আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন৷ আমিও ভালো আছি৷ আবারও আপনাদের মাঝে চলে আসলাম আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে৷ চলুন শুরু করি আমার আজকের পোষ্টটা-
আজকের পোষ্টটা একটু হয়ত ভিন্ন প্রসঙ্গের৷ পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষই কোনো না কোনো দিক থেকে অসুস্থ। কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না, সে সকল দিক দিয়ে সুখী৷ যখন মানুষের শারীরিক কোনো অসুস্থতা দেখা দেয়, তখন তাকে যেতে হয় ডাক্তারের কাছে নানা ধরনের পরার্মশ নিতে যাতে অসুস্থতা দ্রুত সেরে যায়। কিন্তু, দিন দিন প্রাইভেট হাসপাতালগুলো চিত্র এমন হয়ে চলেছে, যেনো রোগীদের ভোগান্তি দিনের পর দিন আরও বেড়ে চলেছে। এক সপ্তাহ আগে ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল দিয়েও যেনো একজন রোগীকে ডাক্তারের দেখা পেতে ৭/৮ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়৷
ডাক্তারের যারা পার্সনাল এসিস্ট্যান্ট থাকেন, তানা না ছলে কৌশলে সিরিয়াল ব্যতিত নানা রোগীকে ভিতরে ঢুকান, এতে বিপাকে পড়ে, সাধারণ সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকা মানুষগুলো৷ হয়ত কিছু টাকার বিনিময় তারা শেষের সিরিয়ালের লোকটিকে সবার আগে ডাক্তারের কাছে পাঠাচ্ছেন৷ বর্তমান সময়ে এটা যেনো একটা সাধারণ রীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কেউ যদি এটার বিষয়ে কথা বলে, তাকেই নানা ধরনের কথা বলে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়৷ এক একজন ডাক্তার ভিজিট নেন প্রায় ৮০০/৯০০ টাকা করে৷ এতো টাকা ভিজিট দিয়েও যেনো তাদের দেখা পাওয়া কষ্ট।
গত শুক্রবারে আমি গিয়েছিলাম আমার বড় খালাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে কুষ্টিয়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে৷ দুই দিন আগে আমি সিরিয়াল দিয়েছিলাম। আমার সিরিয়াল নাম্বার হলো ৭৭। আমাকে বলা হয়েছিল জুম্মার নামাজের পর যেতে আমি বিকাল ৪ টার সময় গিয়েছিলাম। কিন্তু তখন গিয়ে দেখি কেবল মাত্র ৩৬ নাম্বার সিরিয়ালের রোগী দেখতেছেন৷ সারা দিন ধরে এই কয়টা রোগী দেখছেন৷ ২/৩ ঘন্টা বসে থাকার পর বুঝলাম আসলে সিরিয়াল কেনো বেশি কমছে না, কারণ শেষের সিরিয়ালের লোকগুলো নানা ছলে কৌশলে আগে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন৷
কিন্তু এদিকে যারা চুপ করে বসে আছে, তাদের যেনো কোনো দাম নেই৷ একজন লোক তো রাগ করে চিল্লাতে শুরু করলেন। তার সিরিয়ালের পরের লোককে আগে ভিতরে ঢুকতে দিয়েছে, তিনি জিগাতেই গেটে দায়িত্ব প্রাপ্ত মেয়েটি বলে উঠল উনি ডাক্তারের পরিচিত লোক। আসলে এটা ছিল ডাহা মিথ্যা কথা। আমি প্রায় ৬ ঘন্টা বসে থাকার পর রাত ১১ টার সময় ডাক্তার দেখালাম। এরপর বাসার দিকে চলে আসলাম। এতোটা সময় বসে থাকাটা কতটা যে বিরক্তি কর এবং ভোগান্তির কাজ সেটা যারা বসে থাকে তারা ছাড়া কেউ বুঝবে নাহ। আমাদের মতো কিছু মানুষ যদি ভালো ভাবে তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করত, তাহলে হয়ত এভাবে মানুষদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
আশা করি আপনারা সবাই আমার আজকের বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন৷ সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন৷ আর অবশ্যই আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে যাতে শত থেকে জীবনকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য ।