গ্রামের ভাষায় একটা কথা আছে,সুঁচের কাজ কি আর কুড়াল দিয়ে হয়!
এর মানে হচ্ছে,সুঁচ খুবি ক্ষুদ্র একটা জিনিস,আর কুড়াল অনেক বড়।তাই বলে কুড়াল কিন্তু সুঁচের কাজ করতে পারবে না।সুঁচের কাজ সুক্ষ্ম জিনিস ছিদ্র করা।আর কুড়াল বড় জিনিস কাটার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
ব্লেড চুল কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়।ব্লেড দিয়ে কাঠ কাটা যাবে না,ঠিক উল্টোভাবে কুড়াল দিয়ে চুল কাটা যাবে না।কুড়াল যদি অহংকার করে বলে,আমি ব্লেডের ছেয়ে অনেক বড়,মোটা।ব্লেড তুচ্ছ, সে কি আর কাজ করতে পারবে।পরীক্ষা করলে দেখা যাবে তুচ্ছ ব্লেডের কাজ বড় কুড়াল করতে পারছে না।
এর মানে হচ্ছে,সবাই তার নিজের জায়গায়, নিজের পেশায় প্রয়োজনীয়,দরকারি।কারো পেশাকে ছোট বলে অপমান করা ঠিক না।কৃষককে যদি ডাক্তারের সাথে তুলনা করে বলা হয়,কৃষক ক্ষেত কামারের মানুষ,তার কাজ তুচ্ছ,তার কাজের কোনো দাম নেই।এখন কৃষক যদি খাদ্য না চাষ করে,তাহলে ডাক্তার কে না খেয়ে থাকতে হবে,তার জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হবে।তাহলে কৃষকের কাজ তুচ্ছ হয় কি করে?
ইট-ভাটার শ্রমিক,রাজমিস্ত্রী এরা যদি কাজ না করে তাহলে মানুষ বাস করার জায়গা পাবে কোথায়।অথচ,মানুষ তাদের কাজকে নিম্নমানের কাজ বলে অপমান করে।"জেলে" শব্দটাকে অনেকে গালি হিসাবে ব্যবহার করে।আরে এই জেলে যদি মাছ না ধরে,তাহলে মাছে-ভাতে বাঙালির ট্যাগটাই উঠে যেতো।
আজকাল শুনা যায়,"ক্ষেত" শব্দটা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করা হয়।আরে ভাই এই ক্ষেতের ফসলইতো আমরা খায়।যেই ক্ষেত জীবন বাঁচানোর জন্য প্রধান একটা বিষয় খাদ্যের যোগান দেয়,সেই ক্ষেতকেই গালি হিসাবে ব্যবহার করা কতটুকু যুক্তিক।
সবাই সবার জায়গায় খুবি দরকারি,তাকে ছাড়া ঐ জায়গা চলবে না।কেউই পূর্ণভাবে স্বাবলম্বী না।কোনো ক্ষেত্রে, কোনো না কোনো ভাবে অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়।তাই কোনো কাজকেই ছোট করা ঠিক না।তুলনা করারই প্রয়োজন নাই।
তবে হ্যাঁ,ঐ নিজস্ব পেশার মানুষের মধ্যে তুলনা করা যেতে পারে।যে এই কামারের চুরির ছেয়ে,ঐ কামারের চুরি বেশি মজবুত,এই কুমার বেশি দক্ষ,ঐ ইঞ্জিনিয়ার বেশি ভালো ডিজাইন করে।
এই ধরনের তুলনা করা যেতে পারে।তবে এক পেশার সাথে অন্য পেশার তুলনা করা উচিত না।