এতো দীর্ঘ ছুটি এই জীবনে আর পাই নাই।ছুটি দেওয়ার সাথে সাথে ভাবলাম,যাক বাসায় বসে বসে আরামে ওয়াইফাই দিয়ে নেট চালাবো।
তারপর দেখলাম শহরে থাকা নিরাপদ হবে না।আর এতোদিন শুধু শুধু শহরে বসে থাকার কোনো মানে নেই।তাই বই,কাপড়চোপড় গোছিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।
প্রায় সাড়ে তিন মাস যাবৎ ছুটি কাটাচ্ছি।ছুটিতে যখন গ্রামে আসি তখন ছিলো গ্রীষ্মকাল।ধান ক্ষেত ছিলো সবুজ রঙের।ধানের ছড়া বের হচ্ছিলো।দিন যেতে থাকলো।ধান গাছ হলুদ হতে শুরু করলো।ধান পেকে গেলো।সেই ধান কাটা হলো।ধান কাটার কাজ এর আগে খুব একটা করি নাই।এইবার শখের বশেই ধান কেটেছি।ধানের মুড়ি বাঁধা থেকে শুরু করে,মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে আসা,তারপর সেই ধানগাছ থেকে ধান আলাদা করা সবি মোটামুটি করেছি।ধান ক্ষেত ফাঁকা হয়ে গেলো।
এরপর থেকে বৃষ্টি আসা শুরু করলো,ধীরে ধীরে পানি বাড়তে শুরু করলো।আগে যেই জমির দিকে থাকালে চোখে সবুজ আলোর ঝলকানি লাগতো,এখন সেখানে পানি ঝিকমিক করে।তবে এখনো পানি ঠিকমতো বাড়ে নাই।সামনে আরো বৃষ্টি হবে,আর বর্ষাকাল তার সঠিক রুপ দেখাবে।এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে।
বাড়ি থেকে গাঙপাড়,গাঙ পাড় থেকে পুলের উপর,সেখান থেকে পাড়ার স্কুল মাঠ এই পথ টুকুর দুরত্ব দুই-থেকে তিন কিলোমিটার হবে।কিন্তু এই পথটুকুর মধ্যে দিনে দশ-থেকে বিশ কিলোমিটার হাঁটি।কখনো ক্লান্ত লাগে না।ভালোই লাগে।
প্রথম দিকে ক্রিকেট খুব খেলেছি।বর্ষা মৌসুম আসার পর এখন ফুটবল খেলি।ধান ক্ষেত এখন ফাঁকা।ধান ক্ষেতেই ফুটবল খেলা হয়।বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেরা ফুটবল খেলে।আমি অবশ্য এতটা সাহস দেখাতে পারি না।জ্বর আসার ভয় আছে,ব্যাথা পাওয়ার ভয়ও আছে।কিন্তু তাদের মধ্যে এই ভয়ের কোনোটাই নাই।
মাঝে মধ্যে ছোট বাচ্চাদের "মজা" খাওয়াই।মানে ঠঙ দোকান থেকে কিছু খাবার কিনে দিলে,এটাকে তারা "মজা" খাওয়া বলে।খাবার জিনিসটার দাম হয়তো দুই-পাঁচ টাকা,কিন্তু এই "মজা" পাওয়ার পর তাদের মধ্যে যে আনন্দ দেখতে পাওয়া যায়। তা একজন শহরের মানুষ কোটি টাকা পেলেও তার মধ্যে সেই আনন্দ দেখতে পাওয়া যায় না।
আর গ্রামের আবহাওয়ার কথাতো জানাই।সর্বোচ্চ ফ্রেশ বাতাস।গরম কম।শীতল আবহাওয়া।আরাম অপরিসীম।
যদি আর্থিক সমস্যা না থাকতো।সব মানুষ ঠিকঠাক মতো খেতে পারতো।তাহলে শহরের মানুষের চেয়ে গ্রামের মানুষ অবশ্যই সুখে থাকতো।
গাড়ি-ঘোড়া এখন ঠিকঠাক চলে।কিন্তু এই আরাম ছেড়ে যেতে মন চাই না।তাই শহরে যাচ্ছি না।কলেজ খোলার আগ পর্যন্ত আর শহরে হয়তো যাবো না।যদি রোগে আক্রান্ত না হয়।
ধন্যবাদ