বাংলাদেশের চাকরির বাজার সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই অবগত আছি। চাকরি হোক বা না হোক আমরা জব ইন্টারভিউ দেওয়ার পিছনে অনেক টাকা পয়সাও নষ্ট করি । এখানে অনেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন জব ইন্টারভিউয়ের পিছনে টাকা নষ্ট করার কথা কেন বললাম ? সেই প্রশ্নের জবাব নিয়েই আমি আজ এই পোস্টটা দিচ্ছি। আমরা একের পর এক জব ইন্টারভিউ দিতে থাকি কিন্তু সবখান থেকে রিজেক্ট হয়ে বাসায় ফিরতে হয় কেন আমরা কি সেটা নিয়ে কখনো ভেবেছি ? আমরা প্রায় সবাই আমাদের ভাগ্যের দোষ দেই আসলেই কি দোষটা ভাগ্যের নাকি আমাদের স্কিলে কোন কোমতি রয়েছে ? কারন অকারনে ভাগ্যের দোষ দেওয়া ঠিক নয়, হয়তো এমন কোন কারন থাকতে পারে যার কারনে আমাদের জব ইন্টারভিউ থেকে রিজেক্ট হতে হচ্ছে। আজ আমি সেই সব কারণগুলাই তুলে ধরবো ।
জব ইন্টারভিউ থেকে বাদ পরার অনেক কারন হতে পারে । তার মধ্যে অন্যতম একটি কারন হচ্ছে জব ইন্টারভিউ টেবিলে ঘাবড়ে যাওয়া। আমরা অনেকেই এমনটা দেখেছি জব ইন্টারভিউতে মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমাদের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যার ফলে এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না যা আমরা আগে থেকেই জানি। আবার অনেক সময় জব রিক্রুটাররা নানাবিধ অনৈতিক কাজ করার কথা বলে পরিক্ষা করে থাকেন, কিন্তু আমরা জবের প্রতি এতোটাই দুর্বল থাকি যে আমরা তাতে রাজি হই ।
চাকরি খোজার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে আর্থিকভাবে সচ্ছলতা পাওয়া। কিন্তু আমরা মাঝে মাঝে এই অর্থের মানদন্ড নিয়ে এতোটাই চিন্তিত হয়ে যাই যে ইন্টারভিউতে কাজের চেয়ে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেশি আলোচনা করি। যার ফলে জবটা আমাদের হাত থেকে ফসকে যায়। আবার আমরা অনেক সময় যেই কম্পানির জবের জন্য যাচ্ছি সেই কম্পানি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারনা না নিয়ে জবে চলে যাই। এমনকি অনেক সময় যেই জবটার জন্য এপ্লাই করেছি সেই জব নিয়ে আমাদের সাধারন জ্ঞ্যান খুব কম থাকে। একটা কথা মনে রাখবেন রিক্রুটাররা সবসময় চান যোগ্য প্রার্থীকে জবটা হস্থান্তর করতে তাই আপনি যদি জবটা পেতে চান তাহলে অবশ্যই ভালোভাবে প্রিপারেশন নিয়ে ইন্টারভিউ রুমে ঢুকতে হবে।
এসকল কারন ছাড়াও আরো অনেক কারন রয়েছে, যেমনঃ নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকা, আবেদন পত্রে ভুল তথ্য প্রদান করা, রিক্রুটারকে নিজের প্রতি আকরশন করার জন্য যেই গুনগুলো সেগুলোও সিভিতে লেখা, সৌজন্যবোধ ও টিম ওয়ার্কের অভাব, সময়ের ব্যাপারে অনিহা করা দেরিতে ইন্টারভিউতে পৌঁছানো, কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে দিলে তার বিষয়ে পজেটিভ চিন্তা ধারনার চেয়ে নেগেটিভ ধারনা বেশি প্রকাশ করা, কোন মিথ্যা তথ্যকে সত্যতে রুপান্তর কারার জন্য বারবার মিথ্যা বলা, আগে যেই কম্পানিতে জব করেছেন সেই কম্পানির নামে খারাপ মন্তব্য করা ইত্যাদি।