আমি একটি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছি। যেখানে সকল দ্বিধা গুলো উপেক্ষা করে আমার দরজায় কড়া নাড়বে হাজারো নতুন সম্ভাবনা। অপেক্ষা আমাকে নতুন মোড়ে নিয়ে যাবে যেখানে আমি চাইলেই আমার চাওয়া গুলো পূরণ করতে পারব। সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন স্নিগ্ধ বাতাস এর অপেক্ষা করি জানালায় বসে। তখন চারিপাশের দেয়ালগুলো সেটা আসতে বাধা দেয়। কিন্তু সেখানেও ব্যতিক্রম ঘটে। কোন না কোন পথ খুঁজে নেয় স্নিগ্ধ বাতাস আমার কাছে আসার জন্য। সে নিজের হাল না ছেড়ে না কোনো না কোনো পথ খুঁজে নেয় নিজের জন্য। কারণ তারও হয়ত জানা রয়েছে নিজের চেষ্টা ছাড়া সে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।
আমি মাঝেমধ্যেই আয়নার সামনে তাকিয়ে নিজেকে দেখে বেশ হাসি । হাসতে হাসতে বলি আরে যাহ, জীবনের সময় কি ফুরিয়ে গেছে। কেবলমাত্র শুরু । চোখ বন্ধ করলে যে অন্ধকারটা অনুভব করি, চোখ খুললে তো তার থেকে অনেক বেশি আলো অনুভব করি তাহলে আবার দ্বিধা কিসের। আমি না হয় অন্ধকার টাকেই বেশি ভালোবাসি । তাই বলে আলোতো আমায় বেশি ভালবাসে । তাই আর মুখ ফিরিয়ে নেই না । কারণ বেলাশেষে তো আলোর জন্য ছটফট করতে হবে। তাহলে আর মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজের সম্ভাবনাটাকে কেন বন্ধ করতে যাব।
জীবনের প্রতিটি যুদ্ধ শুরু হয় ঘুম থেকে উঠার পর থেকেই। যখন নিজের অফিসের জন্য বের হয়ে বাসে পাঁচ টাকা ভাড়া কমানোর জন্য বেশ লড়াই করি। ঠিক অপর দিক দিয়ে হেলপার আমার কাছে পাঁচ টাকা বেশি নেওয়ার জন্য লড়াই করে এখানে হয়তো যার যার দিক দিয়ে দুইজনেই ঠিক রয়েছি। কারণ জীবনের যুদ্ধ দুদিক দিয়ে চলছে শুধু আমার নয়। যখন দেখি ওপাশ থেকে ভালো ব্যাবহার আসছে। তখন নিজে থেকেই কোন দন্ড জড়াতে পছন্দ হয় না। কিন্তু যখন এর ব্যতিক্রম ঘটে তখন মনে হয় একে বেশি দিয়ে লাভ নেই। গাড়িতে উঠে ভালো একটা জায়গা বসার জন্য খুঁজি।
যখন পাশে কোন বয়স্ক মানুষ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, মনে হয় যে উঠে তাকে বসতে দেই। কিন্তু সেটা আর এখন করি না। এর আগে হয়েছে কি জানেন, এমন করতে গিয়ে নিজের মোবাইলটা হারিয়ে ছিলাম । তারপর থেকেই মানুষজনের উপর বেশ অভিমান হয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেও কাউকে এখন বসতে দিতে ইচ্ছে করে না। কারণ মোবাইলটা হারানোর পরে কিছুদিনের জন্য বিপদে আমাকে পড়তে হয়েছিল। তাই এখন মাঝেমধ্যে মনে হয় এত বেশী দরূদ দেখিয়ে লাভ নেই, নিজের জায়গায় চুপচাপ বসে থাকে।
মোবাইল হারানোর পরে বাসায় এসব বলার সাহস পায়নি। কারণ দুঃসময়ে খারাপ সংবাদ দিতে ভালো লাগে না। বেশ কিছুদিন এভাবেই পার হয়েছিল। কিন্তু ভোরের আলো কোন না কোন দিক দিয়ে আমার কাছে এসে পৌঁছে যেত । এর জন্য মানুষ হয়তো বিশ্বাস রাখে নিজের উপর । বিশ্বাস রাখে একটা সঠিক সময়ের উপর। কারণ সবাই জানে যেমন অন্ধকার নেমে আসে, তার থেকেও অনেক দ্রুত ভোর হয়। আমি প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু শিখে যাচ্ছি। প্রতিটা দিন আমার জন্য একটা নতুন চ্যাপ্টার। যেখানে হয় আমি ভালো কিছু শিখি না হলে খারাপের সাথে লড়ে যাই। তার মানে এটা নয় যে আমি অভিমানী চুপচাপ কোন কোনায় বসে থাকি। কারণ সবার মত আমারও নিজের প্রতি বিশ্বাস।
একটা সূর্য ,একটা নতুন ভোর শুধুমাত্র একটি দিন নয় ।অনেকের কাছে নতুন সম্ভাবনার ভোর । আবার অনেকের কাছে নিজের সাফল্যের আনন্দ, আবার অনেকের কাছে ব্যর্থতার চরম সীমা। কেউ ভুলতে পারে না সেটা খুব খারাপ, খুব আনন্দের হোক। কোন না কোন ভাবে নিজের দিক দিয়ে সেটা মনে রাখে। কাউকে যখন জিজ্ঞেস করি যে আপনার দিনের কোন অংশটা আপনাকে নিজের মনে করায়। সবাই সুখের অংশটা বাদ দিয়ে কষ্টের অংশটাই কেন জানি বেশি বলতে পছন্দ করেন।
তাহলে আমি একাই হয়তো ব্যতিক্রম দুনিয়ায় বাস করি । মানুষের খারাপ দিকগুলো ভুলে কোনো না কোনো পথ খুঁজে, ভালো দিকটা বলতে শুরু করি। কারণ মৃত্যুর ভয় মনে করায়, মৃত্যুর পরের দুনিয়াটা আমাদের সবার জন্যই বেশ কঠিন ।তাহলে অন্যের উপর অভিমান রেখে ছোট পৃথিবীতে কষ্টে না থেকে সবাই কে সুখে থাকার প্রার্থনা করাটাই তো মনুষত্ব।