আমার মা-বাবার তিন মেয়ে আর এক ছেলে।আমি সবার ছোট ছেলে সন্তান।আম্মার একের পর এক যখন মেয়ে হচ্ছিল,আমার আব্বা-আম্মার তাতে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গ্রামের মানুষ আর আত্মীয় স্বজনের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছিলো,আমার আব্বা-আম্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে করতে।আমার জন্মের আগে,পাশের বাড়ির এক চাচার সাথে আব্বার জমি নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর, তর্কে হেরে গিয়ে শেষে,সে যে বিষাক্ত কথার তীর আব্বার প্রতি ছুড়েছিলো তা হলো,"তুই এই জমি দিয়ে কি করবি,তোর বংশেতো কোনো বাত্তি নাই"।আমি জানি না ঐ ভদ্রলোকরা কেনো আমার তিন বোনকে "বংশের বাত্তি" হিসাবে মেনে নিতে পারেনি।আমার আব্বার বয়স যখন পঞ্চাশের কাছাকাছি তখন অনেক সাধনার পর আমার জন্ম,এক ছেলে সন্তানের জন্ম।তাই আমি যদি একদিনের জন্যও মেয়ে হতে চাই,তবু এটা ভাবার বিষয়,কারণ আমি যদি মেয়ে হতাম তাহলে আমার আব্বা-আম্মাকে না জানি সারাজীবন কতো অপমান সহ্য করতে হতো।
সে যাইহোক,আমার জন্মের পর থেকে আমার তিনবোনের তত্ত্বাবধানে আমি বেড়ে উঠতে থাকি।আমার যখন এক বছর বয়স তখন আমার আব্বা দেশের বাহিরে চলে যান,তাছাড়া পরিবারে আর কোনো পুরুষ ব্যক্তি ছিলো না।যার কারণে আমার উপর ছোট থেকেই শুধুমাত্র আম্মা আর আমার তিন বোনের মন-মানসিকতা,চিন্তা-ভাবনার প্রভাব পড়ে।যার কারণে আমার মধ্যে মেয়েদের কোমল স্বভাব,শান্ত-শিষ্ট থাকা,অদরকারে ঘরের বাহিরে না যাওয়া,খুব বেশি লজ্জা পাওয়া এসব স্বভাব গড়ে উঠে।"দুটি মিথ্যা একটি সত্য" নামক একটি লিখাতে মিথ্যা হিসাবে আমি লিখেছিলাম স্কুলে পড়ার সময় একবার আমি ঝগড়া করেছিলাম,ঘুষি মেরে একজনের নাক ফাটিয়ে দিয়েছিলাম।একজন কমেন্ট করেছিলো,এটাই দুটি মিথ্যার মধ্যে একটি সত্য,কারণ স্কুলে থাকা অবস্থায় বেশিরভাগ ছেলেরা মারামারি করেছে।কিন্তু বেপারটা হচ্ছে এই পর্যন্ত বড় হয়েছি,কারো সাথে মারামারি বহু দূরের কথা,তর্ক পর্যন্ত করিনি।
যতই বাহ্যিকভাবে কয়েকটা স্বভাব,বোনদের প্রভাবে মেয়েদের মতো নরম-কোমল হোক কিন্তু আমিতো ছেলে।সব চিন্তা-ভাবনা ধ্যান ধারণা স্বাভাবিকভাবে ছেলেদের।
সে কথাও থাক, সৃষ্টিকর্তা আমাকে ছেলে হিসাবে সৃষ্টি করেছেন আর এতে আমি সন্তুষ্ট।তবে এটা খুবি একটা আকর্ষণপূর্ণ বিষয় যে নিজেকে যদি কোনো মেয়ের শরীরে প্রবেশ করিয়ে দুনিয়াটাকে দেখতে পারতাম।আমার কাছে এর থেকে বেশি আকর্ষণপূর্ণ মনে হয়, যদি আমার শরীরে আমার মন থাকার সাথে সাথে আরেকটা মেয়ের মন এসে এতে যোগ করাতে পারতাম।তাহলে মেয়েদের মনের চিন্তা-ভাবনা,তাদের ধ্যান-ধারণার সঠিক জ্ঞান পেতে পারতাম।একজন মানুষ ছেলে হোক বা মেয়ে তার কাছে বিপরীত লিঙ্গ খুবি রহস্যময় একটা বেপার হয়ে থাকে।ছেলেরাতো ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে কিন্তু একটা মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তা কখনও সম্পূর্ণ বোঝা হয়ে উঠে না।কোনো ছেলের হয়তো কোনো মেয়ে বন্ধু আছে,সে তার কাছে তার জীবনের খুঁটিনাটি সবকিছু বলে,তারপরও ঐ ছেলেটা ঐ মেয়েটাকে শতভাগ কোনোদিন বুঝতে পারবে না।তাই আমার কাছে মনে হয় এটা খুবি একটা চমৎকার বিষয় হতো যদি কোনো মেয়ের মন আমার মধ্যে প্রবেশ করাতে পারতাম।
তবে এমন যদি হয় একদিনের জন্য আমি বা আমার আত্মা কোনো মেয়ের শরীরে প্রবেশ করানো হলো অর্থাৎ আমিতো ছেলে থাকবো ঠিকই কিন্তু আমার দেহটা হবে মেয়েদের।তখন আমার অনুভূতি কেমন হতো!স্বাভাবিকভাবে মানুষের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে।তো আমি ছেলে হিসাবেতো জানি একটা ছেলের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন,তো আমি যখন মেয়েদের শরীর নিয়ে কোনো ছেলের সামনে যেতাম তখন আমি বুঝতে পারতাম,সেই ছেলেটা আমার প্রতি কি দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে,তার তাকানোর মানেটা কি।একজন মেয়ে ছেলেদের কারণে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয় তা হয়তো আমি সহজে এড়িয়ে যেতে পারতাম কারণ আমি জানি ছেলেদের পরিকল্পনাগুলো কি হয়ে থাকে।
রাস্তাঘাটে মেয়েরা প্রায়ই ইভটিজিং এর শিকার হয়ে থাকে।আমি যেদিন মেয়ের শরীরে প্রবেশ করতাম আর ঐদিন যদি কোনো ছেলে মেয়ের অবয়ব দেখে আমাকে ইভটিজিং করতো তাহলে আমি হয়তো ঐ সময় বুঝতে পারতাম মেয়েদের এক্ষেত্রে কেমন অনুভব হয়।তবে আমি প্রথমেই বলেছি,একটা মেয়ের শরীর কিন্তু মনটা আমার এটা নিয়ে পরিস্থিতিটা বুঝা মুসকিল হবে।কারণ এইযে ইভটিজিং বা ছেলেরা যখন রাস্তাঘাটে মেয়েদের বিরক্ত করে এই বেপারে আমি দুটো মত জানি।একটা মততো স্বাভাবিকভাবে এমন যে,মেয়েরা এতে বিরক্ত হয় আর এটা তাদের জন্য কষ্টদায়ক।আর দ্বিতীয় মতটা নেগেটিভ, আর সেটা হচ্ছে ছেলেরা যখন রাস্তাঘাটে কোনো মেয়েকে বিরক্ত করে,পিছুপিছু ঘুরে তখন মেয়েটা নিজেকে তারকা জাতীয় কিছু একটা ভেবে বসে,এতে সে বিরক্ততো হয়ই না বরং খুশি হয়।আমি জানি না এটা সত্য কিনা,কিন্তু আমার ছেলের মন নিয়ে একটা মেয়ের শরীরে থাকা অবস্থায় কেউ যদি আমাকে এভাবে বিরক্ত করে তখন বেপারটা আমার জন্য অনেক দুঃখজনক হবে বলে আমার ধারণা।
ঐদিন যদি কোনো ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় আমার এই মেয়ের অবয়ব দেখে, তখন আমার কাছে বেপারটা যেমনই লাগুক না কেনো,তবে আমি এটা বুঝতে পারতাম
যে ছেলেটার উদ্দেশ্য কি,সে কোন উদ্দেশ্যে আমাকে এই প্রস্তাব দিচ্ছে,কারণ আমি ছেলে,আমি জানি ছেলেরা আসলে কি চায়।
যাইহোক,তবে আমি কখনওই মেয়েদের শরীরে প্রবেশ করতে চাই না,আমার শরীর আমার কাছে প্রিয়,সৃষ্টিকর্তা আমাকে ছেলে বানিয়েছেন এতে আমি কৃতজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার প্রতি।তবে আমি মেয়েদের মনের ভিতর প্রবেশ করে এর রহস্য উদঘাটন করতে ইচ্ছুক।