ব্যর্থতা শব্দটা আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কারণ আমাদের সাফল্যের গল্পটা ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয়। আবার অনেকেই হয়তো ব্যর্থতার কারণে নিজের লক্ষ্য গুলোকে বিসর্জন দিয়েছে। আসলে ব্যর্থতা হচ্ছে সাফল্যের সব থেকে বড় একটা অংশ।
আপনি যখন কোনো কাজ করতে যাবেন আর যদি আপনার সেই বিষয়ে আগে থেকে কোনো ধারণা না থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই ব্যর্থ হবেন। আর এই ব্যর্থতার যথাযত কারণ এবং সেই ভুলটাকে যে শুধরাতে পেরেছে সেই পৃথিবীতে বড় হতে পেরেছে। আপনি যদি কোনো সাফল্যের বই পড়েন তাহলে সেখানে অবশ্যই আগে ব্যর্থতাকে উল্লেখ করা হবে।
আপনি যদি আমাদের চার পাশে লক্ষ করেন তাহলে আমাদের সমাজে কতজন বড় কিছু হতে পেরেছে ? তাদের মধ্যে সবাই কি তাদের জীবনের লক্ষ্য গুলোকে পূরণ করতে পেরেছে ? উত্তর অবশ্যই না হবে। আসলে আপনার যে সাফল্য সেটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছা শক্তির গভীরতার উপর নির্ভর করে।
ইচ্ছা শক্তির গভীরতা বলতে আমি বুঝাচ্ছি যে ইচ্ছা তো সবারই থাকে , অনেক বড় হবে , অনেক টাকা ইনকাম করবে। কিন্তু কতজন সেটাকে বাস্তবায়ন করতে পারে ? যার ইচ্ছা শক্তির গভীরতা যত বড় তার জীবনে সাফল্য হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। সম্ভাবনা বললে ভুল হবে , কারণ মানুষ ইচ্ছা করলে সবই পারে। শুধু তার আত্মনির্ভরশীলতা , উচ্চ আকাঙ্খা আর মনুবল।
যদি সফল্যের গল্পে ব্যর্থতা না থাকতো থামলে হয়তো পৃথিবীর সবাই তাদের জীবনের সাফল্য অর্জন করতো। এখানে সব থেকে বড় কথা হচ্ছে আপনার ব্যর্থতার কারণ গুলি খুঁজে বের করতে হবে। আপনি যদি শুধু ভুল করেই যান , আর ভুল গুলো থেকে কোনো শিক্ষা না নেন তাহলে তো জীবনে আগানো যাবে না। সব সময় নিজের ভুল গুলোকে শুধরানোর মাদ্ধমেই আপনি জীবনের আগাতে পারবেন। আর সত্যি কথা বলতে আমাদের এই সাফল্যের পিছনে সব থেকে বড় একটা ভূমিকে রাখে আমাদের পরিবার , আমাদের সমাজ।
আমাদের সমাজে সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো কাজে ব্যর্থ হয় তখন আমাদের সমাজ তাকে উৎসাহ / ভরসা না দিয়ে তাকে নিরুৎসাহিত করে যেটা হয়তো তার জীবনে বড় হওয়ার পথে সব থেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের সমাজ অনেকই এমন নিন্দার শিকার হয়ে নিজেদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে।