সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যে সৌরদিবস শুরু হয় এই সৌর দিবসের ৩৬৫ দিন নিয়ে যে বর্ষপঞ্জিকা সেই বর্ষপঞ্জিকার আজকে প্রথম দিন। ঐতিহ্যমন্ডিত এই সৌরপঞ্জিকার প্রথম দিন বাঙালী জাতির ১ লা বৈশাখ। বাংলা নবর্বষ বা পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতির শেষ নেই। সূর্যদয়ের সাথে সাথেই দিন ব্যাপি বিভিন্ন ধরেনরে বাঙালী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাঙালী সংস্কৃতি চার্চা করি। এই পহেলা পহেলা বৈশাখের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক র্তক বির্তক রয়েছে। আমাদের অনেকেই এটাকে হিন্দু সংস্কৃতি হিসেবে ধরে নিয়ে ইসলামী ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বেদাত বলে থাকি।
বাংলা নবর্বষ বা পহেলা বৈশাখকে এমন সব পূজা, অগ্নিস্নান, মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান ও ব্রাহ্মীয় রাবিন্দ্রীক বৃত্তের মধ্যে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এতে বোঝার কোন উপায় নেই যে, তাহওহীদ বাদী আমির শাহ ফতেহউল্লাহ সিরাজিই বাংলা নবর্বষর প্রবর্তক ছিলেন। আমরা নিজেকে অনেক বড় বাঙালী বলে প্রচার করি বা চেতনাবাজী করি। কিন্তু অনেকেই আমির শাহ ফতেহউল্লাহ নামেই শুনি নিই। বঙ্গাব্দের বিকাশ বা উন্নয়নে ফতেহউল্লাহ সিরাজিকে বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায় না। তিনি ছিলেন একাধারে চিকিৎসক, দার্শনিক, গণিতবিদ, ইসলামী আইনজ্ঞ, প্রকৌশলি সহ আরো অনেক বিষয়ে পন্ডিত।
ফতেহউল্লাহ সিরাজি মোগল সম্রাট আকবরের জন্যে কাজ করতেন। মোগল সম্রাট আকবল উনাকে যথেষ্ট সন্মান দিতেন। সম্রাট আকবর হিজরী চন্দ্রপঞ্জিকাকে সৌরপঞ্জিকায় রূপান্তরের জন্য ফতেহউল্লাহ সিরাজিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
বাঙালী মুসলমানদের আত্মপরিচয়ের বা ফতেহউল্লা সিরাজির মত তাওহীদবাদিরে মাধ্যমে যে বর্ষপঞ্জিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল তার শেকড় ছিড়তে শুরু হয়েছে উনিশশো ষাটের দশকে বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের মাধ্যমে। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা হলেন নাস্তিক ওয়াহিদুল হক ও সনজিদা খাতুন। এরা দুজনেই বাঙালী সাংস্কৃতি বলতে উনশি শতকের কলকাতা কেন্দ্রীক বাবুদের সংস্কৃতিকেই বুঝতেই। সাথে রবীন্দ্রনাথ কতৃর্ক প্রচলিত শান্তিনিকেতনের ব্রাহ্মধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি। রমনার বটমূলে দিনের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের আবাহনী সংঙ্গীত ও সূর্জপূজার ভঙ্গিতেই অনুষ্ঠান চালু হয়।
বাংলা ভাষা এক হলেও বাঙালী মুসলমানদেরও যে আলাদা একটা সংস্কৃতি আছে তারা সেটা কখনই মানতে চায় নিই। এমনকি তারা পহেলা বৈশাখ ও মুসলমানদেরকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছ। এইসব অনুষ্ঠান বা সংস্কৃতি গুলোকেই তারা বলে হাজার বছরের সংস্কৃতি। অথচ এর কোনটিই বাংলা নববর্ষের প্রর্বতক শাহ ফতেহউল্লাহ সিরাজি ও মোগল সম্রাট আকবরের কেহউ করেন নিই। এমনকি নববর্ষের এই অনুষ্ঠান গুলোতে এদের কারোই নাম নেওয়া হয় না। এদের নাম কেনই বা নিবে। এদের নামে মুসলমানের গন্ধ আছে। এই নাম গুলো মুখে নিলে নিশ্চিত জাত যাবে। এই নাম গুলো মুখে নিয়ে মঙ্গল সোভাযাত্রায় অমঙ্গল চায় না। এই দুজন প্রর্বতকের নাম নিলে তারা যেই সংস্কৃতিকেই হাজার বছরের সংস্কৃতি বলে দাবি করছে সেটার কোন ভিত্তি থাকে না। এরা আবার এখন নেমেছে ভাষা সংস্কার, শব্দের সংস্কারে। যে ভাষা এই জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের চিন্তা চেতনা , মন মনন, বোধ বিশ্বাসের মাধ্যেমে গড়ে উঠেছে সেই ভাষাকে তারা কৌশলে ইসলাম বিরোধী চিন্তা চেতনায় সংস্কার করতে চাচ্ছে।