যখন আমরা প্রকৃতিকে অবহেলা করি
প্রকৃতি তখনও আমাদের ভালোবাসে
যতই আমরা প্রকৃতিকে দূষিত করছি
প্রকৃতি ততোই আমাদের আগলে রাখে
তবুও আমরা প্রকৃতিকেই বারংবার ধ্বংস করার চেষ্টা করি।
শান্ত ও সৌন্দর্যময় প্রকৃতিকে অশান্ত করে
আবার আমরাই নিরাপদে বাঁচার স্বপ্ন দেখি!
আমরা আধুনিক পৃথিবীর শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষ হয়ে যে স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়ে সমাজ,দেশ,রাষ্ট্র ও মানবসম্পদ ধ্বংসের কারুকার্য দেখে প্রকৃতিও বিস্মিত হচ্ছে সর্বক্ষণ।
অথচ মানুষ জন্ম জন্মান্তর থেকে দেখে আসছে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খড়া, মহামারি ও বড় বড় প্রকৃতিক দূর্যোগসহ কতো ধরনের বিপর্যয়, যা বিভিন্ন সময়ে সময়ে মানবজাতির উপর অঘাত এনেছে।প্রকৃতির দেয়া দূর্যোগ ও বিপর্যয় কতোটা শক্তিশালী ও ক্ষতিকর মানবজাতির জন্য তা আমরা অবশ্যই জানি ও দেখতে পেয়েছি। মানবজাতির কতো দিন, মাস ও বছরের পর বছর পর্যন্ত লেগে যায় এসব দূর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে। তবু আমরা মানবজাতির কতো অহংকার। নিজের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে, মনে রাখবেন “ প্রকৃতির ক্ষমতার কাছে মানুষের ক্ষমতা কিছুই না।”
“ন্যাচার অব রিভেঞ্জ” নামে একটি কথা আমাদের কাছে পরিচিত।প্রকৃতির সহ্য ক্ষমতা অবশ্যই মানব সম্প্রদায়ের চেয়েও অনেক অনেক বেশি। তারপরেও যখন এতোটা সহনশীল প্রকৃতি কতোটা ক্ষতিগ্রস্থ হতে হতে অসহনীয় ও ক্ষিপ্ত হয়ে মানবজাতির উপর আঘাত হানে ও সবকিছুকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে যায়।মানব সম্প্রদায়ের উপর প্রকৃতির দেয়া এই বিরূপ প্রতিক্রিয়াকেই “ ন্যাচার অব রিভেঞ্জ” বলে থাকি। আমরা জ্ঞানী গুণী হয়ে এটাই ভুলে গিয়েছি যে, প্রকৃতির ক্ষমতার কাছে আমরা মানুষ কখোনোই টিকে থাকতে পারবো না। আজ সত্যিই “ জ্ঞানপাপী ” শব্দের যথার্থ বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় সকল জায়গায়, সকল ক্ষেত্রে এবং সর্বস্তরে। আর মানবজাতির এ বেহাল অবস্থা দেখে প্রকৃতিও আজ বিষাধময়তায় ভরে গিয়েছে।
আমরা নিজেদের ভালো থাকার জন্য পৃথিবীর অমূল্যবান প্রকৃতি ও প্রকৃতিক সৌন্দর্যকে আমরা এতোটা দূষিত, ক্ষতিগ্রস্থ ও বিলীন করে ফেলেছি যে, আমরা এখন সবুজ প্রকৃতি আজ খুঁজে বেড়াতে হয় একটু শীতল নিশ্বাস ও মুক্ত বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবার জন্য। মানব জীবন আজ সত্যিই হুমকির মুখে।
আমরা মানুষগুলো রাজত্বের লোভে এতোটাই মত্তো হয়ে গিয়েছি যে, বন-জঙ্গল সবুজ বনানী, নদ- নদী, পাহাড়-পর্বত, সাগর- মহাসাগর িএমনি পশুপাখিদের আবাসস্থলেও মানুষের দৌড়াত্ব। সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করে নিয়ম কানুনের অবাধ্য হয়ে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ, বিশাল বিশাল বাণিজ্য কারখানা ও যে যান্ত্রিক শহরগুলো অনায়াসে সুনিপুনভাবে বুনে যাচ্ছে। মানবজাতির যুগের পর যুগ প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত যে অমানবিক আচরণ করে যাচ্ছে তাতে বিষাধময় প্রকৃতিও আজ বিপর্যস্থ ও নির্বাক হয়ে গিয়েছে।
আমাদের সবার উচিত প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হওয়া ও কার্যকর ভূমিকা রেখে প্রকৃতিকে নিজেদের প্রয়োজনে বাঁচিয়ে তোলা।