জামাল মিয়া একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী। কিন্তু বড়শি দিয়ে মাছ ধরা একমাত্র শখ। দিন শেষে আর যাই করুক না কেন মাছ ধরতে ঠিকই বেরিয়ে পড়ে। এটা যেন তার দৈনন্দিন কাজ। সারাদিন কাপড়ের হাট করে, বিকেলে ব্যাগে করে কয়েকটা বড়ছি, একটা টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। মাছ ধরায় জামাল মিয়া রীতিমতো আসক্ত।
শুক্রবার, আজকে কাপড়ের বিশাল হাট। সকাল থেকেই জামাল মিয়া কাপড় গোছানোতো ব্যস্ত। কালকে তাতীঁরা যা কাপড় বুনছে সেগুলো এখনো গোছানো হয়নি। তাই জামাল মিয়া তার ছেলে শাকিবকে সাহায্য করতে বলবো। ৬০ পিস শাড়ি কাপড় আর ১২০ পিস লুংগি গাড়ির পিছনে শক্ত করে বেঁধে নিলো। জামলা মিয়ার বয়স ৫০ বছরের মতো হবে। এখন অনেক শক্ত মানুষ। নিজের বাইকের করেই কাপড় নেওয়া আনা করে। প্রতিদিনের মতো আজকে তাকে সন্ধার আগে ফিরতে হবে। মাছ ধরতে যেতে হবে যে তাকে।
কাপড়ের হাট সবদিন সমান যায় না। কোন কোন দিন তাকে বেশির ভাগ কাপড় নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়। সব কাপড় বিক্রি হয় না। আজকের হাট টাও কেমন মরা মরা লাগছে তার কাছে। কাপড়ের পট্টিতে চাটাই পেরে বসে আছে, কোন ক্রেতা নাই। জামাল মিয়ার আবার কয়েকজন রেগুলার ক্রেতা আছে যারা প্রতি হাটে তার কাছ থেকেই কাপড় কিনে নেয়। আজকে নিয়মিত ক্রেতাদেরও মাত্র একজন এসে সামান্য কিছু শাড়ি কাপড় নিয়ে গেলো। আর বলে গেলো, "কাপড়ের বাজার খুব ভালো যাচ্ছে না জামাল মিয়া"
জামাল মিয়াকে কিছুটা হতাশ লাগছিলো। কারন কাপড় বিক্রি করে টাকা নিয়ে সেই টাকা থেকে কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। দুপুর ১২ বেজে গেছে এখনো কোন ক্রেতা আসছে না। তার রেগুলার ক্রেতারাও আসছে না। আশেপাশের কাপড় ব্যবসায়ীদের ও একই অবস্থা। মুখ গোমড়া করে বসে আছে। জামাল মিয়া বড় ছেলে ইউনুস কে ফোন দিয়ে হাটে আসতে বললো।
ইউনুস বড় ছেলে হিসেবে তেমন দায়িত্বশীল না। কাজে অবহেলা করে, একটু অলস টাইপ আরকি। ছেলের উপরেও জামাল মিয়া হতাশ, তাকে কোন কাছে ইচ্ছে করে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। ইউনুসের চেয়ে ছোট ছেলে শাকিব অনেক বেশি দায়িত্বশীল।
বড় ছেলে ইউনুস আর জামাল মিয়া বিকেল ৪টা পর্যন্ত বসে রইলো নিয়মিত ক্রেতার বাইরে কেউ আর কাপড় নেয়নি। বেশির ভাগ কাপড় ফিরিয়ে নিয়ে বাড়ি আসলো জামাল মিয়া। কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়ে চিন্তিত আছে সে।
সন্ধা নামতে শুরু করতে না করতেই বেরিয়ে পড়লো ব্যাগ ভর্তি সুত বড়শি নিয়ে। পাশের নদীর পাড়ে নির্জন জায়গায় গিয়ে বসলো। বড়শিতে টোপ লাগিয়ে ঢিল দিয়ে বসে আছে আছে সুতা ধরে। মাছ যখন টোপ গিলতে শুরু করবে তখন সুতায় হালকা টান লাগবে তখনই টান দিয়ে আনতে হয়।
ঘন্টা খানেক বসে রইলো, মাছের দেখা মিললো না এখনো। অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে শুরু করলো সুতা স্থির হয়ে আছে। জামাল মিয়া একভাবে তাকিয়ে আছে সুতার দিকে,যখন সুতায় টান অনুভব হবে তখনই টেনে আনবে। অপেক্ষা করতে করতে হঠাৎ সুতায় টান অনুভব করলো, জামলা মিয়া খুব সজাগ ছিলো। সুতা দ্রুত টানছে এবং ছেড়ে দিচ্ছে এভাবে খুব দক্ষতার সাথে টেনে পাড়ে আনার চেষ্টা করছে। এভাবে টানতে টানতে পাড়ে আনলো, দিনটি যতটা খারাপ মনে করছিলো তেমনটা না। একটা বোয়াল মাছ পেলো অবশেষে। জামাল মিয়া ভীষন খুশি। ইতিমধ্যে রাত হয়ে গেছে তাই আর দেরি না করে একটা মাছ নিয়ে বাড়ির পথে যাত্রা করে।