ফুটপাতে বসে ভাঙা বোতল নিয়ে খেলা করা বাচ্চাটি পাশে ভাঙা থাল নিয়ে বসা মায়ের আচল ধরে অন্য একটি বাচ্চার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল-
-মা..এমন একটা জামা আমারে আইনা দিবা?
অসহায় মা মায়াবী চোখ দুটো ছোট করে নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে বললেন-
-দিমু নে বাবা।
মুখে এক টুকরো খাবার নেই অথচ শুকনো মুখেই সন্তান কে নতুন জামা এনে দেওয়ার অাশা দিচ্ছেন।বাহিরে প্রচন্ড রোদ।রোদের দাবদাহে রাস্তার ফুটপাত আগুনের ন্যায় গরম হয়ে আছে।সেই তাপের মাধ্যেই পা বিছিয়ে,ছাতা মাথায় চলে যাওয়া লোকগুলোর দিকে ভাঙা থালা উচিয়ে মা সাহায্য চাইছেন।
আহা..সে কি দৃশ্য!সে কি কঠিন যন্ত্রণা,সে কি খাবারের হাহাকার। কেউ তাকাচ্ছে না এই অসহায়ের দিকে।ম্যাম, সাহেবগন হেটে চলে যাচ্ছেন।যার যার ইচ্ছে হচ্ছে সে দুই এক টাকা ভাঙা থালাটিতে ফেলে দিচ্ছে।দুই এক টাকা জমতে জমতে হয়েছে বারো-তেরো টাকার মতো।এই কটা টাকায় এক বেলা খাওয়া কি একজনের পক্ষেও পেট ভরে খাওয়া কল্পনার বাহিরে।
এই হচ্ছে আমাদের আশেপাশে জনবসতি, ফুটপাতে জীবন কাটানো মানুষদের সাধারণ একটি উদাহরণ।
এইবার আসি আমাদের কথায়।
যখন দিনের শুরুটাই খারাপ যেতে থাকে তখন মনে হয় আমার মতো দু:খি মানুষ এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।
ভাই,তিন বেলা পেট পুরে খেয়ে, ইলেক্ট্রিক ফ্যানের হাওয়া খেয়েও যদি বলি ভালো নেই তাহলে তাদের বেলায় কি হবে!চার দেওয়ালের মাঝে থেকেও বলি ভালো নেই,তাহলে ফুটপাতে কুকুরের সাথে শুয়ে ঘুমানো মানুষগুলো কি বলবে?
মার্কেটে দামী ব্রান্ডের জিনিস কিনেও বলি ভালো নেই,যারা ডাস্টবিনের ময়লা থেকে পোশাক খুঁজে গায়ে জড়ায় তারা কি বলবে?
বিষয়টা এখন হাস্যকর দেখাচ্ছে।তাই না..
দিন শুরু করার আগে পথের ক্ষুধার্ত, অসহায় মানুষগুলোর কথা একবার ভেবে নিবেন।তখন হয়তো কিছুটা উপলব্ধি করা সম্ভব হবে যে আপনি ভালো নেই কোন দিক দিয়ে!
শুকরিয়া করুন আল্লাহ কে যিনি আমাদেরকে এতো সুন্দর একটি দিন উপহার দিয়েছে।চলুন,সেই সুন্দর দিনের সৌন্দর্যটাকে আরও বৃদ্ধি করি অসহায়দের মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে।