সন্তানকে বিপথে যাওয়ার জন্য বাবা-মায়ের কি ধরনের ভূমিকা থাকে?
সন্তান বিপথে যাওয়ার কারণ হিসাবে বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি হয়ে ওঠে। এই কথার অর্থ এই নয় যে, মা-বাবাই ছেলেমেয়েদের বিপথগামী করে দেয়। কোনও মা-বাবাই চান না যে, তাদের সন্তান বিপথে যাক। কিন্তু যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে, সন্তান এই পথে যায়, সেই পরিপ্রেক্ষিতটা তৈরি করেন সন্তানের মা-বাবা। বিপথে যাওয়ার অর্থ যদি ওই হয় যে, ছেলেমেয়েরা একেবারেই নিচু পথে চলে গেছে, অসামাজিক কাজ করছে, তখন সেক্ষেত্রে দেখা যায় তিন ধরনের কারণ এর জন্য কাজ করছে। ছোটবেলা থেকেই কেউ হয়তো মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত। কেউ হয়তো অবাহৃিত সন্তান হয়েই জন্মগ্রহণ করেছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের মা-বাবার মধ্যে সম্পর্কটাই হয়তো ঠিক নেই। আর সেই সম্পর্কের জন্য যে পরিবেশ বা পরিস্থিতিটা তৈরি হয়েছে, সেই পরিবেশ বা পরিস্থিতিটাই হয়তো ছেলেমেয়েদের মধ্যে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
আজকের দিনের ছেলেমেয়েদের চাহিদাও তো আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে, এই বিষয়টি মা-বাবা রোধ করবেন কীভাবে?
সবার আগে এটা দেখতে হবে, এই চাহিদাটা তৈরি হচ্ছে কীভাবে? ছোট থেকে এই চাহিদা সাধারণত মা বাবারাই বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কর্মরতা মা অফিস যাওয়ার সময় ছোট ছেলে বা মেয়ে বায়না করলে কিছু না কিছু দামি উপহার এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। এই অভ্যাসই বড় হয়ে আকাশছোঁয়া চাহিদায় পর্যবসিত হয়। আগের দিনে সন্তানরা যেমন তার মা-বাবার কাছে কিছু চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাওয়ার আশা করতেন না বা পেতেনও না। এখনকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। এখন না চাইতেই সন্তানদের হাত ভরে জিনিস দেওয়া হচ্ছে। পেতে পেতে ছেলেমেয়েদের চাহিদাও আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। এ সবেরই কারণ বাবা মায়ের অত্যন্ত স্নেহ। কোনও জিনিস দিতে না পারলে, মা বাবা সন্তানকে তার অক্ষমতা জানানোর পরিবর্তে নিজেরাই হীনমন্যতার শিকার হয়ে পড়েন, এটা কখনও উচিত নয়।
সুষ্ঠ চরিত্র গঠনের শিক্ষা কীভাবে দেওয়া উচিত?
এখনকার ছেলেমেয়েরা মহাপুরুষদের জীবনী পড়তে চায় না বা পড়ার জন্য কেউ সেভাবে ইনসিস্টও করেন না। অবশ্য তারা পাঠ্য বইয়ের পড়াই শেষ করতে ব্যস্ত থাকে। এই ধরনের জীবনীগুলো চরিত্র গঠনে অত্যন্ত কাজ দেয়। যে কোনও ভাল জিনিসকে আদর্শ করে এগোলে চরিত্র গঠন করতে সুবিধা হয়। ছেলেমেয়েরা সবচেয়ে বেশি আদর্শ করতে চায় তাদের অত্যন্ত কাছের জনকে, আর কাছের অর্থেই তার মা-বাবা। মহাপুরুষের জীবনী না পারলেও যদি তাদের ঠিকমতো অনুসরণ করার সময়, তাদের কাছ থেকে চরিত্র গঠনের উপযোগী উপদেশ পায় বা তার যথাযথ উপলব্ধি করতে পারে, তবেই চরিত্র গঠন করার পথ সুগম হবে। ছোট ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে সন্তানকে উচিত অনুচিতের শিক্ষা দিয়ে যোগ্য করে তুলতে হবে। জীবনে লড়াই করার শিক্ষা মা-বাবার কাছেই সন্তান পাবে। মনে রাখতে হবে সস্তান হল মা-বাবার প্রতিচ্ছবি।