একটি কালো রাতের গল্প
সবার জীবনেই কোনো না কোনো একটি দিন তার জীবনের সব থেকে ভয়ংকর রাত হয়ে দাঁড়ায় । তেমনি আমার জীবনে এমন একটি রাট এসেছিলো যার ভয় আজো আমার ভিতরে রয়ে গেছে। আসলে ভয় জিনিষটা এইরকম যে যেটা সব সময় থেকে যায়। আমার জীবনে আমি অনেক কমই ভয় পেয়েছি। কিন্তু একটা ভয়ই আমার জীবনে সব থেকে বড় একটা শক ছিল।
আমরা যখন বাড়িতে ছিলাম তখন আমাদের আর্থিক অবস্থা তেমন একটা সচ্ছল ছিলোনা। আসলে তখন আমাদের ঘরের অবস্থা অনেকটাই খারাপ ছিল। যদি কোনো বড় সর ঝড় আস্ত তাহলেই আমাদের ঘরটা ভেঙে যেত। তখন ছিল বৈশাখমাস। আর বৈশাখমাসেই তো বেশি ভয় থাকতো আমাদের। কারণ সেই সময়ই তো বেশি ঝড় হয়।
ঠিক তার কিছু দিন পরেই দেখি উত্তরের আকাশে কালো মেঘের আভাস এসেছে। আর উত্তরের আকাশে মেঘ দেখে ন্যানো বুঝতে পেরেছিলো আজ হয়তোবা অনেক বড় সরো একটা ঝড় আসবে। তাই আমাদেরকে আগে থেকেই এলার্ট করে দেয় । কিন্তু আমার আম্মু , মামা , নানা তারা এতটা গুরুত্ত দেয়নি নানোর কথাটাকে ।
নানো বলার কিচুক্ষন পর আমাদের ও কেমন কেমন লাগছিলো , যেভাবে আকাশে মেঘের আনোগোনা চলছিল তা দেখে আমাদের ও ভয় লাগতে শুরু করে , যেহেতু আমাদের ঘরটা তেমন সুবিধার না। তার কিছু কখন পর এমন ভাবে ভার্সিটি শুরু হয় যেমন আকাশ থেকে বালতি বালতি করে পানি ঢালা হচ্ছে। আস্ত বৃষ্টি যে সামনে কি আছে সেটাও বলা অনেক মুশকিল।
আস্তে আস্তে বৃষ্টির সাথে এমন বাতাস শুরু হয় তখনি আমাদের উত্তর পাশের টিনের চলা থেকে মট মট শব্দ আসে। শব্দ শুনে মনে হচ্ছিলো যে টিনের চলাটা বুঝি এখন ভেঙে পড়বে। সেই শব্দ শুনে আব্বু , মামা আর নানাভাই শেখাটা দেখতে যায়। গিয়ে নাকি দেখেছিলো টিনের চলা প্রায় উড়েই যাচ্ছে। তারপর আব্বুরা মিলে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল।
ভেবেছিলাম বাধা থাকতে থাকতে ঝড় শেষ হয়ে যাবে কিন্তু সেটা আর হলোনা। আবার আমাদের বান ছুটে চলা উড়ে যেতে শুরু করলো। তখন মামা বলেছিল আম্মুকে আর নানোকে আমাকে নিয়ে খাতের তোলে ঢুকে যেতে। আসলে সেই সময়টা আমার কত যে ভয় লেগেছিল সেটা বলে বুঝানোর মতো না।
তারপর আমি ভয়ে ভয়ে আম্মুর কূলে ঘুমিয়ে যাই। আসলে তখন আমার বয়স ছিল ৫ বছর , তাই স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি ভয় পেয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি সব ঠিক হয়ে গেছে আর ঝড় ও শেষ হয়ে গেছে , এই বারের মতো করে আমাদের ঘর ঝড় থেকে বেঁচে গিয়েছিলো।