যখনি জীবনে পিছনের দিকে ফিরে তাকাই, অকারণে মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠে। অনেক ভুল, অনেক সংগ্রাম, অনেক কিছু হারানোর পরে আমি এই জায়গাটি তৈরি করেছি। এখন আমি এমন একটি জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমি আত্ম তৃপ্তি অনুভব করতে পারি। এমন একটি জায়গা যেখানে বহুকাল ধরে আসার স্বপ্ন দেখেছিলাম। নিজের আত্মতৃপ্তির জায়গা, যেটাকে অন্তত নিজের বলে দাবি করতে পারি। আগে সৃষ্টিকর্তার উপরও বেশ অভিমান করতাম। সংগ্রামে হেরে যাওয়ার ভয়ে তার উপরই অভিযোগের আঙুল তুলতাম। বারবারই তাকে জিজ্ঞেস করতাম কেন আমাকে এই অবস্থায় ফেলেছে।
এটা আমার কেমন পরীক্ষা যেটাতে আমি অংশগ্রহণ করতেই ভয় পাচ্ছি, জয়ী হওয়ার কথা তো অনেক পরে। সব সময় ভাবতাম খারাপ সময় গুলো হয়তো কাটিয়ে ওঠা কোনভাবে সম্ভব না। জীবনে যে উত্থান-পতন গুলো শুরু হয়েছে সেটাকে কখনোই আমি হয়তো ঠিক করতে পারব না। তখন আমাকে ঘিরে ধরত হাজারো প্রশ্ন হয়তো সেটা পরিস্থিতির কারণেই। কিন্তু যখন আমি ঐসব থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন জীবন আলোকিত মনে হয়েছিল। তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল যে প্রশ্নগুলো আমাকে ঘিরে ধরত সেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। তখন আমার যেটা প্রয়োজন ছিল শুধুমাত্র ধৈর্য আর সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাওয়া। যা আমি তখন করার জন্য চিন্তাই করিনি।
আমি একটা সময় বুঝতে পেরেছিলাম জীবন একবার ট্র্যাকে আসা শুরু করলে সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবেন। কিছু কথা সব সময়ই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। আমি সবসময় কৌতুহলী একজন মানুষ। কোন ক্ষুদ্র বিষয়ে অথবা বড় আমার কৌতুহল সবথেকে বেশি থাকে। আমি সব সময় নিজেকে প্রশ্ন করে নিজেই উত্তর খুঁজে বেড়াতাম । যেটা হয়ত অন্তর্মুখী হওয়ার আরেকটি অপূর্ণতা। কিন্তু এই প্রশ্নগুলো আমাকে অনেক ভাবে সাহায্য করেছে নতুন একটি পৃথিবী তৈরি করার জন্য।
এই পরিবর্তন ঘটেছে শুধুমাত্র আমার কৌতুহল ও চিন্তাধারার কারণে। আমার প্রচেষ্টার কারণেই আমি হয়তো নিজেকে এতটা সময় দিতে পেরেছি। আমি এখন অনেক খুশি । কারণ আমি নিজের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করেছি যেটাতে আমি সকাল থেকে রাত এর ব্যবধান বুঝতে পারি। আমি এখন যখন আমার কাজের তুলনা করি আমি অবশ্যই আমার ক্রিয়া-কলাপ গুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি। এখন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তৈরি হচ্ছে। আমার যখন নিজের কোনো অবস্থান ছিল না তাদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। তারাই এখন আমাকে এসে উপদেশ দিচ্ছে। আপনার দরজায় এখন হাজারো সুযোগ কড়া নাড়বে আপনি এটির উত্তর দিবেন। যেটা আপনার জীবনকে বর্তমান পরিস্থিতির থেকেও অনেক বেশি ভালো করে তুলতে পারে। কিন্তু পিছনের পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছিল।
জীবন কিছু নির্মম নিয়ম মেনে চলে। যে নিয়মগুলো চাইলেও আপনি পাল্টাতে পারবেন না। যখন আপনি একাকিত্বের সময় কাটাবেন তখন ভাববেন এই সময়টাতে যারা আপনার পাশে নেই তাদের সাথে কখনো আর যোগাযোগ করবেন না। কিন্তু আপনার ভালো সময়ে যখন তারা আপনার পাশে থাকে তাদের দেখে আপনার মুখে হাসি ফুটে উঠে। তখন আর আপনি তাদের ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। এটা হয়তো আমাদের জীবনের নিয়ম যা আমরা অন্য মানুষের মত তাদের কাঙ্ক্ষিত পাওনাটা ফিরিয়ে দিতে পারিনা।