স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে কিংবা স্বপ্নের মাঝে মানুষ বাঁচে,যায় বলি না কেনো এই কথাটা সূর্যের আলোর মতো সত্য।ছোট্ট এ জীবনে কতো চড়াই উৎড়াই দেখেছি তার হিসাব নেই। তবে প্রতিবারই এই স্বপ্নই হাত ধরে তুলেছে।চোখের সামনে কতো ডুবে যাওয়া মানুষ কে স্বপ্নের হাত ধরে উঠে আসতে দেখেছি। আমাদের পাশের বাড়ির আমার এক চাচাতো বোন। বয়সে আমাদের থেকে সিনিয়র। আমার ছোট আপার বান্ধবী। স্বপ্নবাজ ছিলেন তিনি ছোট থেকে। পড়া শুনায় বেশ ভালো মেধাবী একজন ছাত্রী ছিলেন। ঐ আপু যখন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন তখন তার বাবা ঠিক করেন হজ্ব করতে যাবেন।ফরজ কাজ রেখে নাকি হজ্ব করা যায়না। তাই ঐ আপুটাকে বিয়ে দিয়ে হজ্বে যাবেন।কিন্তু তিনি বিয়ে করবেন না। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করবেন।শেষ পর্যন্ত তিনি বাবার সাথে পারেন নি।বিয়ে করতে বাধ্য হন।
ওনার বাবা এক প্রবাসীর সাথে বিয়ে ঠিক করে।শত চেষ্টা করেও সে বন্ধ করতে পারেনি।বিয়ের পঁচিশ দিন পর ওনার স্বামী প্রবাসে ফিরে যান।এই পঁচিশ দিনের মধ্যে দশ দিন তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন।স্বামীর সাথে সংসার করেছেন পনের দিন। স্বামী বিদেশে যাওয়ার তিন মাস পর তিনি জানতে পারেন তিনি গর্ভ ধারণ করেছেন।এরি মধ্যে একদিন খবর আসে ওনার স্বামী অসুস্থ। বিদেশে একটানা পাঁচমাস হাসপাতালের থাকার পর এক রকম মুমূর্ষু অবস্থায় দেশে আসেন।ওনি তখন হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে মেয়ে জন্ম দিলেন। দেশে আসার দুয়েক দিন পর ওনার স্বামী না ফেরার দেশে পারি জমান।তখন ওনার মেয়ের বয়স তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে।
মেয়ের এ করুণ পরিনতি সহ্য করতে না পেরে ঐ আপুর বাবা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ওনার স্বামীর মৃত্যুর সাত দিনের দিন।দুমড়ে মুছড়ে যাওয়া মানুষটা তিন মাস পর আবার কলেজে ভর্তি হন। এইচএসসি পাশ করে অনার্স শেষ করেন। সাথে মেয়েকে লালন পালন করেন।এখন মেয়ের বয়স বারো বছর। তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মেয়ে এখন মাকে আর একবার বিয়ে করে সুখী হতে পরামর্শ দেয়।ছোট থেকে তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। তাই এতো খারাপ কিছু মোকাবিলা করে ও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
দুঃখ,কষ্ট,বিপদ জীবনে আসেই,কিন্তু এগুলোর সাথে যুদ্ধ করে যে টিকে থাকতে পারে সেই সফল হয়।আর যে এগুলোর কাছে হেরে যায় সে হারিয়ে যায় বিফলতার চরম গহ্বরে।