মম জীবন ও যৌবনও
মম অখিল ভুবনও
তুমি ভরিবে গৌরবে নীশিথীনি সম
গাইতে গাইতে মনে হয় অনেক দিন হয় ঘর থেকে বের হওয়া হয়না, এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরো পৃথিবী টা আজ থমকে আছে! সাথে থমকে গেছে আমার ছোট্ট পৃথিবীটাও। যার যার জীবন নামক মঞ্চে সে সে নিজেই মূল চরিত্র নয় কি? আমার এই চরিত্রের বিপরীতে যে আছে তাকে বোঝানো কঠিন সে তার জীবনের মূলচরিত্র হলেও একমাত্র চরিত্র নয়! টিকে থাকতে হলে বাকি ছোট অথবা বড় সব চরিত্র কে মানিয়ে নিতে হয় ভালো রাখতে হয়! সে রাখেও। কতো তো দেখছি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে যাচ্ছে! তবুও সেদিন তাকে বলেই ফেললাম আমার পরিবার মেনে নেবে না তোমাকে! জানিনা সে কি বুঝলো! তবে রেগে গেলো খুব, আর বলল তার চেয়েও বেশি যোগ্য হয়ে দেখাবে যে নাকি আমার বর হবে! তবে আমি শুনতে চেয়েছিলাম অন্যকিছু! সে বলুক ততোটা যোগ্য হয়ে দেখাবো যতোটা যোগ্য হলে তোমার পরিবার আমাকেই তাদের মেয়ের জন্য সবথেকে বেশি যোগ্য মনে করবে! কেন বলল না সে! কি করে বোঝাই, তুমি ই তো আমার একমাত্র অপশন!
পড়ালেখা কাজ কর্ম চালু আছে বেশ! তবে তা ঘরের ভেতর তাই হয়তো বেশি ভাবছি তাকে নিয়ে,বেশি বলতে একটু বেশি বেশিই ভাবছি।জানি সময় কেটে যাবে আর সাথে দুঃসময় ও।
বারান্দার কোনায় দাঁড়িয়ে ভাবনায় ডুবি তবে চোখের কোণে জল আর এখন জমে না! হয়তো অভ্যস্ত হয়ে গেছি নয়তো এটাকেই ইংরেজিতে বলে ম্যাচিউরিটি!!৫ বছর ফুরিয়েছে আর ঠিক ৩ বছর আগে মানুষ টা দেশ ছেড়েছে! যোগাযোগ? হয়তো সপ্তাহে একবার তাও আবার সোস্যাল সাইটে! তাও মেনে নিয়েছি কারন ছাড়া যদিও যায় ভোলা তো যাবেনা তাকে! তাই ছাড়াও হয়না! অভ্যস্ত আমি, আমি ম্যাচিউরড!
হঠাৎ একদিন যোগাযোগ ও বন্ধ হয়ে গেলো! তার কিছু হলো কিনা জানিনা তবে চোখের নিচ দিকে তীব্র কালো প্রলেপ পরলো আমার! তবু ভেংগে পরিনি আমি! অপেক্ষা করেছি দিনের পর দিন মাসএর পর মাস! রাতে ঘুম হয়না আর আমার! তাকে ছাড়া রাত গুলো ফাকা ফাকা মনে হয়! মনে পড়ে স্কুলের সেই দিনগুলো! কিভাবে আস্তে আস্তে আমরা কাছে এসেছিলাম! প্রথম একসাথে রিকশায় ওঠা! প্রথমবার কাধে মাথা রাখা! প্রথমবার একসাথে নাগরদোলায় চড়া আর ভয় পেয়ে তার শার্ট আঁকড়ে ধরা! খুব লজ্জা পেয়েছিলো সে সেদিন! অথচ লজ্জা পাওয়ার কথা তো ছিলো আমার! সব লজ্জা ভুলে খুব হেসেছিলাম সেদিন, এতে তার লজ্জা যেন বেড়ে গিয়েছিলো আরো কয়েকগুণ! কলেজে উঠে আলাদা হলাম আমরা! তবে ভালবাসা কমেনি! ইচ্ছে হলে ছুটে যেতাম সেও আসতো! আশ্চর্য এসব কিছুই কি দাগ কাটেনি তার মনে! কি করে ভুলে আছে আমাকে! কই আমি তো ভুলিনি! ভুলতে পারিনি! পারবো না! সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছি তাকে! অনেক যত্নে রেখেছি তাকে আমি আমার হৃদয়ে, গানে, সুরে!
মমঃ দুঃখ বেদন ও
মমঃ স্বপনও সাধনও
তুমি ভরিবে সৌরভে
নিশীথিনী সমঃ
.
.
.
মা কাধে হাত রাখে! ফিরে তাকাই মুচকি হাসে সে!
খুব ইচ্ছে করে মাকে জড়িয়ে ধরে সব দুঃখ ভুলি! একটু কাঁদি!
কিন্তু কি করে! এ দুঃখ আমার একার! আমার একার ই ভোগ করতে হবে!
মাকে আজকাল প্রায় ই শোনা যায় আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলতে! অস্বাভাবিক কিছু নয়! মেয়েদের একটা নির্দিষ্ট সময় পর এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়! খেতে বসে মা আমাকে জিগেস করলো আমার বিয়ে নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার ভাবতে চায়, আর তাতে আমার কোনো আপত্তি আছে কিনা! আচ্ছা মা যদি আমাকে জিগেস করতো আমার কোনো পছন্দ আছে কিনা? আমি কি বলতে পারতাম তার নাম? কি করে বলতাম? তার মনে কি আর আছি আমি? আর যদি বলেও ফেলতাম তাকে কি খুজে পেতাম আমি আমার পরিবারের সামনে উপস্তিত করার জন্য! অন্তত এই প্রশ্ন করার জন্য তুমি কি আমাকে আর ভালোবাসোনা আহসান?
প্রশ্নের উত্তর কি মিলবে আদৌ? জানিনা! কখনো তার দেখা মিলবে কিনা তাও জানিনা! মা কে কোনো উত্তর দিতে পারিনা আমি! বাবা আমার চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকান। কি যেন ভাবেন! মা কে বলেন আপাতত বাদ দাও!
আমি উঠে আসি। আমি নিজেই জানিনা জীবনের ঠিক কোন পর্যায়ে আমি দাঁড়িয়ে! আল্লাহ, বলবোনা তোমাকে তাকে ফিরিয়ে দাও! শুধু বলবো আমার সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে দাও মাবুদ!