পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রাম বানিয়াচং। এখানে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার।
বানিয়াচং গ্রামের চারপাশ ঘেরা প্রায় ২০ কিলোমিটার পরিখা। একেঁবেঁকে বয়ে যাওয়া পরিখা স্থানীয়রা চেনেন গড়খাল নামে। পরিখাটি বর্ষাকালে লেকের রূপ ধারণ করে। সুপরিকল্পনা ও কার্যকরি উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশের রাজধানি ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে বানিয়াচংয়ের পরিখাকে ঘিরে ‘লেক’ গড়ে তোলা সম্ভব। পরিখাকে পুনঃখনন করে দু’পাড় পাকাবাঁধাই, দৃষ্টিনন্দন পুল ও ঘাট নির্মাণসহ শোভাবর্ধন ভৌত কাজ প্রকল্প গ্রহণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।
ঐতিহাসিক কমলারানীর দীঘি, লক্ষীবাওর জলাবন, ৬শ’ বছরের প্রাচীন বিথঙ্গলের আখড়া, প্রাচীন মসজিদসহ রয়েছে অনেক পুরাকীর্তি। গ্রামের চারপাশ বেষ্টিত পরিখাকে চমৎকার ‘লেক’সহ পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা সত্ত্বেও গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্রের কোনো সুবিধা।
১৯৯৭ সালের ১৯ অক্টোবরে সরকারের পক্ষথেকে বানিয়াচংকে পর্যটন কেন্দ্র করার ঘোষণা দেওয়া হলেও অগ্রগতি না হয়ে হিমাগারে ঠাঁই পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, একটু যতœ নিয়ে দর্শনীয় স্পটগুলোকে পর্যটন শিল্পের কাজে লাগালে পাল্টে যেত এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। সরকারও পেত কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
পৃথিবীর এ সর্ববৃহত গ্রামটির স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রাম। এক সময় পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো। তখন বানিয়াচং ছিল এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্রাম। শিকাগো নগরে পরিণত হওয়ায় আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে পৃথিবীর বড় গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বানিয়াচং। সুলতানী আমলে করদ রাজ্য ও মোগল আমলে লাউর রাজ্যের রাজধানী ছিল বানিয়াচং।
পঞ্চাশ খ্রিস্টাব্দে বানিয়াচং গ্রামের গোড়াপত্তন হয়। চারটি ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর বিভক্ত গ্রামটি। গ্রামের নামে বানিয়াচং উপজেলার নামকরণ হয়েছে। সাধারণত কয়েকটি পাড়া বা মহল্লা নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম। কিন্তু এই সংজ্ঞা অচল বানিয়াচং গ্রামের ক্ষেত্রে। ১২০টি মহল্লা নিয়ে গঠিত বানিয়াচং গ্রামে সোয়া লাখ মানুষের বসবাস। ৩২ দশমিক ৪৩ বর্গমাইল আয়তনের বিশাল ভুখন্ডটি মানুষের কাছে ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।