আমরা সবাই কিছুদিন আগে পেপার পত্রিকায় দেখলাম এক জনপ্রতিনিধি কয়দিন আগে ধানকাটার ফটোসেশানে গেছেন। বেশ পোজটোজ দিয়া ধান কাটা শেষে দু চারটা লেকচার ও দিলেন। কিন্তু সবাই দেখলো এই লোক আসলে কাঁচা ধান কাটতেছে! এই ভিডিওটা ফেসবুকে ভাইরাল । আর সেটা শেয়ার দিয়ে মগহা বিপদে পরেছিল এক তরুণ। গ্রেফতার হইতে হইছে সেই তরুণরে। অভিযোগ সে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালাইতেছে। জনা গেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তারে গ্রেফতার করা হইছে। বো**দা সাংসদ হাস্যকর একটা আকাম করলো সেইটা দোষের কিচ্ছু না, দোষ সেইটা নিয়া বলা, চোখে আঙুল দিয়া দেখায়া দেয়ায়!
এবার আসি চলমান করোনা ক্রাইসিসে সবচেয়ে বড় ঘটনা এন-৯৫ মাস্ক কেলেংকারি। সরকারের বড় বড় রাঘব বোয়াল এই আকামে জড়িত ছিল। তাদের দূর্নীতির কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর ডাক্তার-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হইছে। অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আক্রান্তের কারনে। মন্ত্রনালয় বলে দিলো কেউ মাস্ক নিয়া সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে পারবে না। কোনো বিষয় নিয়াই অনুমতি ছাড়া কথা বলতে পারবে না। বললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হবে। ফেসবুকে লিখলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে! বুঝালেন কিছু?
সমালোচনা মানেই কি সবসময় পুটুতে আঙুল দেওয়া? আপনার আদর্শ যদি ঠিক থাকে, সৎ থাকে, তাইলে সমালোচনা আপনারে পথ দেখাবে। আপনে আপনার সমস্যার সমাধান টানতে পারবেন। ঘাটতিগুলা ঠিক করতে পারবেন, অযোগ্য লোকগুলা সরাইয়া যোগ্য মানুষরে দায়িত্বে আনতে পারবেন।
কিন্তু উল্টা পথে হাঁটছেন আপনি। সেইটা না কইরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সুরক্ষা নিয়া যা খুশী তাই কইরা বেড়ানোর ফায়দা খুঁজছেন। তবে এতে সাময়িক সুবিধা হইলেও আখেরে বিপজ্জনক। এখন এইসবের কারণে অনুপ্রাণিত হইয়া অবস্থা এমন দাড়াইছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংসদ মিডিয়ায় হুমকি দিয়েছিল তার জেলারে সমালোচনা কইরা কেউ কিছু কইলে মামলা খাবে। কেউ চুরি করলে সেটাও বলা যাবে না, উল্টা মামলা খাইয়া জেলের মোটা চাউলের খাইতে হবে।
এইসব দিয়া কি প্রমাণ করবেন বুঝলাম না। উল্টাপথে হাঁটতেছেন ভালো কথা। সোজা কি হতে পারবেন?
কিছু দিন আগে কিশোরের কার্টুনে এমন কি ছিলো যা আপনাদের সরকারবিরোধী মনে হয়ে তাকে গ্রেফতার করেছিলেন? বিডিনিউজের রিলেটেড ছবিতে দেখলাম এক লোক একটা থালা হাতে দাড়ায়া আছে, সেখানে মাস্ক পরা করোনা ভাইরাস তার দিকে ভ্রুকুটি দিতেছে! এরেই ফলাফল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তারে গ্রেফতার। আরো অনেক জনকেই গ্রেফতার করা হইছে ।
এই যে আমার উপজেলায় দশ দিন আগের করোনা নমুনা সংগ্রহ করে দশ দিন পর রিপোর্ট দিলেন। এই রিপোর্ট নিয়ে কি করবো?
নিউজে দেখলাম চট্রগ্রামে নমুনা সংগ্রহের ১৫-২০ দিনেও করোনার ফলাফল আসে নিই।
বাংলাদেশে প্রতিদিনে দেখলাম টাকার জন্য করোনা রোগীর মৃত লাশ দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখছে।
চাল চোর, তেল চোর, ত্রান চোরদের কথা তো বাদেই দিলাম।
তো জনগনরে কি করতে হবে?
জজনগণ কি নাচবে?
চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে গান্ধীজির বানর হইয়া নাচতে হবে?
নাকি সারাদিন সুর করে গাইবে- 'যায় যদি যাক প্রাণ, হীরক রাজাই ভগবান'!