খুব করে লিখতে ইচ্ছা করতেছে কিন্তু সমস্যা ঐ একটাই কোন বিষয়ে লিখবো খুঁজে পাই না। আসলে অথর্ব লেখক বলে কথা। তবে মজার একটা বিষয় হচ্ছে যখন টপিক খুঁজে পাই না তখন বউকে নিয়ে একটু ভাবতে থাকি। কারণ যখন কেউ থাকে না তখন বউ থাকে পাশে। সত্যিই কোন না কোন টপিক চলে আসে। আসলে এই মাসটা বউকে নিয়ে লিখতেই হয়তো দিন শেষ হয়ে যাবে।
আসলে আমি ভাই অথর্ব মানুষ বউ রীতি মত বিরক্ত আমাকে নিয়ে। আমার দাড়ায় কোন কাজ হয় না তার। বাজার খরচ করতে দিলে কোন না কোন কিছু রাখেই আসি। আসলে লিস্ট করে দেয় বউ কিন্তু বাজারে গেলে লিস্ট কোন না কোন দোকানে ভূলে রাখে দেই। এভাবেই চলছে দিনকে দিন।
কিন্তু এভাবে আর কত। সীমার ও তো ধৈর্য্য আছে ও সরি ধৈর্য্যের ও তো সীমা আছে। ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গিয়ে বিরক্তির গলায় বউ বলে উঠলো আমি বলেই তোমার সংসার করছি অন্য কেউ হলে ঝাটা পিটা করে হয় নিজে বার হয়ে যেত না হয় তোমাকে বার করে দিত। আচ্ছা বলতো তুমি এমন কেন?
আসলে মাথার উপর সংসারের চাপ, তার উপর তোমার মত একটা বউ কেমনে সামাল দিচ্ছি তুমি ভাবতে পারতেছো? আমি ভুলবো না তো কে ভুলবে। অন্য কেউ হলে তো এতো দিনে আরেকটা বিয়ে করে ফেলতো। বিশ্বাস করেন এই কথাটা মুখ থেকে ভূল করেই বার হয়ে গেছে। না হলে এতো বড় ঝুঁকি তো আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব না। জানেন তো বন্দুকের গুলি আর মুখের বুলি একবার বার হয়ে গেলে আর ফেরত আসে না।
মা আর বউ পাশাপাশি বসে পেঁয়াজ কাটছে। আমার কথা শুনে বউ বড় বড় চোখে আমার দিকে এক দুই সেকেন্ড দেখার পর। হৃদয় ভাঙ্গা মন আর জলে ছল ছল চোখ নিয়ে মায়ের দিকে তাকাতেই মা বলে উঠলো নবাবজাদা বিয়ের আগেই তোকে কোন কিছু বাজার করতে দিয়ে সেটা এখন পর্যন্ত পাই নিই আর তুই আমার লক্ষী বউটাকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছিস। মা ঘোষনা দিয়ে দিল তোর আজকে খাওয়া বন্ধ। এদিক বউয়ের ও মনটা একটু ভালো হল। দুজনে বাধলো জোট, আমিই পরলাম মহা বিপদ।
মহা বিপদ সংকেত, আসন্ন বিপদ দেখে আসতে করে ঘুরে জিহ্বায় দাঁত দিয়ে কামড় দিয়ে বেরিয়ে পরলাম। সেখানে আর এক মুহুর্ত থাকা ঠিক হবে না।
সোজা কলিমুদ্দিন চাচার মুদি দোকানে গিয়ে উচ্চ স্বরে চাচা এক প্যাকেট বিড়ি দেন। সব সময় একটু এদিক সেদিক ময় মুরুব্বি দেখে বিড়ি নিলেও আজকে এমন ভাবে নেওয়াতে চাচার একটু সন্দেহ হল, বাবা কিছু হইছে নাকি? আরে চাচা দেন তো, এতো কথা কেন জিগান বলেই চাচার হাত থেকে বিড়ির পেকেটটা নিয়েই হাঁটা দিলাম। কোথায় জানি না।
অন্ধকার গড়িয়ে রাত, অনেক রাত। বাসায় যেতে হবে, একটু ভয়ে আছি সাথে অভিমান ও আছে বউ একবার ও ফোন দিল না। হয়তো সে এখনো রাগেই আছে। আসলে আমি একটু বেশিই করে ফেলেছি। সবাই হয়তো ঘুমিয়ে পরেছে। আমি দেওয়াল টপকিয়ে বাসায় ঢুকে পা চিপে চিপে হাটছি যাতে কোন আওয়াজ না হয়। এদিকে খিদায় অবস্থা খারাপ, আমি পুরাই কুপকাত। শুধু বিড়ি খেয়ে কি আর সারাদিন রাত পার করা যায়? সোজা ফ্রিজে গিয়ে খাবার বার করে মুখে দিতেই রসুন আদা বাটা ভূল করে খেয়ে ফেলেছি। তরি ঘরি করে ঐভাবে রাখেই পানি খেয়ে রুমের মধ্যে ঢুকতেই বউ জোড়ায় ধরে সেই কান্না, কোথায় ছিলে তুমি সারাদিন। কপালে আলতো একটা চুমু দিয়ে কিছু তো খাও নিই তুমি। আমি একটু না হয় রাগ করেছি তাই বলে তুমি এভাবে চলে যাবে? আমিও রীতিমত কেঁদে দিব দিব।
তার পরের কাহিনী আর শুনতে চাইয়েন না। অন্যের বেড রুমের গল্প না শুনে নিজেই সেরে ফেলুন বিয়েটা।