প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন সবাই,আশাকরি আপনাদের দিনটা ভালোই কাটছে।
সকাল থেকে বেশ ব্যস্ত ছিলাম, তাই কথা বলার সময় হয়ে ওঠে নি। আজ আসলে বাপের বাড়ি যেতে হবে, কাল ভোট দিতে হবে তাই। না ভোট এখনো শশুর বাড়ির এখানে ট্রান্সফার করা হয়নি, খুব একটা ইচ্ছেও নেই অন্তত এই বাহানায় বাড়ি যেতে তো পারবো।
বিকালে বাড়ি যাবো, তাই অনেক কাজ করে রেখে যেতে হলো।পিকলুর খাবারও করলাম।২ দিন থাকবো না, মন খারাপ তো করবেই ও। কাল অবশ্য শুভ থাকবে বাড়ি, খেলবে ওর সাথে।
আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কষ্ট আছে, যে যার মতন করে সেগুলো বয়ে চলেছি। খুব প্রিয় কিছু মানুষকে কখনো কখনো কষ্টের কথা বলে ফেলি আমরা, তবে তার সমাধান কিন্তু কেউ ই দিতে পারে না, আসলে সম্ভব নয়, কষ্টটা পুরোপুরি বুঝতে পারার চেষ্টা করা, আর কষ্টটা নিজে সহ্য করা এই দুটো জিনিস সম্পূর্ণ আলাদা।
তবুও নিজেকে একটু হালকা করার চেষ্টা আমরা সকলেই করি। সকলের সামনে এমন একটা ভঙ্গি করে বাঁচি আমরা, যেন আমার থেকে সুখি কেউ নেই, আবার উল্টো দিকের মানুষটাও তাই ই করে। এটাই বাস্তব। কষ্ট লুকানোর ভঙ্গি যার যার নিজের মতন হয়।
ঝুনুদির মা মারা যাওয়ার পর আজ প্রথম যাবো ওদের বাড়ি। ঝুনুদি এতো দিন মাকে ছাড়াই রয়েছে,কিছুটা অভ্যাস হয়ে গেছে ওর। তবে আমি জানি আজ আমি গিয়ে কিন্তু ওর মাকে মিস করবো। অথচ ওর সামনে এমন ভাব করতে হবে আমার যেন সব ঠিক আছে। হয়ত আমার মা মারা যাওয়ার পর ঝুনুদিও এটাই করেছিল।
এটাই হয় আসলে জীবন বইতে থাকে নিজস্ব গতিতে, সেই গতির সাথে তাল মেলানোটা আমাদের কাজ।সুখ, দুঃখ, হাসি,আনন্দ সব মিলিয়ে বাঁচি আমরা তবে নিজস্ব নিজস্ব ভঙ্গিতে।
বাড়ি যেতে ভালো লাগে না, মনটা খারাপ হয়ে যায়, মাকে মিস করি,দিদিদের মিস করি, পুরোনো শৈশব মিস করি, তখন মাটির বাড়ি ছিলো,হ্যারিকেনের আলো ছিলো, টিভির বদলে রেডিও ছিলো। তবে প্রচুর হাসি ছিলো,ভালোবাসা ছিলো, মায়ের শাসন ছিলো, আদর ছিলো,দিদিদের সাথে খুনসুটি ছিলো। আজ সব হারিয়ে গেছে। আমি জানি দিদিরাও হয়তো একই রকম ভাবে, আর শুধু আমরা কেন, আপনারা প্রত্যেকে নিশ্চয় মিস করেন পুরোনো দিন গুলো।
যাইহোক,আপনারা সবাই সাবধানে থাকুন।চারিদিকে করোনা ছড়াচ্ছে,নিজেরা দয়াকরে প্রয়োজন ছাড়া বেরোবেন না, আর বেরলেও অবশ্যই সমস্ত নিয়ন মেনে চলবেন।সকলের দিনটা শুভ হোক।