এতদিন অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ভার্সিটির আনন্দটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সবার কাঙ্খিত দিনটি চলে এসেছিল শীঘ্রই। অনেক জল্পনা-কল্পনার মুহূর্ত শেষ করে ভার্সিটির প্রথম ইফতার পার্টির আয়োজন করেই ফেললাম। খুব বেশি কষ্ট হয়নি শিক্ষার্থীদের ইফতার পার্টির জন্য রাজি করানোর। কারণ সবাই করোনার মুহূর্তে থেকে বের হয়ে, এমন একটা আয়োজনের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরেই করছিল। প্রথমে আমরা যেটা করেছিলাম শিক্ষার্থীদের জন্য একটি টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করি। তারপরে সেখান থেকে আমরা খাবারের মেনু নির্ধারণ করি। তারপরে যেটা করতে হয়েছিল সেটা আমাদের শিক্ষকদের জন্য একটি আমন্ত্রণ কার্ড বানাতে হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করা শুরু করি। প্রথমেই সকল শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা সংগ্রহ করতে শুরু করি। অনেকেই যেহেতু ঢাকার বাইরে রয়েছে যার কারণে আমরা বিকাশে টাকা গ্রহণ করে থাকি।
তারপর আমাদের সিনিয়র যারা ছিলেন তারা আমাদের সকল দিক দিয়ে সহযোগিতা করেন। আমরা BUBT ভার্সিটির BBA বিল্ডিংয়ের ক্যান্টিনে নিজেদের ইফতার পার্টির আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেই। তাই ইফতারের আগের দিন আমরা ক্যান্টিন টাকে খুব সাধারণভাবে ডেকোরেশন করি কিছু সাদা এবং নীল বেলুন দিয়ে। বিশেষ করে আমাদের ইফতারের ব্যানারটা বেশ ভালো লেগেছে।
খাবারের প্রথম আয়োজন ছিল দই, চিড়া। এটা এক বড় ভাইয়ের আইডিয়া ছিল। আমরা প্রথমেই চিড়া ভিজিয়ে রেখে ছিলাম তারপরে প্যাকেটিং করা শুরু করি। চিরার মধ্যে দই আর কেটে কলা দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ ব্যাপারটি কিছু অদ্ভুত ছিল, কারণ আমার কাছে এই আইডিয়াটা পছন্দ হয়নি। কিন্তু সবার কাছে যেহেতু ভালো লেগেছিল একটু অন্যরকম কিছু করা হয় আরকি। সবাই অন্যরকম কিছু করার চেষ্টা দিয়েছিল যার কারনেই আমাদের চিন্তা ভাবনা ছিল প্রথমে দই-চিড়া দেওয়ার।
প্রধান খাবার যেটা ছিল সেটা ছিল ফ্রাইড রাইস, চিকেন আর হলো চাইনিজ সবজি। আমরা রেস্টুরেন্ট থেকে এগুলো সেপারেট করে কিনে আনি । তারপরে নিজেরাই নিজেদের মতো করে প্যাকেট করি। যার কারনে এত কাজের জন্য সকাল থেকেই সব কিছু শুরু করতে হয়েছিল। একেকজন একেকটা কাজেই ব্যস্ত ছিলাম কেউ প্যাকেট করছিল কেউ ডেকোরেশনে ছিল। আমাদের টিচাররা ও আমাদের কাজে বেশ সাহায্য করেছেন। সুশৃংখলভাবে যাতে সবকিছু সম্পন্ন হয় তার কারণে প্রতিটি মুহূর্তে তারা আমাদের গাইড করেছিলেন।
প্যাকেটিং সম্পূর্ণ হয়ে গেলে তারপরে আমরা সবাই একসাথে শিক্ষকদের বসার জন্য সব জায়গায় ঠিক করেছিলাম। শিক্ষকরা ভেতরে প্রবেশ করার পরে প্রচুর ছবি তোলা হয়। মানে সবার ফোনে মিনিমাম হাজারখানেক করে ছবি আছে শিক্ষকদের সাথে।
সারি বেঁধে একে একে সকল স্টুডেন্ট আসতে শুরু করে সাথে নিমন্ত্রিত সকল শিক্ষক। আনন্দের মুহূর্তের জন্য হয়তো এর থেকে বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না সকল বন্ধুরা আবার একসাথে। সবাই নিজ নিজ আসনে বসে পড়া নিজের সেশনের বন্ধুদের সাথে। আমরা প্রথমেই সবার টেবিলে টেবিলে চিরা এবং পানি পৌঁছে দেই। তারপর সরবত আর ফ্রাইড রাইস এর প্যাকেট। এতই স্টুডেন্ট হয়েছিল ভেবেছিলাম হয়তো কিছু কম পড়তে পারে কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ সবাই সবকিছু পেয়েছিল।
তার পর মোনাজাত শুরু করে সবাই আযানের জন্য অপেক্ষা এবং একসাথে সুন্দর একটি মুহূর্ত আমরা শেষ করেছিলাম ইফতারের মাধ্যমে।
আমরা সবাই।