বাল্যবিবাহ
আমাদের মত গরিব দেশের জন্য সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের বাল্যবিবাহ রোধ করা। কিন্তু শত চেষ্টার পরেও গ্রাম অঞ্চল দিয়ে বেশির ভাগ মেয়েদেরকে ১৮ বছর হওয়ার আগেই তাদেরকে ধরে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এই বাল্যবিবাহের ফলে তারা মানসিক ভাবে যেমন ক্ষতি গ্রহস্থ হবে তেমনি শারীরিক ভাবেও। কিন্তু আমাদের দেশে তার মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করেই তাদের অনিচ্ছাকৃত ভাব হোক আর ইচ্ছাকৃত ভাবেই হোক তাদেরকে ধরে বিয়ের আসরে বসানো হচ্ছে।
এই বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্য আমাদের সরকার অনেক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু শহরে সেটা মানা হলেও গ্রাম অঞ্চলের দিকে একদমই সেই নিয়মের তোয়াক্কা করে না।যদি পুলিশ জানতেও পারে তবুও তাদেরকে টাকা দিয়ে হাত করিয়ে নেয়। এভাবে চিন্তা করলে হবে না, তাদেরকে তার সন্তানের কথা চিন্তা করতে হবে। এছাড়াও আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের সাথে সাথে যৌতুক এর জন্যও মেয়েদেরকে নানান ভাবে টর্চার করা হয়।
একজন অবুঝ মেয়েকে যখন অত্যাচার করা হয় তখন সে কি করবে সেটা বুঝতে পারেনা। তখন সে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়। আর এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী তাদের বাবা মা। তাদের মেয়ে শিক্ষার আলোয় সুশিক্ষিত না করার কারণে সে তার সঠিক পথ চিনতে ভুল করে।
এবং হুট করে তারা আজে বাজে চিন্তা ভাবনা মাথায় নিয়ে আসে। আমাদের উচিত আগে তাদেরকে সঠিক পথ চেনার জ্ঞান দেন করা। যাতে যে কোনো জায়গায় সিদ্ধান্তে আটকাতে না পারে।
বর্তমানে আমাদের দেশে যে আতঙ্কে যাচ্ছে সেটার আতঙ্কের তো কোনো সীমা নেই। আর সেই আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে এখন আবার বাল্যবিবাহের হার প্রায় ২২% বেড়ে গাছে। গ্রামীণ এলাকায় বাবা মায়েরা তাদের সংসার টিকাতে না পাড়ায় তারা তাদের মায়েদেরকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। আর তার ১৮ বছর হোক আর নাই হোক সেটা তাদের দেখার বিষয় না। তারা বিয়ের সম্মধোন আসলেই কোনো যাচাই বাচাই না করেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।
আমরা যখন গ্রামে যাই তখন দেখি আমাদের পাশের বাড়ির এমনি একটা পরিবার তাদের অসচ্ছলতার কারণে তারা তাদের ১৩ বছরের মেয়ে বিয়ে দিতে যাচ্ছে। অনেক খুজার পর তারা একটা ৩০ বছর বয়সী একজন পাত্র পায়। তাও আবার বেকার।
তারপর তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক হলে যে দি বিয়ে হবে সেই দিন যে কাজী এসে বলে আমি এই বিয়ে করাতে পারবোনা। কারণ মেয়ে এখন অনেক ছোট। পুলিশ জানতে পারলে তাকে জেলে নিয়ে যাবে !
তারপর সেই কাজী চলে যাওয়ার পর তারা একজন হুজুর এনে তাদেরকে বিয়ে চিন্তা করে। কিন্তু সেই কাজী অনেক চালাক ছিল। সে যখন বিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় তখন সে পুলিশকে ফোন দেয়। এবং বিয়ের সময় পুলিশ এসে বাধা দেয়। তখন দেখলাম মেয়ের বাবা আর তারা জরিমানা করেছে আর বাল্যবিবাহের কারণে তাদের মেয়ে কি কি সমস্যায় পড়তে পারে সে সম্পর্কে তাদেরকে জ্ঞান দিচ্ছে।
আমার মতে সব বাবা মায়েদেরকে এই বাল্যবিবাহের ক্ষতি গুলো বুঝানো উচিত যদিও এটা অনেক কষ্ট কর। তবুও তারাতো আর সেই নিয়ম বা আইন মানছে না। তাই আমার মতে তাদেরকাছে এর ক্ষতিকর দিক গুলো তুলে ধরলে হয়তোবা এটাকে রোধ করা যাবে , আর না হয় এমন ভাবে অনেক মেয়েদের জীবন এভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে।
Image :- Link