বন্ধুরা,
আমার শীর্ষক এর সাথে তারাই পরিচিত হবেন যারা রেডিও কখনো না কখনো শুনেছেন।
এখন তো আর রেডিও সেই ভাবে কেউ শোনেই না, আধুনিক FM এর সাথে সবাই পরিচিতি।
ছোটবেলায় বেশ মনে আছে রবিবার হলেই শ্রাবন্তীর গলা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকতাম।
কত সুন্দর সব নাটক, কত সুন্দর সুন্দর গান। সারাটাদিন কিছু না কিছু অনুষ্ঠান চলতেই থাকতো।
ঠিক তেমনি শনিবারের বারবেল বলে একটি অনুষ্ঠান খুব ই জনপ্রিয় ছিল।
আকাশবাণী থেকে সমপ্রচার করা হতো।
কোথায় চলে গেছে সেইসব দিন। তখন এত চ্যানেল এর বাহার ছিল না, টেলিভিশন ও খুব কম বাড়িতেই ছিল, রেডিও তখন মনোরঞ্জন এর শীর্ষে।
এখন এত চ্যানেল হয়ে গিয়ে হয়তো মানুষের মনোরঞ্জন এর সাধন বেড়ে গেছে কিন্তু কোনো কিছুই এখন সেই ভাবে গুরুত্ব পায় না বা কেউ আর সেই শনিবারের বারবেলার মত অপেক্ষায় থাকে না।
বেশ কিছু বছর আগেও রবিবার দিন Sunday suspense মনোযোগ দিয়ে শোনা হতো।
আজ চ্যানেল দেখার থেকেও সার্ফিং বেশি হয়।
এরকমটাই হয়তো হয়, ভীড়ে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়।
কম জিনিসের কদর সবসময বেশি হয়, অধিক মাত্রায় কিছু হলে তার গুরুত্ব কমেই যায়।
কতজন রেকর্ড প্লেয়ার দেখেছেন এই যুগের ছেলেমেয়েরা।
আমার জেঠা মশাই এর রেকর্ড প্লেয়ার ছিল আর HMV রেকর্ড, সব গান এর কালেকশন ছিল সেই সময় এ তার কাছে।
সময় এর সাথে কত কিছু হারিয়ে গেছে এবং এখনও যাচ্ছে।
জানিনা শেষ পর্যন্ত উন্নতির নাম এ আরো কত পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।
আমি উন্নতির বিরুদ্ধে নই, কিন্তু পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখাটাও নব প্রজন্মের একটা দায়িত্ত্ব বলে মনে হয়।
এখন সেই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র নেই, নেই তার মতো করে পাঠ করা মহালয়া, এখনও তার পাঠ করা মহালয়া প্রাধান্য পায় যেটা প্রশংসনীয়।
তবে আরো ভালো লাগতো যদি কোনো রেডিও চ্যানেল পুরনো অনুষ্ঠানগুলোর পুনঃ সম্প্রচারণ করতো।
যাক আজ আর সেইভাবে রবিবারকে এখন উপভোগ করতে পারি না, তবে জীবনে এমন অনেক কিছু পেয়েছি, যেটা এই প্রজন্ম হয়তো তার সামান্য টুকু পেলেও রাখল ছেলে কনসেপ্ট কিছুটা বুঝতে পারতো।
এখন টেকনোলজির দয়াতে, ঘরে বসে জগৎ দেখছে তারা, কিছু চাক্ষুষ দেখে, মাটির স্পর্শ পেয়ে খুব কম ছেলে মেয়ে বড়ো হবার সুযোগ পাচ্ছে, যেটা বেদনাদায়ক।
আজ এই পর্যন্তই, ভালো থাকবেন সবাই এবং নিজের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি যত্নশীল থাকবেন।
নমস্কার।