ছোটবেলা থেকেই অনেক চঞ্চল ফাইরুজ। হাটতে শেখা, বসতে শেখা থেকে শুরু করে সব কিছুই যেন কিছুটা সময় আগেই শিখে গেছে সে। সে আর কেও নয় আমার মামাতো বোন।
তার বয়স এখন প্রায় দুই বছর হতে চলেছে। তবে এখন থাকে সব কিছুতে পটু সে। কবিতা আবৃত্তি, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত থেকে শুরু করে পড়াশোনা কোন কিছুতেই পিছিয়ে নেই আমাদের বোন। খাবার খেতে কিছুটা জোর করতে হলেও খাবার নিয়ে অতটা ঝামেলা নেই।বলতে গেলে সব কিছুই খায় ও। সব দিক থেকে বলতে গেলে ভালো মেয়ে। অনেক দিক থেকেই সাধারন। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সে বুদ্ধির দিক থেকে বাকি পাঁচটা বাচ্চা থেকে অনেকটা আলাদা। তার খাবার খাওয়ার ধরন, কথা বলার ধরন, রাগ করার ধরন সব কিছুই বেশ খানিকটা আলাদা। সে সব সময় বড়দের মতো আচরণ করে। যেমন নিজে নিজে খাবার খাওয়া, নিজে নিজে গোসল করা থেকে শুরু করে সব কিছুই নিজে করতে চায়। অদ্ভুত ব্যাপার হলো সে স্মার্ট ফোনের ব্যবহারে খুবই পটু। ফোনের কোথায় কি আছে সে অনায়াসে খুঁজে বের করতে পারে।
সে সাধারণত ইউটিউব ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। ইউটিউবে বাচ্চাদের খেলনার বাক্স বল ও বেলুনের ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। সে আমাকে খুব পছন্দ করে। কারন আমার গালে এসে আলতো করে চুমু খাওয়ার বদলেই সে তার পছন্দের চকলেট ও চিপস পেয়ে যায়। এই বয়সেই মানুষের মন কিভাবে গলাতে হয় তা তার খুব ভালো করেই জানা আছে। কোন কিছুর দরকার পড়লেই সে আমার কাছে চলে আসে। আমিও তার খুশিতে আমার খুশি খুঁজে পাই। মায়ের পেটের বোন নেই আমার তবে আপন বোনের থেকে কোন কিছুতেই কম নয় ফাইরুজ। আমার বাবা মা ওকে অনেক আদর করে। আর অন্য দিকে মামি বলে আদরে বাদর বানাচ্ছিস দিন দিন। "হাহাহা",আমার বোনকে আমি আদর করবো নাতো কে করবে।তবে কিছুটা পাজি ও হচ্ছেন আমাদের বুড়িটা।ওকে আদর করে বুড়ি ডাকা হয়ে থাকে। ফাইরুজের পাকনা স্বভাবের এই কারনেই বাড়ির সবাই বুড়ি বলে ডাকেন। তার রাগ একটু বেশি। অল্পতেই রাগ করে ফেলে। ফলে তার সাথে বেশি রেশা রেশি না করাটাই ভালো। তবে তার রাগ কমানোর জন্য অতো বেশি কষ্ট করতে হয় না।শুধু একটা চিপস অথবা চকলেট এই তার রাগ কমানো যায়। তবে তার বাজে একটা দোষ হলো সে আপনার টা খাবে ঠিকই তবে আপনাকে দিবে না।সে মনে করে তাকে যেটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে তার ভাগিদার অন্য কেও হতে পারেনা। আমি মনে করি বয়সের সাথে সাথে সে আরও বুদ্ধিমান ও ভালো মেয়ে হয়ে উঠবে। সময়ের সাথে সাথে তার বুদ্ধির আরও বিকাশ হবে।আমাদের দেখা দেখি আর ভালো ব্যবহার শিখবে। কারন আজ কালকের বাচ্চারা যা দেখে তাই শিখে ফেলে। এর জন্য সবসময়ই বাচ্চাদের সামনে ভালো ব্যবহার করতে হয়। বাচ্চাদের ভালো কিছু সেখানোর জন্য তাদের সামনে থেকে ভালো ব্যবহার করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন সব শেষে ওরা আমাদের কাছ থেকেই শিখবে।ধন্যবাদ সবাইকে সময় নিয়ে পুরোটা পড়ার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই শুভ কামনা নিয়ে আজকের মতো শেষ করছি।