দীর্ঘ আট বছর ধরে দেশবাসী শুধু ঘোষণাই শুনল। কোনো ঘোষণারই যে রূপায়ণ হলো না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল স্কুল-কলেজের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। নড়বড়ে-ভাঙাচোরা বাস, লাইসেন্সবিহীন চালক, নিয়ম না মানার প্রতিযোগিতা—সবই দৃশ্যমান। মন্ত্রী, পুলিশ বা সরকারি গাড়ির চালকও যে ‘ফিটনেসবিহীন’ সেটা কিন্তু শিক্ষার্থীদেরই আবিষ্কার।
ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন সাত বছর। এই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব নজরুল ইসলাম পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন প্রায় তিন বছর। বিআরটিএর বর্তমান চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান সংস্থাটির পরিচালক ছিলেন ছয় বছর। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সংস্থাটির চেয়ারম্যান। বিআরটিএর ঢাকা ও এর আশপাশের পরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মিরপুর কার্যালয়ের। এই কার্যালয়ের মূল দায়িত্বে যে কর্মকর্তা, তিনিও সেখানে নানা দায়িত্বে আছেন প্রায় সাত বছর ধরে। মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে অলংকৃত করছেন এই কয়েকজন ব্যক্তি।
মন্ত্রী মাঝেমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে গেছেন। সড়কে দৌড়ঝাঁপ করেন। কখনো নিজেই যাত্রী সেজে বাসে উঠে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে কি না পরীক্ষা করেন। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা আনার বিষয়ে মৌলিক কোনো উদ্যোগ বা কর্মকাণ্ড নেই।