মেহেদী এর না বলা ভালবাসার গল্প
গ্রামের ছেলে মেহেদী। মোটামুটি অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের ছেলে। স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার। এস এস সি তে ভালো ফল করে বাবাকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে পাড়ি জমাল ঢাকায়। বাবা প্রথমে রাজি না হলেও ছেলের ভবিষ্যৎ এর কথা ভাবে রাজি হয়ে গেলেন। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে অবশেষে ভর্তি হল নটরডেম কলেজে। থাকার যায়গা ঠিক হল আরামবাগ এর এক মেস এ। সকালে ক্লাস আর দুপুরে ল্যাব এর প্রেসারে সারাদিন ই ব্যাস্ততায় কেটে যায়। দেখত তার অনেক বন্ধুই তাদের বান্ধবীদের সাথে কথা বলে। সারাদিনের মজার ঘটনাগুলো বলে কত সুন্দর করে। ওরা যখন কথা বলে তখন ও তাকিয়ে থাকে আর ভাবে সেও কোন একদিন এইভাবেই তার কথাগুলো বলবে। দেখতে দেখতে ১ম বর্ষ শেষ করে ২য় বর্ষে পা রাখে মেহেদী। ব্যাস্ততায় কেটে যাচ্ছিল সময়গুলো। একদিন স্যার এর কোচিং শেষ করে সবে মাত্র বের হয়েছে মেহেদী। এমন সময় পিছন থেকে ডেকে বলল
***মেয়ে.হ্যাল ভাইয়া!!!
**ছেলে.অামাকে বলছেন....???
* মেয়ে.হ্যা! আপনেকে বলছি! আমি তো তোমাদের সাথে পড়ি!আমাকে তুমি করে বলবা।
**ছেলে.ঠিক আছে...!!
***মেয়ে.কাল আমি ক্লাসে অাসতে পারিনি কালকে কি আলোচনা হইয়েছে।
**ছেলে.তুমি আমার নোট খাতাটা নিয়ে যাও।পড়ে পরে দিয়ে দিও।
মেয়ে.ঠিক আছে।আমরা আজকে থেকে ফ্রেন্ড। তোমার নাম কি.???
ছেলে.মেহেদী।তোমার নাম কি.?
মেয়ে.জুই।আজকে আসি কাল কথা হবে।কাল নোটটা নিও মনে করে।
রাতে তার বন্ধুকে সবকথা বল্ল।তার বন্ধুর নাম হাবিব। সে একথা শুনে বেশ উচ্ছ্বছিত দেখা যাই।হাবিব বেশ অগ্রহি হয়ে যানতে চাইলো মেয়েটি দেখতে কেমন?
হাবিব:অবশেষে তুইও.?
মেহেদী:আর না না কি বলিছিস.!ও তো আমার বন্ধু সবে
হাবিব:মেয়েটি দেখতে কেম.?কিসে পড়ে.?কোথাই থাকে।
মেহেদী:এগুলা কাছু শুনি নাই।
হাবিব:তুই তো বলদ।তোকে দিয়ে কিছু হবে না।তোর কাছে সাহায্য চাইলো তুই পরিচয় যানবি না।
অবশ্য হাবিব এভাবেই কথা বলে থাকে।
আজ কেন জানি জুই কে নিয়ে খুব ভাবতে ইচ্ছে করছে মেহেদীর। যাকে এতদিন কল্পনায় দেখত তাকে যেন আজ সে স্বচক্ষে দেখে এসেছে।পরেরদিন প্রতিযগীতাতে তার তোন মন নেই।মন যেন ডানা মেলা শুরু করে দিয়েছে। হয়ত কথা বলাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু যে কোনদিন আগে বলেনি তার জন্য একটু চিন্তা করা আর এমন কি?
পরের দিন ঠিক আবার দেখা হল!এভাবে তাদের বেশ ভাল বন্ধুত্ব হল।জুই এর বেশি বন্ধু নাই, একা একাই থাকে বেশিভাগ সময়। এজন্য বেশিভাগ সময় মেহেদীর সাথে সময় কাটান।