তুমি যখন নরম বিছানায় আরাম করে ঘুমে বিভোর , আমি তখন মুখের অন্নকে ঠিকভাবে আগলে রাখতে বাড়ির আঙিনায় নিদ্রাহীন সময় পার করছি । এ ফসল শুধু আমার পেটের ভাত জুটিয়েই ক্ষান্ত হবে না এর মাঝে আমার সমস্ত ছোটখাটো দায়িত্ব গুলোও লুকায়িত আছে , যেমন ধরুন ছোট মেয়েটার আবদার তার এবার গোলাপি রঙের জামা চাই সঙ্গে আবার গোলাপি রঙের জুতোও কিনে দিতে হবে । বউয়ের আবদারটা না হয় অজানাই থাকুক ।
আসলে পুরুষ মানুষ বলে কথা , দায়িত্বভার তো গ্রহণ করতেই হবে । তাই পাহারা দিতেই হবে এর সঙ্গে কোন আপোস করলে চলবে না । জীবনটা সত্যিই অদ্ভুত জায়গা এবং স্থানভেদে । গল্পটা আমার না, গল্পটা হচ্ছে সেই মানুষটার যে কিনা পাহারা দিচ্ছে । আমার মাঝে মাঝে মনেহয়,পৃথিবীর এখনো অনেকটা রূপ দেখার বাকি আছে ,তাই থেমে থেমে অনেক সময় হুটহাট দমকা হাওয়ার মতো এইসব দৃশ্য আমার চোখে ধরা দেয় ।
একটা বার ভাবুন তো এই মহামারিতে যখন আমি আপনি নিজের নিরাপত্তার জন্য কত কিছুই না করছি সেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে সাবান-পানি , ঘরবন্দি ও মুখোশ পরে থাকার ব্যাপারটাতো আছেই । ঠিক সেই সময়ে মুদ্রার উল্টো পিঠটা দেখায় ব্যস্ত এই মানুষগুলো ।
জমিতে ধান পেকেছে সে গুলো মাড়াই করা থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত পুরো সময়টা যেন তাদের কাছে যুদ্ধের মতো , এই সময় তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই, শত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে (ঝড়+বৃষ্টি) উপেক্ষা করে যুদ্ধে জিততেই হবে,এটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য । সেখানে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান-পানি তা নিতান্তই হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই না । খাঁটি সত্যি কথা বললাম, হয়তো একটু তিতা লাগতে পারে ।
এই মানুষগুলোর এখন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সময় চলে এসেছে তাদের পরিশ্রম যেন বৃথা না যায়, তাদের সকল মনোবাসনা যেন পূর্ণ হয় এবং তাদের সকল লুকায়িত স্বপ্ন গুলো যেন বাস্তবে রূপ পায়, এই প্রার্থনাই থাকবে সৃষ্টার কাছে । এই মানুষগুলোর বেশি কিছু চাওয়ার থাকে না , ওরা শুধু ফসলের ন্যায্য মূল্য চায় ।
পরিশেষে ভালো থাকুক ওই নিদ্রাহীন মানুষগুলো এবং ভালো সময় কাটুক তাদের !!