ধর্মবিদ্বেষের চর্চা, ঘৃণার চর্চা যে বিশ্বব্যাপী শেকড় গেড়ে বসছে সেটা বুঝতে হলে খুব বেশি জানাশোনার আসলে দরকার হয় না, একটু চোখ কান খোলা রাখাই যথেষ্ট.
কয়েকদিন আগে দুজন মহিলার কথা খবরে এলো যাদেরকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে অ্যারিজোনার মসজিদ থেকে চুরির দায়ে. ঘটনা এইখানে শেষ হলে হয়েই যেতো. মসজিদে লিফলেট চুরি তেমন আহামরি পর্যায়ে পড়ে না...ভয়ের ব্যাপার হলো, তারা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে গিয়ে কাজটি করে এবং পুরো ঘটনাটা ফেইসবুক লাইভে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করে. তারা দাবী করে তারা বাচ্চাদেরকে দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলো, কারণ মুসলিমরা নাকি তাদের আমেরিকা ধ্বংস করছে!
বাচ্চাদেরকে ঘৃণা শিক্ষা দেয়ার ভাষা যে কত জঘণ্য হতে পারে তা আমি খবরটা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না. খোদ আমেরিকায় এই ঘটনা দেখে আমার নিজের কথা মনে পড়ে গেলো. যে দেশে যেই ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু, তাদেরকে সেই দেশে বেঁচে থাকার জন্য রীতিমত লড়াই করতে হয়. কীসের বিরুদ্ধে লড়াই? একটা গোটা জাতির আর তাদের আগামী প্রজন্মকে শিক্ষা দেয়া ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই!
এই ঘৃণা হাতে হাতে চাপাতি তোলায়, এই ঘৃণা মারমা ধর্ষণ করায়, এই ঘৃণা বৌদ্ধমন্দির ভাঙে, এই একই ঘৃণা রোহিঙ্গাদের জীবন জন্ম দেয়, মসজিদে গিয়ে এই ঘৃণার কারণে ছোট্ট বাচ্চাও অবলীলায় বলতে পারে, 'মা মা, ওদের গায়ে ছাগলের গন্ধ, ওরা মুরগিকে ধর্ষণ করে!'
মাঝে মাঝে ভাবলে করুণা হয়, যারা ভালোবাসাকে চেনার আগে ঘৃণা করতে শেখে তারা আসলে কতখানি অভাগা. কী এক অস্থির প্রজন্ম বেড়ে উঠছে পুরো পৃথিবী জুড়ে.
সোসাল মিডিয়ায় পর্দার আড়ালে গালাগালি দেয়া, কুরুচিপূর্ণ অশালীন মন্তব্য করা তো আরো সহজ. এই সাম্প্রদায়িকতার শেকড় যেভাবে বাড়ছে তাতে ভয় হয়, স্ট্রেঞ্জার থিংস এর কথা মনে পড়ে যায়. আমাদের উপরে নিচে, দ্যা আপসাইড ডাউন ওয়ার্ল্ডের মত একটা ঘৃণার শেকড় সবকিছু গিলে ফেলছে. সবকিছু এই শেকড়ের ইচ্ছের অধীনে চলে যাচ্ছে; মানবিকতা, বিবেকবোধ, সহমর্মিতা, ভালোবাসা সব অনুভূতি পুরোপুরি ঘৃণায় পরিণত হতে কত সময় নেবে?