ঝিনাইদহ বারোবাজারের 'জাহাজ ঘাটের' ইতিহাস ।
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বারোবাজার একটি প্রাচীন স্থান তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভৈরব নদী বারোবাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এই নদী দিয়ে অতীতে জাহাজ চলাচল করতো বিধায় জাহাজ ভারা বা নোঙর করার ঘাটের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যধিক। শোনা যায় বারোবাজারে ৬টি জাহাজ ঘাট ছিল। কোথায় বা কোন স্থানে জাহাজ ঘাট ছিল সে সব স্থান চিহৃিত বা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তবে বারোবাজার একসময় সমৃদ্ধ বন্দর নগরী ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভৈরবের উত্তর তীরে হাসিলবাগ গ্রামে পূর্ব-পশ্চিমে প্রলম্বিত আয়তাকার একটি স্বল্প উচু ঢিবি দেখা যায়, এটি নদী তল থেকে আনুমানিক ৩ মি: উঁচু। ঢিবিটি পূর্ব-পশ্চিমে ২৯ মি: এবং উত্তর-দক্ষিণে ২০ মি: বিস্তৃত। স্থানীয় জনসাধারণ ঈদের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে ঢিবির উপরিভাগ সমতল করে এবং পশ্চিমার্ধে ঈদগাহ নির্মান করেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের বর্তমান আকৃতি পরিদৃষ্টে এর নীচে আবৃত স্থাপত্য কাঠামো সম্পর্কে কোন সম্যক ধারণা করা যায় না। ঢিবির পূর্ব -দক্ষিন কোণে পূর্ব-পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দু'টি দেয়ালের অস্তিত্ব সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টগোচর হয়। জনশ্রুতি আছে যে, ঘাটটি প্রাচীনকালে বন্দর বা জাহাজ ঘাট হিসেবে অব্যবহৃত হতো এবং সেইসূত্রে এর নাম হয়েছে জাহাজ ঘাট। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব বিভাগের খননের ফলে উক্ত প্রচলিত নামের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় অর্ধবিঘা জায়গাব্যাপী পুরাতন ইটের সমতল স্থানটি জাহাজ হতে যাত্রী এবং মালামাল কাজে ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয়। সমতল প্লাটফর্ম সংলগ্ন পশ্চিম দিকে দু'টি কক্ষের ভভগ্নাবশেষ দেখা যায়। সম্ভবত কামরা বা কক্ষ দু'টি যাত্রীদের বিশ্রমাগার বা টিকিট কাউন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। জাহাজ ঘাটা নামক আর একটি ঢিবি ভৈরব নদীর কূল ঘেঁষে এখনো বিদ্যমান। পারিপার্শ্বিক ভূ-প্রকৃতি,ও নদী তীরে অবস্থান, স্তুপের আকৃতি ইত্যাদি পর্যালোচনা করলে অনুরুপ ধারণার সমর্থন পাওয়া যায়। নদী তীরে গড়ে উঠা প্রাচীন বারোবাজার শহরের এটি বন্দর হওয়া বিচিত্র নয়। তাই বারোবাজার শহরের অন্যান্য পুরাকীর্তি থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অনেক বেশী। জরুরী ভিত্তিতে এটি সংরক্ষন করে স্তুপের নীচে আবৃত স্থাপত্য কাঠামোর আকৃতি-প্রকৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক গরুত্ব নিরুপণের জন্য এই স্থান খনন অত্যাবশ্যক। তজ্জন্য এটি সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।