প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো তাতানের(আমার দিদির ছেলে) অন্নপ্রাশন এর গল্প। এর আগে আমি তিতলির অন্নপ্রাশন এর গল্পও আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি।
তাতানের অন্নপ্রাশন দিদির শ্বশুর বাড়ির পাশে একটা শিব মন্দিরেই হয়েছে। দিদিদের বাড়ি থেকে মন্দিরের দুরত্ব খুব বেশি নয়, হাঁটা পথ। ওই শিব মন্দিরে প্রতিবার শিব রাত্রিতে গ্রামের সবাই মিলে পুজো দেয়, সারা রাত জাগে, খুব মজা করে, দিদি নিজেও একবার উপোস করেছিল। ওর কাছেই গল্প শুনেছি।
অন্নপ্রাশন এর আগের দিন আমি চলে গিয়েছিলাম দিদি বাড়ি। মামা আর মামী পরদিন ভোরে পৌঁছে গিয়েছিল। শ্বেতার (মামার মেয়ে) পরীক্ষা ছিল তাই যেতে পারেনি।মন্দিরে যে ঠাকুর মশাই পুজো করেন তাঁর বাড়িও ওই গ্রামেই।তার কাছ থেকে আগেই দাদা (দিদির husband) পুজোর সময় জেনে এসেছিল। সেই মতো আমরাও সবাই রেডী হয়ে নিয়েছিলাম। যেহেতু হেঁটেই যাওয়া যাবে, তাই সকলেই রেডী হয়ে দিদিদের বাড়ি চলে এলো, একসাথে সবাই মিলে রওনা দিলাম মন্দিরের উদ্দেশ্যে। রাস্তায় কিছু ছবিও তুললাম আমি।
মন্দিরে পৌঁছে ভীষণ ভালো লাগলো। কি নির্জন চারিদিক। গ্রামের একপ্রান্তে নিঃশ্চুপ এক মন্দির। পাখির কলরবে মুখরিত। অনেক ফুল গাছ মন্দির চত্ত্বরে, এছাড়াও বেলগাছ, তুলসী গাছ তো আছেই।মন্দিরের সামনে অনেক বড় চাতাল, যেখানে সবাই বসতে পারে। আমরাও বসলাম, অনেক ছবি তুললাম। মন্দিরের ভেতরে দিদি আর দাদা গেলো তাতানকে নিয়ে, পুজো হলো,ঠাকুরমশাই ওর মুখে প্রসাদ দিয়ে দিলেন।
এরপর তাতান আর তিতলিকে নিয়ে সবাই ছবি তুললাম। প্রসাদ নিলাম, তারপর সবাই মিলে আসতে আসতে বাড়ি ফিরলাম, আসার পথে তাতান মামীর কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। দুপুরে দিদিদের বাড়ি খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে ছিলো, সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম।মামীরা সেদিনই চলে এসেছিল যেহেতু বোন একা ছিলো বাড়িতে, আমি তার পরদিন এলাম।
দেখতে দেখতে ২ বছর বয়স হয়ে গেল তাতানের। কিন্তু মনে হয় এই সেদিনই তো এলো সে পৃথিবীতে। কি করে বছর গুলো কেটে যায় বুঝতেই পারিনা। যাইহোক ওরা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, মানুষের মত মানুষ হোক ভগবানের কাছে এই টুকুই প্রার্থনা করি।
আপনারাও ভালো থাকবেন সবসময়।শুভরাত্রি।