প্রেত নাটকটা মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের উপন্যাস এর উপর নির্মিত। নাটকটা আমার জন্য একটা নস্টালজিয়া। সম্প্রতি জনপ্রিয় বাংলাদেশী ইউটিউবার বাটফিক্স এর রাহাত রহমানের জন্য নাটকটা আবার দেখা হয়। ছোটবেলায় নাটকটা দেখেছিলাম ২০০১ সালের দিকে। তখন কিছুই বুঝতে পারিনি। পরে আরেক্টু বড় হবার পর বইটা পড়া হয়। তখন বইটা পড়ে বেশ ভয় পেয়েছিলাম, বলতেই হয়। বইটার পিডিএফ পাবেন এইখানে।
নাটকটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা হরর সিরিজের একটি। ২০০০ সালের দিকে নির্মিত এই নাটকের ডিরেকসন, স্টোরি টেলিং, সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয় সবকিছুই অবাক করে দেয়ার মতো। নাটকটা ১১টা পর্বে বিভক্ত। নাটকটিতে অতিপ্রাকিতিক বিষয়গুলো খুবিই রোমাঞ্চকর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পুরো নাটকটি দেখতে ৩ ঘন্টার মতো লাগবে। তাই আপনি চাইলে আগে এইখান থেকে নাটকটি আগে দেখে নিতে পারেন।
এই হরর সিরিজের
- লেখক- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
- নির্দেশনায়- প্রয়াত আহীর আলম
- অভিনয়ে- আহমেদ রুবেল
হুমায়ূন ফরিদী
রিচি সোলায়মান
ও অন্যান্য
চেষ্টা করবো যাতে বিশেষ কোনো স্পয়লার না থাকে। তবুও
স্পয়লার এলার্ট।
গল্পের মূল চরিত্র রুমি অর্থাৎ আহমেদ রুবেল, গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানে পড়ছে। নাটকের শুরুতেই দেখা যায় রুমির চরিত্রের সরলতা ও তার জ্ঞ্যান এর পিপাসা। আরেকটি বিষয় ও ফুটে ওঠে সেটা হলো রুমির চায়ের প্রতি ভালোবাসা। এই জ্ঞান পিপাসা ও চায়ের ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই রুমির সাথে পরিচয় হয় কিবরিয়া ভাই অর্থাৎ হুমায়ূন ফরিদীর সাথে।
রুমি সহজ সরল। কিন্তু মফস্বলে বড় হওয়া, ইংরেজি বলতে না পারা রুমি প্রচণ্ড স্মার্ট,কৌতূহলী ও ভাবুক প্রকৃতির ছেলে। যার বইয়ের প্রতি চরম টান। এই বইয়ের লোভেই তার সাথে কিবরিয়া ভাইয়ের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিবরিয়া ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষক। কৌতূহলী রুমি তার এক বন্ধুর কথা শুনে চলে যায় মতিঝিলে জ্যোতিষী এম এম জোয়ার্দার এর কাছে। রুমী কৌতূহলী, কিন্তু জোতির্বিদ্যা বিশ্বাস করে না। তাই কিবরিয়া ভাইয়ের কথায় সব ঘুচিয়ে দেখতে শেষ পর্যন্ত যায় জ্যোতিষী এম এম জোয়ারদার এর কাছে। এই সিদ্ধান্তটা ছিল রুমির জীবনের অনেক তাৎপর্যপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত। শুরু হয় কাহিনীর মোড় নেয়া, আস্তে আস্তে এক ভয়ংকর ও রোমাঞ্চকর পরিবেশের সৃষ্টি হতে থাকে।
জ্যোতিষী এম এম জোয়ার্দার এর চেম্বারে গেলে রুমির হাত দেখেই চমকে উঠেন। তিনি হাত দেখেই রুমির জীবনের আদ্যোপান্ত বলে দেন। রুমিও অবাক হয়। কিন্তু সাথে সাথে মুখোশ খুলতে থাকে জ্যোতিষী এম এম জোয়ার্দারের। এই সব জ্যোতির্বিদ্যা, হাত দেখা, সবকিছুই ছিল সাজানো। সবকিছুর মূলে ছিল শয়তানের উপাসনার জন্য একটা মিডিয়াম খোঁজা। রুমিই সেই মিডিয়াম।
সহজ সরল বেচারা রুমি এসবের কিছুই বুঝতে পারে না। জোয়ার্দের দল ওকে সবসময় চোখে চোখে রাখে। একদিন সুযোগ বুঝে রুমিকে তুলে নিয়ে যায়। সেই সাথে শুরু হয় ওদের লুসিফারের উপাসনা। রুমির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওকে আটকে রেখে তারা প্রস্তুতি নেয় লুসিফারের উপাসনার। সে এক তুমুল্কান্ড। শিয়ালের চর্বি, পুতুল বাঁদুরের রক্ত থেকে শুরু করে বাচ্চা ছেলের বিসর্জনও এই উপাসানার অংশ।
ভয়ঙ্কর এই উপাসনায় লুসিফার হাজির হয় মিডিয়াম রুমির উপর। রুমির উপর ভর করা লুসিফারকে কেন্দ্র করেই সব আয়োজন সব প্লান। রাতভর এই উপাসনা শেষে ভোরে রুমির হুশ আসে। সুযোগ পেয়েই রুমি দৌড়ে পালিয়ে যায়।
রুমিকে পরে বেহুশ ও হালকা মানসিকভাবে বৃকিত অবস্থায় পায় পুলিশ। রুমির ব্যাগ থেকে খোঁজ মেলে কিবরিয়া ভাইয়ের।
কিবরিয়া ভাই রুমিকে দেখতে আসে ঢাকা মেডিক্যালে। রুমির মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। কোমায় চলে যায় রুমি। অনেক অপেক্ষার পর জ্ঞ্যান ফিরে রুমির।
এবার কাহিনী অন্যদিকে মোড় নিতে থাকে। রুমি আবিস্কার করে তার মাঝে এক বিশেষ ক্ষমতা। সে খারাপ মানুষের বা অপরাধীদের মনের কথা শুনতে পায়। এমনকি অপরাধী শহরের অন্যপ্রান্তেই থাকুক না কেনো! এই বিশাল ক্ষমতা নিয়ে রুমি পরে বিপাকে। তার মনে হয় সে যে অপরাধীদের দেখছে, অপরাধ করতে দেখছে, দেখলে মনে হয় সে নিজেই এই অপরাধ গুলো করছে।
এরই মাঝে রুমি এক অপরাধীকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। সে যখন এই ক্ষমতার ভারে নুয়ে পরছে তখন তার সাথে দেখা হয় এক বয়স্ক ব্যক্তির। সে রুমিকে বুঝায় এই ক্ষমতা চাইলেই রুমি নিজের আয়ত্তে আনতে পারে। বরং রুমির উচিত এই ক্ষমতা ব্যাবহার করে অপরাধীদের জন্মের শিক্ষা দেয়া। কেননা, এই ক্ষমতা সবার থাকে না।
শেষে দেখা যায় রুমি তার ক্ষমতাকে আয়ত্তে এনে, বরং ক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যাবহার করে এক সিরিয়াল কিলারকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। এইভাবে সুন্দর একটা টুইস্টের মাধ্যমে শেষ হয় নাটকটি।
গল্প বা নাটকটা প্রথমে কিছুটা ভৌতিক এবং পরে সুপার পাওয়ার একটা প্লটের উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
আমার দেখা ও জানা ভালো বাংলা হরর নাটকে বা গল্পের সংখ্যা খুবই কম। আপনাদের কোনো পছন্দের হরর নাটক গল্প বা উপন্যাস থাকলে জানাবেন। আমার কিছু হরর গল্প লিখা আছে। এর মাঝে একটা পড়তে পারবেন এইখানে। এইটা ভালো লাগলে আরেকটা পাবলিশ করবো।
আজ এই পর্যন্তই। ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।