এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৬৩২ টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। ২৯ জন মারা গেছে, ৫ জন আত্মহত্যা করেছে। করোনা নামক এই মহামারি এর মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ৪ জন নারী ধর্ষনের শিকার হয়েছে।
প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই ধর্ষনের খবর পাওয়াই যায়। যেখানে শাস্তি হয় না বললেই চলে।
শাস্তি না হওয়ার কারন হলো ক্ষমতা। ক্ষমতা মানুষকে শাস্তির ভয় থেকে বের করে এনেছে। মোট কথা যেই মানুষ ক্ষমতাশালী, তার মধ্যে কোনো প্রকার ভয়ই নেই।
প্রতি নিয়ত আন্দোলন গড়ে উঠছে কিন্তু আন্দোলনের শুরুতেই, হয় ভয় দেখিয়ে নাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হচ্ছে একটি নারীর জীবন।
বিভিন্ন দেশে আইন এমন রয়েছে যে ধর্ষন করলেই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি দেশে বিলম্বেই ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে এই ক্ষমতাসীন পশু গুলো। শাস্তি হিসেবে জেলের মধ্যে তারা পাচ্ছে পাঁচ তারা হোটেলের সুবিধা। আসলে আইন পাশ হবে কিভাবে! এদেশের আইন যারা তৈরি করে তাদের মেয়েরা থাকে অতি সুরক্ষার মধ্যে। তাই তাদের ধর্ষনের ভয় নেই। বাকিদেরটা তারা স্বাভাবিক মনে করে। তারা তোহ আর এসব ভাববে না যে "আমার মেয়েরও এমন হতে পারে।" ওনারা বঙ্গবন্ধু নন যিনি ধর্ষিতা মেয়ে বাবার নামের জায়গায় নিজের নাম লিখে দিতে বলেন। ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ঘরের মেয়েরা।
পূর্বে বলা হতো স্বামীর সাথে মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়েরা স্বামীর সাথেও সুরক্ষিত নন। যিনি শিক্ষা দিয়ে থাকেন তিনিও আজকে এসব ধর্ষনের মূলহোতা হয়েছেন। মাদ্রাসায় যেখানে ইসলামের মতো পবিত্র ধর্মের শিক্ষা দেওয়া হয়, যেখানে শেখানো হয় ধর্ষনকারীকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে সেখানেই আজ ঘটছে এসব কথা। এক কথায় নারীরা আজ কোথাও সুরক্ষিত নেই।
ধর্ষন এখন একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দেশের এখন এমন অবস্থা হয়েছে যেখানে নারীদের বসবাস করাই বড় পাপ হয়ে দাড়াচ্ছে। ধর্ষন শুধু একটি মেয়ের জীবনই নষ্ট করে না বরং তার পুরো পরিবারসহ পুরো জাতিকে কাদায়, যা একটি অতি দুঃখের বিষয়।
এবার আসি একটু নিরাময়ের বিষয়ে। আমরা গনতন্ত্র দেশে বাস করি। এখানে সব কিছু জনগন নির্ধারন করার ক্ষমতা রাখি। যতদিন আইন পাশ না হয়, ততদিন পর্যন্ত যেই এলাকায় ধর্ষনের ঘটনা ঘটবে সেখানকার মানুষ যদি নিজেই তাদের শাস্তি দিতে শুরু করে তবেই হয়তো এই কলঙ্ক অনেকাংশে কমে আসবে। প্রশাসন তো নিজেদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করবে না। তাই আমাদের সাধারন জনগনের উচিত নিজেদের ঐক্যবদ্ধ ক্ষমতা দেখানো। আন্দোলন করলেই হয় না। আন্দোলনকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে হয়, যদি আন্দোলন সঠিক পথে নিয়ে না যেতো তবে আজ আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা পেতাম না। স্বাধীন বাংলাদেশে সবার স্বাধীনতা চেয়েই শুরু করা যাক।