আদিবাসী নৃত্য, আগুন নিয়ে খেলা, গান ইত্যাদি দেখে সময় কাটছিল। সেই সাথে আদিবাসী ছোট ছেলে মেয়েদের খুনসুটি। আদিবাসী বিভিন্ন ঐতিহ্যকে নাটক আকারে রূপদান। সেইসাথে বিভিন্ন অতীত চরিত্র।বয়স্ক আদিবাসীরা মাচায় বসে হুক্কা খাচ্ছে। জোয়ানরা বাজাচ্ছে তবলা, মাদল, বাঁশি আরো কিছু অদ্ভুত বাদ্যযন্ত্র। আর তার ছন্দে নাচছে মেয়েরা।ওদের মধ্যে কয়েকজন এসে আমাকে আর হিয়াকে জোরপূর্বক নিয়ে গেলো। সাজাল ওদের সাজে। ভালোই হয়েছে ভেজা কাপড় থেকে অন্তত মুক্তি তো পাওয়া গেলো। তারপর শেখানো হলো নাচ। বাকিটা ইতিহাস না পাতিহাঁস সৃষ্টিকর্তা জানে। রাত ভারি হয়ে আসলো। দেওয়া হল রাতের খাবার। ও বৃষ্টি থেমেছে অনেক আগেই। আকাশ পরিষ্কার। চাঁদ দেখা যাচ্ছে তবে ঝাপসা।এদিকে হিয়াও আদিবাসী মেয়েদের সাথে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। গল্পগুজব করে এখন ঘুমাবার পালা। এক বিশেষ ধরনের মাচায় থাকে ওরা। আমাকেও দেওয়া হলো তার একটা।তারপর নিজেকে বাকি সবার মতো প্রকৃতির কাছে বিলিয়ে দিলাম।
খুব ভোরেই ঘুম ভাঙলো পাখপাখালির কলকাকলি আর বয়স্কদের হুক্কা যন্ত্রের শব্দে।দেখি সবাই কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিয়াও আমার আগে ঘুম থেকে উঠেছে। এতো ভোরে উঠেছি তাও যেন মনে হচ্ছে আমিই সবার পরে ঘুম থেকে উঠেছি। ছোট বাচ্চারা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে সেই সাথে বড়রাও। নিজেকে তখন আরো অদ্ভুত লাগছিল। কি আর করার তাদের দিকে মিথ্যা হাসি হেসে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।দেওয়া হল গুড় মুড়ি। অভুক্ত প্রাণীর মতো তা সাদরে গ্রহণ করলাম।খাওয়া শেষ, এবার পালা আদিবাসীদের খামারে যাওয়া। সবাই দল বেঁধে গন্তব্যের দিকে।গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি হলেও এখন নারী পুরুষ একসাথে কাজ করে। পুরুষরা আগের মতো গৃহে থাকেনা।মেয়েদের কাঁধে বাঁশের তৈরি টুকরি, পাশাপাশি কারো কারো কোলে আছে শিশু বাচ্চা। ছেলেদের হাতে ও কাঁধে খুন্তি, দাঁ, লাঙল-জোয়াল, কোদাল আর হুক্কা। মেয়েরা কাজ করে চাবাগান অথবা নিজস্ব পানেরবরজে ।ছেলেরা কেউ কাজ করে ফলের বাগানে,কেউ করে ব্যবসা, কউ বাঁশ শিল্পের সাথে যুক্ত মানে কুটির শিল্প অথবা মেয়েদের সাথে পানেরবরজে। ছোট ছেলে মেয়েরা এখন স্কুলে যায়। যদিও স্কুল অনেক দূরে তাও পাহাড় মাড়িয়ে ওরা স্কুলে যায়। আর বয়স্করা গৃহে থেকে হুক্কা খায়ে সময় কাটায়। হয়া আর আমি পানেরবরজ দেখতে যাই। যেন এক অন্য জগত। সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে যাই চা বাগানে দেখি চা তোলার দৃশ্য।আমরাও তুলতে চেষ্টা করেছি তবে কাজে ততটা নিপুণ নই। তাই বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিলোনা। অগত্যা যেই লাউ সেই কদু।