Beginning of My Free Educational Materials Distribution Journey
Dad is on the left
আব্বুর সমর্থন পেলে আর কি লাগে! হ্যা, আব্বুর হাত ধরেই আমার এই যাত্রার শুরু হয়। এটা ছিলো আমার প্রথম ফ্রি শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ক্যাম্পেইন।
আব্বুর সমর্থন সবসময়ই পেয়ে আসছি। কোন ভালো কিছু করতে চাইলে, না করতো না কখনো। মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়া সত্বেও আমার আবদার গুলো আব্বু ফেলতো না। কষ্ট হলেও পুরন করার চেষ্টা করেছে সবসময়। এই কাজ গুলোতেও আব্বুর সমর্থন যেন বাদ যায় না। পরামর্শ দেওয়া সাথে থেকে প্লান করা, সবসময়ই পাশে ছিলেন এখনো আছে, ইনশাআল্লাহ সব সময় থাকবে।
তখন সবেমাত্র ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছি। রেজাল্ট এখনো হয় নাই। বন্ধুরা সবাই এডমিশন কোচিং করার জন্য ঢাকায় যাচ্ছে। আব্বুকে বললাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করতে চাচ্ছি, আব্বু রাজি হয়ে গেলো। আসলাম ঢাকায়, ইউসিসির সাইন্সল্যাব ব্রাঞ্চে ভর্তি হলাম। ঝিগাতলায় একটা হোস্টেলে উঠলাম। ২মাস পরে বাড়িতে আসলাম, এসে আব্বু বললাম, আমি গরীব শিক্ষার্থীদের কিছু শিক্ষা সামগ্রী দিতে চাই। কারন আমার আব্বু ঐ স্কুলেরই সহকারী প্রধান শিক্ষক। আব্বু বললো যে, প্রাইমারি স্কুলে সব গরীব শিক্ষার্থী এসে এখানে ভর্তি, ধারনা টা ঠিক না। প্রাইমারি স্কুলেও অনেক ভালো পড়াশোনা হয়। তখন বললো যে, তবে কিছু কিছু মেধাবী গরীব ছেলেমেয়ে থাকে, যারা খাতা কলমের জন্যই স্কুলে আসে না। আমাদের স্কুল থেকে যতটা দিতে পারি দিয়ে সাহায্য করি। তাদের পড়াশোনার সুযোগ দিতে পারো।
আমি গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই করতে বললাম, আমরা ঐ গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যই শিক্ষা সামগ্রী কিনবো।
পরদিন আব্বু ৮০জন মেধাবী শিক্ষার্থীর একটা লিস্ট দিলো। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেনী, স্কুলের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বাছাই করতে বলেছিলাম। মোট ৮০ মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে। আমি অবাক হয়েছিলাম। যদিও অন্য অন্য স্কুলের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী এই স্কুলে ভর্তি হয় প্রতিবছর। উপজেলার মধ্যে এই স্কুলের বেশ সুনাম আছে। লিস্ট পাওয়ার পরই এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে লাইব্রেরিতে গেলাম।
৩০০ টা খাতা। (একজন ৩টা খাতা দিয়ে প্রায় ১মাস লিখতে পারবে।)
১০০ টা কলম( তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের জন্য)
৫০ টা পেন্সিল। (শিশু শ্রেনীর জন্য)
৫০ টা পেন্সিল ইরেজার।
৫০ টা পেন্সিল শার্পনার।
কেনাকাটা শেষ করে স্কুলে আসলাম, স্কুলের শিক্ষক গুলো অনেক ভালো। যদিও সবাই আমাকে আগে থেকেই চেনে তাবুও আব্বু আবার সব শিক্ষকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। সবাইকে আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বললাম, যে এই সামগ্রী গুলো শুধু গরীব মেধাবী ছেলেমেয়ের জন্য। সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়,কারন স্কুলে লিখিত প্রায় ৬'শ এর ও বেশি শিক্ষার্থী আছে, স্কুলে গড়ে উপস্থিত থাকে প্রায় ৪'শ এর মতো শিক্ষার্থী।
শিশু শ্রেনীতে মোট ৪০জনের মত ছোট ছেলে মেয়ে ছিলো। সবাইকেই ১টা খাতা,একটা করে পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার দেওয়া হয়। তারপর সেই গরীব মেধাবী লিস্ট দেখে বাকি ৭০জন কে ৩ট করে নোট বুক, একটা করে কলম দেওয়া হয়।
যখন দেখছিলাম বাকি সব ছেলেমেয়েরাও তাকিয়ে আছে তাদের কেন দিচ্ছে না জিজ্ঞেস করতেছে,তখন খারাপ লাগতেছিলো;(
আমার সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয় যখন এই বাচ্চাদের মুখে হাসি দেখি। ওদের জন্য আমার সত্যি অনেক মায়া হয়, যখনি একটু সুযোগ পাঔ ওদের জন্য খাতা কলম পেন্সিল নিয়ে যাই। আর প্রতিবারই বলে:
ভাইয়া আবার কবে আসবেন?
না যেয়ে থাকতে পারি না,ওরা আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।