যখনই আমি সুন্দরী কোন মেয়েকে দেখি। আমার মনের মধ্যে জাগ্রত হয়, সে হয়তো অনেক আশ্চর্যজনক ভাবে জীবন যাপন করছে। আমার মত হয়তো অনেকেই এটা মনে করে ।কারণ সৌন্দর্যে সবকিছু বলে বিশ্বাস করা এটা আমাদের স্বভাব। অনেকেই রয়েছে যারা কারো সম্পর্কে তার মূল্যায়ন করে তার সৌন্দর্যের মাধ্যমে।
আমার সাথে এটা মাঝে মধ্যেই হয়। যখন আমি আয়নায় নিজেকে দেখি এবং নিজের চেহারায় কোন আকর্ষণ খুঁজে পাই না, তখন নিজের মনোবল কমে যায়। আমি জানি এই লাইনটা কারো কাছে অবিশ্বাস মনে হতে পারে। কিন্তু এই লাইনগুলি আমার সুখী জীবনের মুহূর্তের এবং ভালো , খারাপ উভয় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা দ্বারা অর্জিত জ্ঞানের প্রভাব। আমার মত অনেকেই হয়তো নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারেনা। কিন্তু সৌন্দের্যের বিলুপ্তি এবং মূল্যের ক্ষতি অনুভব করতে পারে।
আমি সমাজের আজকের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা দেখে প্রায়ই বিরক্ত হই। সমাজে মহিলাদের বার্ধক্য শব্দটি দিয়ে প্রায়ই অপমানজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু কেন? অনেকে এটাকে ভয় না পেয়ে আলিঙ্গন করার চেষ্টা করে। অনেক নারীই রয়েছে যারা প্রকৃতির দ্বারা তাদের দেওয়া সব কিছু পরিবর্তন করেন। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি তাদের স্বাভাবিক সহকর্মীদের চেয়ে তাদের বয়স কম দেখায় না।
ফেসবুকে ঢুকলেই এখন নানা ধরনের ফেসবুক পেজ দেখা যায় । যেখানে উৎসাহ করা হয় নারীদের ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোর। অনেক মেয়ে রয়েছে যারা কসমেটিক সার্জারি , বিভিন্ন ধরনের হোয়াইটেনিং ক্রিম এগুলো ব্যবহার করে। আজকের বিশ্বে বয়স্ক মহিলাদের চেহারা মিডিয়ায় চিত্রায়নে ইতিবাচক হয় না। আমি অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি অভিনেতাদের ক্ষেত্রে ত্রিশ পেরিয়ে গেলে তাদেরকে নিয়ে অভিযোগ ওঠে। যার জন্য তারা নিজেদের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য নানা ধরনের সার্জারি করে থাকে। অনেক মেয়েকে এমন দেখা যায় যাদের বয়স বৃদ্ধির কারণে চেহারা নিয়ে তাদের অনেক অভিযোগ থাকে।
আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় সৌন্দর্য একটা মেয়ের একমাত্র সম্পত্তি নয় । আমাদের ভেতররের বাইরের সৌন্দর্যকে বয়সের সাথে পরিবর্তন করতে পারে না। নিখুঁত এবং সত্তিকারের সৌন্দর্য আমরা মডেলের চেহারার মধ্যে দেখতে পাই। কিন্তু আমি মনে করি আসল সৌন্দর্য হল আপনাকে গ্রহন করা এবং আপনার সম্পর্কে ভাল অনুভব করা। কোন সুপার মডেলের মত হওয়া নয়।
সৌন্দর্য সম্পর্কে যখন আপনার চিন্তাভাবনা পরিবর্তন হবে, তখন আপনি শুধু আত্মবিশ্বাসী হবেন না বরং অনুভব করতে পারবেন নিজেকে। আজীবন আপনার জৈবিক বয়সকে দেখাবে , যার প্রেমে পড়বেন আপনি। আমি মনে করি নিজের সৌন্দর্য নিজের পরিচয় রাখা উচিত। কিন্তু আপনার সৌন্দর্য আপনার পরিচয় হবে না। নিজের ত্রুটি গুলো সম্পর্কে চিন্তা করা ছেড়ে দিন বরং আপনার শক্তিতে মনোযোগী হন।
আপনি যখন 50 বছর বয়সে পা দিবেন এবং 10 বছর আগের ফটো গুলোর দিকে ফিরে তাকাবেন। তখন বুঝতে পারবেন যে আপনি কতটা সতেজ এবং তরুণ ছিলেন। তাই সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই না করে বর্তমান সময় কে সেরা হিসেবে তৈরী করুন । যাতে ভবিষ্যতে আপনাকে ক্ষোভ নিয়ে বাঁচতে না হয়।
নিজের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে। আমাদের সবার হয়তো মনে মনে একটাই চাওয়া সেটা হল সুস্থ জীবন যাপন করা এবং নিজেকে শক্তিশালী এবং ফিট রাখা। যার কারণে বাজে খাবার না খেয়ে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিজের রুটিনে ব্যায়ামের প্রতিশ্রুতি রাখুন। আপনার ক্ষুদ্র এই প্রচেষ্ঠা আপনাকে ভালো এবং সুন্দর জীবন দিবে।
সৌন্দর্য শুধুমাত্র শারীরিক দিক গুলো ফুটিয়ে তোলে না এটি মনস্তাত্ত্বিক দিক ও সামনে আনে। আপনার সুস্থ মানসিকতা আপনার সুন্দর জীবনে সহায়তা করবে । আপনার সৌন্দর্য আপনার চেহারা থেকে আপনার ব্যবহারে ফুটে উঠবে। শুধু ফর্সা মানেই আপনার পরিচয় নয় আপনার পরিচয় আপনার শক্তি যেখানে আপনি আপনার জয় তৈরি করতে পারবেন । সৌন্দর্য আপনার মিষ্টি হাসিতে থাকবে যেখানে কোন অহংকার থাকবে না।