আজ রাতের বেলা, হঠাৎ ঘরের লাইটটা নিভে গেলো।মনে হলো পৃথিবীটা অন্ধকারে ডুবে গেলো।আসলে লোডশেডিং হয়েছে।একটু পর দেখলাম গরমের কারণে শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। ভাবলাম যাই বাহিরে একটু পাইচারি করে আসি।রাস্তা দিয়ে হাঁটছি।ফুরফুরে বাতাস গায়ে লাগছে।হঠাৎ একটা বাড়ির সামনে উপস্থিত হলাম।আমার মনে পড়ে গেলো এই বাড়িতে একটা মেয়ে আছে।যে কিনা দেখতে খুবি সুন্দর ছিলো।হ্যাঁ, তাকে কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম তাই বলছি ছিলো।সে এখনো এই বাড়িতেই আছে। কিন্তু থাকে এখন আর বাহিরে দেখা যায় না।বলতে গেলে গৃহবন্দী।
এখন কথা হচ্ছে, সুন্দর হওয়ার কারণে সে যখন বাহিরে বের হয়,তখন এলাকার বখাটে ছেলেরা থাকে খুব বিরক্ত করে।বিরক্ত করার পরিমাণ এতো অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেলো যে তাকে ঘরে বন্দী করে রাখতে হলো।শেষ যেদিন থাকে দেখেছিলাম সেদিনের কথা মনে পড়ে গেলো।আমি, আমার এক বন্ধুর সাথে তাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলাম,এমন সময় দেখতে পেলাম একটু দূরে কিসের জানি গন্ডগোল হচ্ছে। আমরা বেপারটা দেখার জন্য সামনে এগিয়ে গেলাম,গিয়ে দেখি ঐ মেয়ের বড়ভাই,এক বখাটে ছেলেকে ঝারি দিচ্ছে, বুঝানোর চেষ্টা করছে যে তার বোনের পিছু নেওয়া ছেড়ে দিতে।কিন্তু এই অধম বখাটেগুলো কি আর পিছু নেওয়া ছাড়ে!হয়তো ঐদিনের পর থেকে আরো বেশি বিরক্ত করা শুরু করলো। সৃষ্টিকর্তা তাকে সুন্দর বানিয়েছেন, এটাই কি তার অপরাধ? আমি তো ঠিকি স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, আমাকেতো ঘরে বন্দী থাকতে হচ্ছে না।তাহলে সে মেয়ে বলেই কি তাকে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে?আমি এটা বলছি না যে,সে দেহ দেখিয়ে বেড়াবে। কিন্তু বাহিরে স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারতো তার আছে।কিন্তু সমাজের ঐ দুষ্টপ্রকৃতির কুছেলেগুলোর জন্য তাকে বন্দী থাকতে হচ্ছে। কবে শেষ হবে বাংলার মেয়েদের এই বন্দীদশা?কবে?
সেই মেয়েটির ঘরে বন্দী থাকাই উত্তম?
নাকি এই কুছেলেগুলোকে ঘরে বন্দী রাখা উচিত?