প্রিয় বন্ধুরা আশা করি সবাই যে যার অবস্থানে ভালো আছো। তোমাদের সাথে আমার ছোট্ট একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের গল্প শেয়ার করছি ধারাবাহিকভাবে। আসলে বন্ধুরা স্বপ্ন তা যত ছোটই হোক না কেন তা যখন বাস্তবে পরিণত করা যায় তখন অন্যরকম এক ভালো লাগা অনুভূতি কাজ করে। কারন পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা শুধু স্বপ্ন দেখেই যায় তা কখনো বাস্তবায়ন করতে পারে না। এটা সত্য যে স্বপ্ন তা যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন তাকে বাস্তবে পরিণত করতে গেলে অনেক বাধা- সমস্যা আসবে।সমস্ত বাধা পেরিয়ে কেউ সফল হয় কেউ হয়না।তবে স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করতে পারা ও কম নয়। আমি সফল হব নাকি ব্যর্থ হব সেটা সময়ই বলে দেবে তবে আমি শুরু করতে পেরেছি সেটাই আমার সার্থকতা।
গত পর্বে বলেছিলাম শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি অন্য কিছু একটা করার চিন্তা সব সময় কাজ করতো, সেই চিন্তা থেকেই বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতি আগ্রহী হই। আমি ও আমার একজন সহকর্মী মিলে আমরা একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য একটি সিমেন্ট ট্যাংক সেটআপ করে তাতে মাছ চাষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
আমাদের পরিকল্পনা মতোই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গত পর্বে বলেছিলাম ট্যাংক নির্মাণ শুরু করা হয়েছে এবং সবকিছু ঠিকমতোই এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ট্যাংক তৈরির কাজ বেশ দূর এগিয়ে গেছে। যতই কাজ এগিয়ে চলছে ততোই ভীষণ ভালো লাগা একটা অনুভূতি কাজ করছে। কাজ শুরু করার দ্বিতীয় দিন এ এসে বেশ দূর এগিয়ে গেছে। প্রথমে দশ ফুট চওড়া বিশিষ্ট দেড় ফুট মাটির নিচে বেস হিসেবে ধরে উপরে প্রায় চার ফুট ইটের গাথুনির সাহায্যে গোলাকার সেপের একটি ট্যাংক তৈরীর কাজ চলছে।
আমাদের যেহেতু দশ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতার একটি ট্যাংক তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে তাই আমরা তেরো ফুট ব্যাস নিয়ে গোলাকার সাইজের ট্যাংক নির্মাণ করব। মূল ট্যাংক এর উচ্চতা চার ফুট হলেও আমরা তিন ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পানি দ্বারা পরিপূর্ণ করে মাছ চাষ শুরু করব। দ্বিতীয় দিনে এসে আমাদের ট্যাংক চার ফুট উচ্চতার ইটের গাথুনির কাজ প্রায় শেষ। দেখতে বেশ ভালই লাগছে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো ট্যাংকের সেন্টার বা কেন্দ্র থেকে একটি পাইপের সাহায্যে পানি ড্রেন আউট করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে যাতে পানি বের করে দেওয়া যায়।