পাশের বাড়ি থেকে এক মেয়ের চিৎকারের শব্দ শুনা যাচ্ছে।চিৎকার করে গালাগালি দিচ্ছে মনে হচ্ছে। অস্বাভাবিক কিছু শুনলে বা দেখলে বাঙালির তার প্রতি আগ্রহের কমতি থাকে না।দৌড়ে তা দেখতে যায়। আমি দৌড়ে না গেলেও দেখতে গেলাম,কি ঘটছে তা দেখা দরকার।
একটা বাচ্চা মেয়ে,বয়স বার-তের হবে,সে এরকম বিকট শব্দ করছে।তার পাশে মানুষ জন ভীড় করে দেখছে।সে বলছে,"আমার নাম ছোটন,আমি গাঙ পাড়ের ঐ বট গাছে থাকি,জ্যোতি আমার বাচ্চার ঘুমে বিরক্ত করেছে,তাই আমি তারে ধরছি"
বার বার এই কথা বলতে লাগলো।বুঝলাম জ্যোতি মেয়েটারে জ্বিনে ধরছে(গ্রামের লোকের ভাষ্যমতে)।সে নাকি দুপুর বেলায় খেলতে ঐ গাছের নিচে গেছিলো,হয়তো বট গাছের শিকড় আনার জন্য। এতে জ্বিন বিরক্ত হয়েছে।তার জন্য তাকে ধরছে।মানে তার শরীরে প্রবেশ করে,তার দেহকে নিজের ধকলে নিয়ে নিয়েছে।
সে আরো অনেক কথা বলতে থাকলো।জ্যোতির মাধ্যমে জ্বিন টা কথা বলতেছে।এই বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন লোক আসলেন,
এসেই তিনি তাড়াতাড়ি মেয়েটার কনিষ্ঠ আঙুলে চাপ দিয়ে ধরলেন।চাপ দিয়ে ধরার মানে হচ্ছে,জ্বিন টা আর এখন নিজের ইচ্ছায় বের হয়ে যেতে পারবে না।সে বন্ধী হয়ে গেলো।চাপ দিয়ে ধরে, লোকটা মেয়েটাকে বেধড়ক পেটাচ্ছে।এতো জুড়েজুড়ে থাপ্পর দিচ্ছে যে,স্বাভাবিক ক্ষেত্রে এই রকম কোনো বাচ্চাকে থাপ্পড় দিলে সে সাথে সাথে জ্ঞান হারাতো। মেয়েটা মানে ছোটন তখন চিৎকার করে বলছে,আমাকে ছেড়ে দাও আমি চলে যাচ্ছি।
চলে যাবি,আর আসবি নাতো?
না আর আসবো না,তবে একটা শর্ত আছে।
কি শর্ত?
আমার ঐ গাছের আশপাশে যাতে কেউ না যায়,আমাকে যাতে বিরক্ত না করে।
আচ্ছা, ঠিক আছে।তুই যা পরে দেখবো।
লোকটা কনিষ্ঠ আঙুলের চাপ ছেড়ে দিলো,সাথে সাথে মেয়েটা নিস্তেজ হয়ে পড়লো।অর্থাৎ জ্বিনটা ছেড়ে চলে গেলো।
এর বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।মেয়েটা যে অভিনয় করছিলো তা বলা যাবে না।এতো ছোট বাচ্চা কি করে এতো সুন্দর অভিনয় করবে।এতো কথা ঘটনা,কিভাবে ঘুছিয়ে বললো।আর বাচ্চা মেয়ে একা একা এতো প্ল্যান করে এইরকম কিভাবে করতে পারে?
জ্বিন থাকা অবস্থায় তাকে যেভাবে পিঠানো হয়েছে,স্বাভাবিক মানুষকে এই রকমভাবে পিঠালে মারা যাওয়ার কথা।অথচ,জ্বিন চলে যাবার পর মেয়েটির গায়ে কোনো ক্ষত চিন্হ নাই,তার শরীরে যে কোনো আঘাত করা হয়েছে তার নূন্যতম লক্ষণ নাই।স্বাভাবিক ঘটনা হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তো।
নাকি,এটা এইরকম কোনো রোগ যে এটা হলে,স্নায়ু কাজ করে না,তাই শরীরে আঘাত করলেও কোনো ব্যাথা লাগে না,উল্টা পাল্টা কাহিনি সৃষ্টি হয় ব্রেইনে?
কে জানে,বিজ্ঞানীরা এই বিষয় টা নিয়ে কোনো গবেষণা করেছে কিনা?যতদূর সম্ভব মনে হয় এর বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা আবিষ্কার হয় নাই।
মনের মধ্যে এইসব কনফিউশান নিয়ে চলে আসলাম।এইসব প্রশ্নের উত্তর কোথাও পেলাম না।