একদম সহজ ভাষায় আমার কাছে ভ্রমন মানে নিজেকে একটা বদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্ত পরিবেশে নিয়ে যাওয়া। সেটা নিজের ঘরের পাশে বা অন্য কোন নতুন পরিবেশই হোক না কেন ... নিজের বিকশিত হওার জন্য মানুষের কাছে ভ্রমন ব্যাপারটা খুব দরকারি .. যদিও ভ্রমনের নেশা একেকভাবে ভেরি করে একেকজনের কাছে । আর যদি বলতে হয় আমার ভ্রমনের নেশা তাহলে বলতেই হয় আমার কাছে ভ্রমন হল নুতুন কিছু আবিষ্কারের মূল মন্ত্র।
ছোট থেকেই আমি খুব “বাইরুম বাইরুম” স্বভাবের ... কি ভাবছেন তো না এটা আবার কোন শব্দ। তাহলে বলি এটা নেত্রকোনার একটা ফ্লেভার। বাইরুম মানে বের হওয়া স্বভাবকে বুঝায়। যারা বেশি ঘুরাফেরা করে তাদেরকেই উদ্দেশ্য করে বলা আর কি ।
আমার এই বাইরুম স্বভাবের সুবাদে এখন পর্যন্ত কিছু জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আগে অবশ্য বাবা-মা, ভাইবোনদের সাথে ঘুরতে গেলেও আমি বেশি প্রাধান্য দিব নিজে একা কথাও ঘুরতে যাওয়াকে। আমার কাছে কেন জানি মনে হয় ভ্রমন ব্যাপারটা অনেক কিছু শিখায় আমাদেরকে, বিশেষ করে যখন আপনি আর আপনার কয়েকটা বন্ধু মিলে সেটা অরগানাইজ করবেন। আমার বেলাতে তো হয়েছে যেমন, দায়িত্ববোধ বা এখন যখন বন্ধুদের সাপ বলা হয় এই উপমাটা আপনি আমার ভ্রমনের কোন বন্ধুকে আখ্যায়িত করতে পারবেন না এত সহজেই।
আর যদি বলি বইয়ের ভাষাতে “ জ্ঞান আহরণ “, তাহলে অবশ্যই ভ্রমনের নেশা আপনাকে নতুনত্ব দেখাবে। নিজেকে মানিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে আশেপাশের সবকিছু আপনি প্রত্যেকবার নতুন চোখে দেখতে পাবেন । আমার এই নেশা আমাকে প্রায় প্রত্যেকটা যানহনে চড়ে বেড়ানোর সুযোগ দিয়েছে, শুধু মাত্র গুরুর গাড়িটাই বাকি । আশা করি সেটাও খুব তাড়াতাড়ি হবে।
জীবনের মানে তখনি বুঝা যায় যখন মধ্য রাতে তিন নদী মোহনার উত্তাল ঢেউ দেখবেন, বা পূর্ণিমা রাতে সুমুদ্রের ধারে গলা ছেড়ে গান গাইতে পারবেন , আর না হয় সুনামগঞ্জের হাওরে ঠিক মাঝনদীতে চাঁদ দেখতে পাওয়ার মত সৌভাগ্য হবে ।
আমার সব শেষ ভ্রমন ছিল সুমুদ্র। জানি না কেন, আমি সুমুদ্রের গর্জন খুব টানে। খুব ব্যাস্ত বা কাজের প্রেশারে যতবার পরেছি ততোবার হাতে একটা ট্রলি আর কাধে আমার পছন্দের “Ukulele” নিয়ে বেরিয়ে পরেছি। হাতে যে খুব টাকা পয়সা ছিল তাও না... মানুষের শখ আল্লাদ কি আর টাকা পয়সা দেখে বলুন! ... হুমায়ূন আহমেদ স্যারের একটা নাটকে দেখেছিলাম, আনিসুল হক সাহেব বলছিলেন সে নাকি -কিডনি বেচে দেশ বিদেশ ঘুরবে – নেশা বধহয় এটাই । তবে আমার বেলাতে এইগুলো বললে তো আর হবে না তাই না ... হয় টাকা জমিয়েছি আর না হয় আমার সেই এক কথা,
“ মা শুনছো !”... শুনছো না কেন ! ওওও মা......... একটু যাই মা !!!? কয়টা দিনইতো ...
সৌভাগ্যবশত এই আকুতি মিনুতি আমার কাজে দেয় ।
আশা করি, আবার সব ঠিক হয়ে যাবে, আবারো আমরা সুস্থ পৃথিবীতে ঘুরে বেরাতে পারব দলবেঁধে। আবার হয়ত আমি বেরিয়ে পরবো রাতের বেলা বাস, ট্রেনের টিকিট কেটে। অবশ্য আমি প্ল্যান করে ফেলেছি- সবকিছু সুস্থ হলে বেরিয়ে পরবো ... সুমুদ্র দেখব আর নতুন জীবনের জয়গান করবো । তার আগ পর্যন্ত সুস্থ থাকি আমরা সবাই, বাসায় থাকি ।
“হারানোর তাগিদ বাড়ছে খুব “