সবে পরীক্ষা শেষ হলো। ভেবেছিলাম গ্রামে যাবো কিন্তু হয়তো এখন আর যাওয়া হবে না। আসলে কি , আমাদের পরীক্ষা তো শেষ কিন্তু এখন প্রাকটিক্যাল এর পরীক্ষা বাকি আছে। আমি যতটুকু জানি আমাদের শুধু খাতা গুলো জমা দিলেই হয়ে যেত কিন্তু আজকে আমাদেরকে জানানো হয় , আগামীকালকে স্কুল এ দেখা করতে। আর আমাদের আগামী কালকেই গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল।
আচ্ছা যাই হোক , গ্রামে আজ না হয় কাল যেতে পারবো। কিন্তু আমার জীবনে পরীক্ষাটা তো আর ২য় বার আসবেনা। যদিও অনেক আনন্দে ছিলাম কালকে দেশে যাবো কিন্তু আজ সেটা মাটিতে মিশে গিয়েছে !
প্রায় দেড় বছর ধরে বাড়িতে যাই না। তা প্রায় কোরোনার মহামারীর সময় গিয়েছিলাম। তারপর আর যাওয়া হয়নাই। আমাদের গ্রামটা আসলে বলতে গেলে অনেক সুন্দর। যতবারই যাই ততবারই বুক ভরা স্মৃতি নিয়ে আসি। তারপর আবার হাতের আঙুলে গুনতে থাকি আবার কখন ঈদ আসবে আবার কখন গ্রামে যাবো। আসলে আমরা বেশির ভাগ সময় ঈদের সময়ই বাড়িতে যাই। আর যদি , যাওয়া হয় তাহলে পরীক্ষা শেষে। আর এটাই ছিল আমাদের প্ল্যান। পরীক্ষা শেষ এখন গ্রামে যাবো। কিন্তু এভাবে এমনটা হয়ে যাবে সেটা তো কেউ জানতো না !
আচ্ছা যাই হোক , আমাদের প্রায় সব কিছু গুছানো হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু হটাৎ করে আমার একটা বন্ধু ফোন করে বলে যে কালকে আমাদেরকে স্কুল এ যেতে হবে। প্রথমে ভেবেছিলাম , ও হয়তো মজা করছে। কারণ , আমার অন্য স্কুল এর ফ্রেন্ডদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা বলেছিলো যে শুধু খাতা জমা দিলেই হয়ে যাবে , কিন্তু স্কুল থেকে যখন বলেছে স্কুল এ যেতে তখন তো আর কিছু বলার থাকে না !
আসলে আমি আমার গ্রামকে অনেক ভালোবাসি সেই জন্যই আজ এমনটা হয়। সব সময় বাড়িতে যাওয়ার আগে থেকে অনেক খুশি হতাম। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে নিতাম। এখনও নিয়েছি কিন্তু সব তো ভেঙে গেলো , আচ্ছা যাই হোক , যা হওয়ার তো হয়ে গিয়েছেই। আর আফসোস করে লাভ নাই। আসলে আফসোস করার কারণ হচ্ছে হয়তো এই শীতের মধ্যে মারা আর দেশে যাবই না। আবার হয়তো সেই ঈদের অপেক্ষায়। কিছু করার নেই। যেটা হয়েছে সেটাকেই মাথা পেতে মানিয়ে নেয়া উচিত !
আচ্ছা যাই হোক , আমি হয়তো এতদিন কোনো রকম লেখা লেখি করতে পারিনি। কারণ আমার পরীক্ষা ছিল। এখন হয়তো আপনাদের মাঝে আবার আমার মনের অনুভূতি গুলো শেয়ার করতে পারবো।