মুভির নামঃ রেড নোটিশ
পরিচালকঃ রসন মার্শাল থার্বার
মুভির ধরণঃঅ্যাকশন,কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার
অভিনয়ঃপ্রধান চরিত্রে ডোয়াইন জনসন, রায়ান রেনল্ডস এবং গ্যাল গ্যাডট।এই তিন ত্রয়ীর সাথে আরও আছে ক্রিস ডায়মান্টোপোলোস, রিতু আর্য এবং আরো অনেকে।
ভাষাঃ ইংরেজি
নিজস্ব রেটিংঃ 7.5/১০
রান টাইমঃ ১১৮ মিনিট
একটি ইংরেজি মুভি যেভাবে ডিজাইন করা হয় বা হয়ে থাকে "রেড নোটিশ" তার ভিন্ন কিছু নয়!এই মুভিতে সেরকম সবকিছুই আছে!সিনেমা শুরু হয় এক পুরাণের কাহিনী বর্নণা মাধ্যমে। মুলত মিসরের রানী ক্লিওপেট্রার তিনটি সোনার ডিমের গল্প দিয়ে শুরু হয়।যা সে গ্রিসের সেনাপতির কাছ তাদের বিয়েতে উপহার হিসেবে পেয়েছিল এবং এই ডিমের জন্যই তাদের হত্যা করা হয়।তার মৃত্যুর পর সবাই ভেবেছিল তা উধাও হয়ে গিয়েছিল কিংবা পুরোটাই গুজব কিন্তু না! রানী ক্লিওপেট্রার সেই তিনটি সোনার ডিমের মধ্যে দুইটি তো খুঁজে পাওয়া যায়।ব্যাখাটা এমন যে,বর্তমানে ডিমগুলির মধ্যে একটি ইতালির রোমে একটি যাদুঘরে রয়েছে এবং অন্যটি প্রভাবশালী মাফিয়া ও ভ্যালেন্সিয়ার অস্ত্র ব্যবসায়ী সোট্টো ভয়েস (ক্রিস ডায়মান্টোপোলোস) কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়, যা বিশেষ সুরাক্ষা বলয়ের মাধ্যমে তার হেফাজতে আছে।আর সময়ের বালিতে হারিয়ে যায় তৃতীয় ডিম। যা এখনো কোথায় আছে তা পৃথিবীর মানুষ জানে না!
আসলে রেড নোটিশ মুভিটির কাহিনী এমন কোনো আহামরি কিছু না।তবে তিন ত্রয়ী যেখানে আছে,সেই মুভি তো অবশ্যই আর্কষনীয় হবে।ডোয়াইন জনসন, রায়ান রেনল্ডস এবং গ্যাল গ্যাডট এর অসাধারণ অভিনয় ও অ্যাকশনের জন্যই মুলত মুভিটি ভালো লেগেছে।
মুভির শুরুতে দেখা যায় কেউ একজন ক্লিওপেট্রার সেই ডিম এর নকল করে বানাচ্ছে।এর কারন হলো এক শিল্পপতি বাবা তার মেয়ের বিবাহের উপহার হিসাবে ক্লিওপেট্রার তিনটি ডিম দিতে চান, যা তিনি উচ্চমূল্যে খরিদ করবেন।এখানে রায়ান থাকে সবচেয়ে বড় শিল্প চোরদের মধ্যে একজন।সে ডিমগুলো চুরি করার জন্য নকল ডিম তৈরী করে।এখানে রায়ান অন্যতম শত্রু হিসেবে দেখা যায় দ্যা বিশপকে।জনসনকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দেখা যায়,তার সহযোগিতার কারণেই রায়ানকে ধরতে পারে পুলিশ।কিন্তু রায়ান কাছ থেকে নেয়া সেই সোনার ডিম নিমিষেই পুলিশ কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে বিশপ চুরি করে যার ফলাফলে জনসনকে রায়ানের সাথে জেল এ যেতে হয়।এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যায়।রায়ান তীব্র টান টান উত্তেজনার মুহুর্তে দম ফাটানো হাসির কৌতুকরা বেশ মজার ছিলো।
রায়ান সাবলীল ভাবে চুরির নকশা করে এবং তা বাস্তবায়ন ও করে।জনসন শক্তিশালী এবং জেন্টেল ছিলো বরাবর কিন্তু রায়ানকে বারবার সাহায্য করাটা প্রথম থেকেই আমার কিছুটা খটকাই লেগেছিলো। আর গ্যাডটের অভিনয় এক কথায় অসাধারণ। তার করা অ্যাকশন অংশগুলো আমি মুগ্ধ হয়ে দেখেছি।তবে মুভির সবচেয়ে বেস্ট পার্ট ছিলো সোট্টো ভয়েসের বাসভবন থেকে ক্লিওপেট্রার দ্বিতীয় ডিমটা চুরি করাটা।রায়ান আর জনসনের পারফেক্ট টাইমিং এবং পুরো কৌশলটা টান টান উত্তেজনার সৃষ্টি করে।এছাড়াও মাশকারেড বল,একটি ষাঁড়ের সাথে রায়ান ও জনসনের লড়াই,তৃতীয় ডিম খুঁজে বের করা এবং সুরক্ষিত ভল্ট ভেঙে প্রবেশ করা অংশগুলি।তবে পুরো মুভির মজা হলো শেষের টুইষ্ট এ।
রায়ানের সামনে আসে যখন এই জনসনই বিশপের অন্যতম সদস্য। অবশেষে এই তিন ত্রয়ী এক হয়ে নতুন আরেক মিশনে যাত্রা করে এভাবে কাহিনি এগিয়ে যায় তার ছন্দে!অ্যাকশন লাভারদের জন্য এটি হতে অন্যতম পছন্দের মুভি :)