বাংলাদেশের অন্যান্য জাতীয় বিষয়গুলোর কারণ ঠিক পছন্দ না হলেও ফুলের ক্ষেত্রে বেপারটা ঠিকটাকই রয়েছে।যেমন,জাতীয় পাখি দোয়েল, কিন্তু সারাদেশে দোয়েল খুঁজে পাওয়া যায় না।আবার জাতীয় পশু বাঘ।দেশে বাঘের সংখ্যা একশোরও নিচে।
কিন্তু জাতীয় ফুল সাদা শাপলা আবার সারাদেশের নদী-নালা,খাল-বিল,হাওড়-বাওড়,পুকুর-ডুবা সব জায়গায় পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে দুই প্রজাতির শাপলা জন্মে।সাদা এবং লাল রঙের শাপলা।এর মধ্যে সাদা শাপলা জাতীয় ফুল হওয়ার কারণ হচ্ছে,শাপলার সাদা রঙের মতো বাংলার মানুষের আত্মা পরিশুদ্ধ,সহজ-সরল এবং পাপড়িগুলোর মতোই সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকে।
তবে কোনোদিন শাপলাকে কাছ থেকে দেখা হয় নি।বর্তামানে যে জায়গায় আছি তারপাশে একটি গাঙ রয়েছে।ভাবলাম যাই,বাংলাদেশের জাতীয় ফুলের সাথে একটু সাক্ষাৎ করে আসি।তাজা শাপলা দেখতে হলে ভোরে যেতে হয়,নয়তো দিনের বেলা রৌদ্রের তাপে কিছুটা নেতিয়ে পড়ে।
তো ভোরে ঘুম থেকে উঠে,আমার গ্রামের একটা ছেলে রায়হানকে সাথে নিয়ে শাপলা অভিযানে বের হলাম।তাকে সাথে নিয়েছি কারণ,পানির মধ্যে নেমে শাপলা আনতে আমি পারবোনা।সাঁতার পারি,তবে বেশি না।যদিও সেখানে পানি বেশি ছিলো না।
যাওয়ার পর দেখলাম,সত্যিকারেই শাপলা খুবি সুন্দর। মনে হচ্ছে পানির মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ সাদা আলোর গুচ্ছ।তার চারপাশে সবুজ রঙের পাতা পানির মধ্যে ভেসে রয়েছে।হালকা বাতাসে শাপলা দোল খাচ্ছে। রায়হান পানিতে নেমে কতোগুলো শাপলা তুলে নিয়ে এলো।
পানিতে শাপলাকে বেশি সুন্দর দেখা গেলেও,হাতেও কিন্তু বেমানান লাগছিলো না।অনেকগুলো শাপলা একসাথে হাতে নেওয়ার পর দেখা গেলো সৌন্দর্যটা বরং আরো বেড়ে গেলো।
তারপর সাদা শাপলার সৌন্দর্যে মনকে রিফ্রেশ করে চলে আসলাম, হাতে এক গুচ্ছ সাদা কোমল আলো নিয়ে।তারপর, এনে আলোগুলো ছড়িয়ে দিলাম অনেকের মাঝে।
ধন্যবাদ