওনার সময়টা যথেষ্ট বিনোদন দিয়েছে।রাজ,সুমন আনোয়ার,সোহেল মন্ডল,রিজভী রিজু সবাই বেশ ভালো করেছে।বিশেষ করে রিজভী রিজু শেষের ক্লাইমেক্সটা অত্যন্ত সুন্দর ছিলো।আসলে এখানে যারা অভিনয় করেছে তারা আসলে জাত অভিনেতা বলা চলে।কোন কমতি ছিলো না কারো।অবশেষে, দেশের সিনেমা যেহেতু অবশ্যই সবাইকে দেখার জন্য অনুরোধ করবো 🙂