<< খেজুর এর উপকারীতা ও গুনাগুন >>
আজ থেকে পবিত্র রমজান শুরু ।আজ থেকে খেজুর খাওয়া শুরু।একমাস আমরা সকলে ইফতারের সময় খেজুর খাব ।আর এই খেজুর মহান আল্লাহ্তায়ালার অজস্র ফলফলাদির মধ্যে অন্যতম সৃষ্টি । আমরা সারা বছরই কেউ না কেউ খেজুর খাই। কিন্তু রমজান এলে এর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ইফতারিতে খেজুর না থাকলে যেন একটা অপূর্ণতা থেকেই যায়। অনেক রোজাদার ইফতারিতে খেজুর মুখে দিয়েই রোজা ভেঙে থাকেন। এটা না হলে তার চলেই না্।
খেজুরে কী আছে তা জেনে নেয়া যাক:- প্রতি খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, সোডিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, ফসফরাস, থায়ামিন, নাইয়াসিন, রিবোফ্ল্যাভিন, বিটা-ক্যারোটিন সহ নানারকম স্বাস্থ্যউপকারি উপাদান। তবে শুকনো খেজুরে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। শুধু পুষ্টিগুণেই সীমাবদ্ধ তা নয়, এতে রয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। খেজুর সম্পর্কে আরো কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য-
ক্যানসার প্রতিরোধঃ- খেজুর পুষ্টিগুণেসমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। একগবেষণায় দেখা যায়, খেজুর পেটেরক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যাঁরানিয়মিত খেজুর খান, তাঁদের বেলায়ক্যানসারের ঝুঁকিটাও অনেক কম থাকে।
দুর্বল হূৎপিন্ডঃ- খেজুর হূৎপিণ্ডেরকার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই যাঁদের
হূৎপিণ্ড দুর্বল, খেজুর হতে পারে তাঁদেরজন্য সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ।
মুটিয়ে যাওয়া রোধেঃ- মাত্র কয়েকটিখেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয়এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণেউদ্বুদ্ধ করে। এই কয়েকটি খেজুরইকিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করারঘাটতি পূরণ করে দেয় ঠিকই।
মায়ের বুকের দুধঃ- খেজুর বুকের দুধখাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ একখাবার। এই খেজুর মায়ের দুধের পুষ্টিগুণআরও বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
হাড় গঠনেঃ- ক্যালসিয়াম হাড় গঠনেসহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুরপরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুতকরে।
অন্ত্রের গোলযোগঃ- অন্ত্রের কৃমিও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধেখেজুর অনেক সহায়ক এবং খেজুরঅন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরিকরে।
দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতেঃ- খেজুরদৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গেরাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুরসহায়ক। তাই চোখের সমস্যায় ভোগারোগীরা সচ্ছন্দে খেতে পারেন খেজুর।
কোষ্ঠকাঠিন্যঃ- খেজুরে আছে এমন সবপুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকরে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
সংক্রমণঃ- যকৃতের সংক্রমণে খেজুরউপকারী। এ ছাড়া গলা ব্যথা, বিভিন্ন
ধরনের জ্বর, সর্দি এবং ঠান্ডায়খেজুর উপকারী।
বিষক্রিয়া রোধেঃ- খেজুরঅ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়ায় বেশউপকারী। ভেজানো খেজুর খেলেবিষক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে।
শিশুদের রোগবালাইঃ- শিশুদের জন্যওখেজুর খুব উপকারী। খেজুর শিশুদেরমাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে এবংকোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়াওপ্রতিরোধ করে।
এককথা খেজুরে মোট খনিজ পদার্থেরপরিমাণ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাঅন্যান্য ফলের চেয়ে অনেক বেশি। তাইশুধু রমজান মাসেই নয়, খেজুর খাওয়াউচিত সারা বছরই। তবে রোজায় সারাদিনের কিছু খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্যদৈনিক ৪০ গ্রাম খেজুর খাওয়াপ্রয়োজন।
সংগৃহীত পোস্ট...