পূর্ব প্রকাশের পর:
প্রতারণা এবং জীবনের নতুন কিছু অভিজ্ঞতা.......
এর পরে সেগুলোকে হাতে নিয়ে পেপের বিচির মত ছোট্র ছোট্র বড়ি বানাচ্ছিল এবং মুখ টিপে টিপে হাসছিল ...........................
অনেকগুলি বড়ি বানিয়ে সেগুলিকে বাড়ীর ছাদে রোদে শুকাতে দিল। বড়িগুলো বাহারি রংয়ের হল, কারণ চুলার মাটি কোনটা লাল, কোনটা কালো, কোনটা তেল ঝোল পরে অন্যান্য রং ধারণ করেছে। হারুন ভাই আমাকে বললেন একটা মুখে দিয়ে দেখ। প্রথমে অমত করলেও একটা মুখে দিলাম, দেখলাম মাটিরও স্বাধ আছে, তবে এটার স্বাধ একটু ভিন্ন। একটু ঝাল, একটু নোনা সহ বিভিন্ন স্বাধের। কারণ হল মাটির চুলায় রান্না করলে অনেক সময়ই চুলার উপরে, ডাল, ঝোল, লবন, মরিচ, তেল এগুলো পরেই থাকে, আর এগুলোর কল্যানে মাটির রং এবং স্বাধ দুটোইর পরিবর্তন হয়েছে।
ছাদে শুকাতে দিয়ে আমাকে নিয়ে সে চলল জুরাইন রেলগেইট বাজারে। সেখানে গিয়ে ছোট্র ছোট্র পলি প্যাকেট কিনে আনলেন। রাতে বড়িগুলো প্যাকেটে ভরলেন, প্রতি প্যাকেটে ১৪টি বড়ি। আমি এখনও কিছু বুঝছিলাম না যে, হারুন ভাই আসলে কি করতে যাচ্ছেন বা করতে চাচ্ছেন। প্যাকেট করা শেষে তিনি আমাকে বললেন এগুলো কাল থেকে বিক্রী করবেন। তাকে বললাম ভাই আপনার কি মাথা খারাপ হয়েছে? এগুলো কি ভাবে বিক্রী করবেন, এই মাটি কি মানুষ কিনবে? তিনি হেসে বললেন কেনাতে পারলে সবাই কিনবে। এর পরে তিনি আমাকে কিছু কথা শিখালেন, যা শুনে হাসিও পাচ্ছিল মজাও লাগছিল আবার ভয়ও হচ্ছিল।
পরের দিন কাজের শেষে বিকেলে হারুন ভাই আমাকে নিয়ে ইংলিশ রোডে গিয়ে দাড়ালেন, আমাদের সাথে গত কালের সেই মাটির তৈরী বড়ি। কিছুক্ষণ পরে হারুন ভাই আমাকে একটা বাসে তুলে দিলেন। এর আগে তিনি আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিলেন, যেমন- এক বাসে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না, এক স্টপিজ থেকে উঠলে তার পরে স্টপিজেই নেমে যেতে হবে। যাত্রীদের সাথে তর্ক করা যাবে না সহ অনেক কিছুই। যাই হোক বাসে উঠে শুরু করলাম হারুন ভাইয়ের শেখানে সেই কথা ....
ভদ্র মহোদ্বয় গন, আপনাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা, মুসলিম ভাইদেরকে জানাই সালাম এবং হিন্দু ভাইদের প্রনাম। অন্যান্য ধর্মালম্বি ভাইদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেয়া কিছু খাবেন না, ঘুমাবেন না। নিজ নিজ মাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। সব সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করুন, বিপদে ধৈর্য্য ধরুন।
শ্রদ্ধেয় মহোদ্বয়গণ, আজ আমি আপনাদের নিকট এক মহা মূল্যবান ঔষধ নিয়ে এসেছি। আল্লাহর এই দুনিয়ায় লক্ষ কোটি কাছ গাছরা, লতা-পাতা দিয়ে রেখেছেন প্রানীকূলের উপকারের জন্য। আমরা সেগুলো খুজি না বা আমাদের কাজেও ব্যবহার করিনা। আমার ওস্তাদ লালু ফকির, যিনি ভারত, পাকিস্থান, নেপাল সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাহাড় ও জংলা থেকে বিভিন্ন ধরণের ঔষধি গাছ সংগ্রহ করে নিজেই মনুষ্য জাতীর উপকারের জন্য ঔষধ বানান। আমার ওস্তাদ লালু ফকির না খেয়ে দিনের পর দিন পাহাড়ে ধ্যনমগ্ন থাকেন এবং এই অবস্থায় তিনি কোনো পানাহার করেন না, তাও এই সব গাছ গাছরা লতা-পাতার গুনে। তিনি দীঘ্য সাত বছর পরে বাংলাদেশে এসেছেন এবং আপনাদের সেবায় নতুন একটি ঔষধি গাছ নিয়ে এসেছেন সুদুর থাইল্যান্ডের জঙ্গল থেকে।
এটাকে ঔষধ বললে ভুল হবে এটা হল মহৌষধ, থাইল্যান্ডের সেই মহৌষধি গাছ সহ আমার বাংলার জমিনের শিমুলের মুল, আম,জাম ও তেতুলের বিচি, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, অশ্বগন্ধা, সোনাপাতা, অর্জুনের ছাল সহ ৫০ প্রকার গাছ গাছরা, লতা পাতার মিশ্রনে এই ঔষধ তৈরী হয়েছে।
এটা কি কাজ করে সে কথা বললে সারাদিনে শেষ করা যাবে না, আমি মাত্র কয়েকটি রোগের কথা বলব। বাতের ব্যথা, চাবানি-কামরানি, বাত জ্বর, ঘন ঘন প্রশাব, শরীর দূর্বল, প্রশাবের সময় ভাতের মারের মত সাদা সাদা কিছু বের হওয়া, মা বোনদের সাদা শ্রাব, অনিয়মিত ঋৃতুশ্রাব, পেট ব্যাথা, গ্যাষ্ট্রিকের ব্যাথা, পুরুষের অকাল বৃর্যপাত, স্ত্রীকে টাইম দিতে পারেন না! কোন চিন্তা নেই, একবারের পরে আর স্ত্রীর কাছে যেতে পারেন না! নো চিন্তা, বুক ধরফর করে, অল্প পরিশ্রমেই হাপিয়ে যান, দিন দিন মোটা শুকিয়ে যাচ্ছেন, ইত্যাদি সহ আরও অনেক রোগ নিরাময় করে এই আশ্চর্য মহৌষধ।
দাম জিজ্ঞেস করলে বলব অনেকেরই কেনার সামর্থ নেই। কারণ এই ঔষধ দাম দিয়ে কেনা যায় না, এটা মহামূল্যবান একটি ঔষধ। আমরা এগুলো বিক্রি করি না, আমাদের গুরুর উদ্দেশ্য মানব সেবা করা। তাই তিনি এগুলো সবাইকে ফ্রি দিয়ে থাকেন। আমিও আপনাদের এগুলো ফ্রিই দেব। তবে আমাদের গুরু এগুলো দেশ বিদেশ ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করেন, যদি কেউ চান তবে তাকে এগুলো সংগ্রহের জন্য যার যার খুশি মহ যা ইচ্ছে দিতে পারেন। বলেই সবাইকে ঔষধ দেয়া শুরু করলাম। দেখলাম সবাই বেশ খুশি এবং ২/৫/১০/২০ টাকা সবাই খুশি মনে দিচ্ছে। অনেকেই আবার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করল। বললাম আমাদের কোন ঠিকানা নেই, মানব সেবায় কখন কোথায় থাকি সেটার নিশ্চয়তা নেই। আমাদের কোন বাড়ী ঘর নেই, রাস্তা, জঙ্গল, মাঠ যেখানেই রাত সেখানেই কাত।
বাস পরের স্টপিজে থামতেই তারাতারি নেমে গেলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম হারুন ভাইও অন্য একটা বাস থেকে এসে নামলেন। এভাবে দুজনে একের পর এক বাস পাল্টে পাল্টে চলে গেলাম নারায়নগঞ্জ। ঔষধ সব বিক্রী করা শেষ হয়ে গেছে। অনেক টাকা হয়েছে, আমার ৫০০ টাকার উপরে আর হারুন ভাইরও প্রায় ৪০০ টাকা। আমিই বেশি বিক্রী করতে পেরেছি। দুজনে অনেকক্ষণ হাসলাম। হারুন ভাই আমাকে বলল চল এক যায়গায় যাব। এই টাকা আমরা রাখব না, যেভাবে আসবে সেভাবেই আবার শেষ করব। বলেই আমাকে একটা রিকশা ডাক দিল, রিকশা ওয়ালাকে কোন যায়গার নাম বলল কিছুই বুঝলাম না। কিছুক্ষণ পরে তিনি আমাকে নিয়ে একযায়গায় নামলেন। আমাকে নিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন চিপা গলির ভেতরে দিয়ে চললেন, কিছুদূড় যাওয়ার পরে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। আমি এ কোথায় আসলাম...............
চলবে.....
Halo Dear Friends,
We can do anything for ourselves if we want. We do not have to pay any attention to this. So I have made the following decisions. The ones who complete the following steps will also give him the same reprisal.
👉 Resteem any post from my Blog
👉 Upvote any post from my Blog
I request be honest and kind, once you completed all steps then dont forget to leave your post URL in the comment box i will do sometime instant otherwise confirm in 4-24 hours. respect everyone. Thank You!
Note: Please do not post multiple Post URL in the same blog. 1 person Allow 1 URL then after 24 hours i will new post then you can give me the new one.
Thank you...