বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে শীতকালে যেমন কুয়াশা জমে ঠিক তেমনি গ্রীষ্মকালে রূপালি আকাশের সুর্যের ঝলমলে রৌদ আমাদের ঘামিয়ে দিয়ে যায়। আমরা কেউই কখনো জীবনে ব্যর্থ হতে চাই না তবুও অনেকেরই এর সম্মুখীন হতে হয়। তাই বলে কি জীবন থেমে থাকে ?? না জীবন ও সময় তার নিজস্ব গতিতে বহমান। আমাদের অনেকেরই অনেক বড় বড় চাওয়া থাকে তা বহুক্ষেত্রেই পাওয়া হয় না। তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না। জীবনে যে আপনি সবসময় সাফল্য পাবেন এটা ভেবে নেওয়া ভুল। সাফল্যতার সাথে সাথে আপনাকে ব্যর্থতারও সম্মুক্ষিন হতে হবে। আমাদের আশেপাশে অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা অনেকেই সফল হয়েছেন আবার অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি যদি তাদের চিন্তা-ভাবনা , অভ্যাস-বদভ্যাস, চাল-চলনের দিক লক্ষ্য দেন তাহলে অনেক তফাৎ দেখতে পাবেন। এই তফাতের কারনেই সফল ব্যক্তিরা সাফল্য আর্জন করতে পেরেছে আর ব্যর্থ ব্যক্তিরা পেয়েছে ব্যর্থতা ।
তাই আজকের আলোচনার বিষয়টি হচ্ছে সফল ও ব্যর্থ ব্যক্তিদের মধ্যকার তফাৎ বের করে উপস্থাপন করা । আমরা প্রায় সকলেই বিভিন্ন ভাবে একে অপরের সমালোচনা করে থাকি। এই ধরুন, একজন ফেসবুকে একটি ভুল স্পেলিং দিয়ে ইংরেজি লিখেছে আমি জানি সেটা ভুল কিন্তু তাকে জানাতে চাচ্ছি না তার কারন হচ্ছে সে হয়তো রেগে যেতে পারে। এভাবেই সে দিনের পর দিন ভুল করেই যাচ্ছে এবং আমরা সেটা চুপচাপ দেখে যাচ্ছি । এই চুপ থাকার মাধ্যমে যে আমরা তার ক্ষতি করছি সেটা একবারও কি আমাদের মনে হচ্ছে ?? নিজেদের ভুল নিজেরা বের করা খুব কঠিন একটি ব্যাপার, তাই যদি আপনার কোন ভুল কেউ বের করে দেয় তাহলে তার উপর রাগান্বিত না হয়ে তাকে ধন্যবাদ জানান । কারন তার মাধ্যমে আপনি আপনাকে আরো ভালোভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন ।
দিন যতো পাড় হচ্ছে আমাদের আয়ু ততো কমে যাচ্ছে। একটি ছোট্ট কচ্ছপের আয়ু কয়েকশ বছর কিন্তু আমরা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও আমাদের এখনকার গড় আয়ু ৫০ থেকে ৬০ বছর মাত্র। তাই এই অল্প আয়ুষ্কালে অন্যের উপর ক্ষোভ রেখে কোন লাভ নিয়ে। ক্ষমাই একমাত্র পারে আপনার আয়ুস্কাল বৃদ্ধি করতে । ক্ষমার মাধ্যমে আপনি মানুষের মনের মধ্যে এমন একটি স্থান দখল করে নিবেন যার মাধ্যমে আপনি তাদের কাছে যুগের পর যুগ একজন আইডল হিসেবে বেচে থাকবেন। লোকজন আপনাকে উদাহরন মেনে অন্যকে ক্ষমা করতে শিখবে । ক্ষমা আপনার অন্তরে এমন শান্তি এনে দিবে যা অন্য কোন ধনসম্পদ আনতে পারবে না।
বর্তমান নিয়ে বাচুন এবং অতিতকে ভুলে যান। আপনি অতিতে কেমন দুঃসময় বা সুসময় কাটিয়েছেন এবং এখন দুঃসময় বা সুসময় কাটাচ্ছেন এসব নিয়ে চিন্তা করা বাদ দিন। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে এক্সাম দিয়ে এসে ঐ সাবজেক্ট এর কথা সম্পুর্ন ভুলে যায় আবার অন্য আরেকধরনের লোক আছে যারা এক্সাম দিয়ে এসে তারাতারি বই খুলে মিলিয়ে নেয় যে সে আনুমানিক কত নাম্বার পেতে পারে। তার এই আনুমানিক চিন্তাভাবনা নিয়ে দিন কাটাতে কাটাতে এতই চিন্তিত হয়ে যায় যে সে তার পরবর্তি সাবজেক্টের দিকে খেয়ালই রাখে না । তাই এক্সাম দিয়ে এসে দুশ্চিন্তা করার কোন দরকার নেই মনে রাখবেন এক্সাম শেষ মানে ঐ সাবজেক্টের উপর থেকে আপনার নিয়ন্ত্রন শেষ ।
আশা করি আজকের টপিক নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করতে পেরেছি। আজকের টপিক নিয়ে আপনার কোন ধরনের মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ ।